বিশ্বব্যাপী বাড়ছে যৌনবাহিত রোগ: ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিশ্বব্যাপী বাড়ছে যৌনবাহিত রোগ। দিনে এক মিলিয়নের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন ক্ল্যামিডিয়া, গনোরিয়া, সিফিলিস এবং ট্রাইকোমোনিয়াসিস প্রভৃতি যৌন সংক্রামক রোগে। যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মাঝে।
গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে।
প্রতিবেদন বলছে, এসব যৌনবাহিত রোগের মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে সিফিলিস। ২০২০ সালে যেখানে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন, দুই বছরের ব্যবধানে ২০২২ সালে সেটি দাঁড়ায় ৮ মিলিয়নে।
জন্মগত সিফিলিসে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রসবকালে ইনফেকশনের মাধ্যমে মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে সিফিলিস ছড়িয়ে পড়ে। ২০২০ এবং ২০২২ সালের তুলনা করে প্রতিবেদন বলছে, বছরে ১ লক্ষ শিশুর মধ্যে ৪২৫ থেকে সিফিলিস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২৩-এ।
এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের একটি রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটিতে ২০২১ সাল থেকে ২০২২ সালে সিফিলিসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৭ হাজার ২৫৫তে। যা ১৯৫০ সালের পর সর্বোচ্চ।
এ ছাড়া ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদন বলছে, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট গনোরিয়াও বেড়েছে। এ রোগের চিকিৎসায় শেষ ধাপ হিসাবে ধরা হয় সেফট্রিয়াক্সোন অ্যান্টিবায়োটিককে। কিন্তু ২০২৩ সালেই ৯টি দেশ রিপোর্ট করেছে যে, সেফট্রিয়াক্সোন রেজিস্ট্যান্ট ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০ শতাংশ।
এসব রোগ বৃদ্ধির পিছনে স্ক্রিনিং এবং যত্ন নেওয়ার অভাবের পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করেছে ডব্লিউএইচও। এর মধ্যে করোনা মহামারী অন্যতম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলছেন, ‘সিফিলিসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তবে সৌভাগ্যবশত, ডায়াগনসিস, চিকিৎসা এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্যসেবাসহ বেশ কিছু দিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের হুমকি হিসাবে এসব মহামারী ধ্বংস করার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমাদের হাতে রয়েছে। তবে আমরা চাই, একটি ক্রমবর্ধমান জটিল বিশ্বের প্রেক্ষিতে দেশগুলো নিজেরা নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করুক।’
এ ছাড়া সবকিছুই উচ্চহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে—এমনটিও নয়। প্রতিবেদন বলছে, ২০২২ সালে বৈশ্বিক এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩ মিলিয়নে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশেষ করে সমকামী পুরুষ, ড্রাগ ইনজেকশন নেওয়া মানুষ, যৌনকর্মী, ট্রান্সজেন্ডার এবং কারাগারসহ বদ্ধ পরিবেশে যারা আছে তারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।
যৌনবাহিত রোগের হার কমানোর জন্য সংক্রমণে আক্রান্তদের নিরাময় করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার উপর গুরুত্ব আরোপ করে রূপরেখা দিয়েছে ডব্লিউিএইচও।
এনএআর/
-
২৬ জুন, ২০২৬
প্যারিসে জলবায়ু সংক্রান্ত কৌশলগত সভা
জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলছে বাংলাদেশ
-
১৩ মে, ২০২৬
-
১২ মে, ২০২৬
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে
সরকারি হাসপাতালে ১৭ আগস্টের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিতের নির্দেশ