‘মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভুগছেন ৫০ লাখ মানুষ’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশের ৫০ লাখ লোক কোনো না কোনো মেরুদণ্ডের সমস্যা ভুগছেন। আর গুরুতর মেরুদণ্ডের রোগে ভুগছেন ৫ লাখ মানুষ। মেরুদণ্ডের সমস্যায় আক্রান্তদের দুর্বিসহ জীবনের কষ্ট দূরীকরণে এ সংক্রান্ত সেবার পরিধি বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের পুনর্বাসনের ব্যাপারেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে।
বিশ্ব স্পাইন দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত শোভাযাত্রা ও বৈজ্ঞানিক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘মুভ ইউর স্পাইন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সচেতনতামূলক এ আয়োজনে ছিল নিউরোস্পাইন সোসাইটি অব বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াও, না হয় জাতিকে সুস্থ রাখা যাবে না। বাংলাদেশের ৫০ লাখ লোক কোনো না কোনো মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভুগছেন। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় বিশ হাজার স্পাইনজনিত সমস্যার অপারেশন করতে হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর এক হাজার স্পাইনের অপারেশন হয়ে থাকে।
বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী, চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের কোন রোগী যাতে বিদেশে না যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।’
বিএসএমএমইউর নিউরোসার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপকা ডা. আখলাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের ডিন, বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জন্সের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘মেরুদণ্ডকে সুস্থতায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। মেরুদণ্ড আমাদের অমূল্য সম্পদ, এর যত্ন নিন। মেরুদণ্ড আছে বলেই সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারি, মেরুদণ্ড আছে বলেই আমরা হাঁটতে পারি। বাংলাদেশের ৫ লাখ মানুষ গুরুতর মেরুদণ্ডের রোগে ভুগছেন।’
দুর্ঘটনাসহ নানাভাবে মানুষ মেরুদণ্ডের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীতে ৭.৫ ভাগ মানুষ মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভোগেন। বাংলাদেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ঘাড়, পিটের কোনো না কোনো সমস্যায় ভোগেন। প্রায় ৫ লাখ মানুষ শারীরিকভাবে চলাচলে অক্ষম হয়ে যান।
‘যে মানুষটি কোমড় বা মেরুদণ্ডের ব্যথায় হাঁটতে পারেন না, তার দুর্বিসহ জীবনের কষ্ট দূরিকরণে আমাদেরকে এ সংক্রান্ত সেবার পরিধি বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যাপারেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে’, যোগ করেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন।
এ সময় নিউরোসার্জারিকে সমৃদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও আন্তরিক হওয়ার কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে স্পাইন রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিশ্চিতে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্পাইনের সুরক্ষায় নিয়মিত হাঁটাচলাসহ ব্যায়ামের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
এ সময় মেরুদণ্ডের রোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে স্পাইন সার্জনের পদ সৃষ্টির আহ্বান জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জন্সের সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মেরুদণ্ড সুস্থতা বিষয়ক মৌলিক জ্ঞান সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই হলো আজকের দিনের প্রতিপাদ্য। বলা হয়েছে, নড়াচড়া করতে হবে, এতে মেরুদণ্ড ভালো থাকে। শৈশব থেকে মানুষ ছোটাছুটি করে, ফলে তার মেরুদণ্ড ভালো থাকে। কিন্তু এক পর্যায়ে অলস জীবনে অভ্যস্ত হওয়ায় মেরুদণ্ডের সমস্যা দেখা দেয়।
নিউরোস্পাইন সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সারাদেশে দুই শতাধিক স্পাইন সার্জন চিকিৎসা দিচ্ছেন। এ সেবার গতি ও পরিধি বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক, টেকনোলোজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবতোষ পাল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, নিউরো সার্জারি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবুল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক হোসেন, নিউরোস্পাইন সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মো. কামাল উদ্দিন, নিউরোস্পাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নিউরো সার্জারি বিভাগের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও নার্সরা।
এমইউ/