‘ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩ গুণ ও আক্রান্ত বেড়েছে ১০ গুণ’
মেডিভয়েস ডেস্ক: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (এনআইপিএসএম)-এর কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম ছারোয়ার বলেছেন, ‘২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ডেঙ্গু পজিটিভ কেস ১০ গুণ এবং মৃত্যু তিন গুণ বেড়েছে।’
সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ড. আর. এ গনি ও মিসেস হোসনে আরা গণি ট্রাস্ট ফান্ড এবং এশিয়াটিক সোসাইটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. একেএম আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া।
মূল প্রবন্ধে ডা. ছারোয়ার ব্যাখ্যা করে বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের পরিবেশগত কারণগুলো যেমন-তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাত বাড়ছে, এগুলো এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, ‘এখানে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড, যেমন-বহুতল ভবন নির্মাণ, জলপথ রুদ্ধ করা, পুরনো গাড়ি ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে শহরগুলোকে মশার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সুতরাং আমরা সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ আজ অসহায় হয়ে পড়েছি। যেহেতু আমরা প্রজনন এলাকা এবং মশার প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করছি, কিন্তু সেভাবে আমরা কখনই এর প্রতিরোধ সম্পর্কে একইভাবে চিন্তা করছি না।’
ডা. ছারোয়ার বলেন, ‘আমাদের অজান্তে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং এডিস মশার আকারগত, জৈবিক ও আচরণগত পরিবর্তন হওয়ার ফলে এই মশার প্রজনন বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে, সারা দেশে অপ্রত্যাশিতভাবে ডেঙ্গু আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাই প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশব্যাপী জরিপের মাধ্যমে এডিস মশার ঘনত্ব এবং ডেঙ্গুর তীব্রতা পরীক্ষা করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।’
এই কীটতত্ত্ববিদ তার উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, একটি সাধারণ একক পদ্ধতির পরিবর্তে একটি সমন্বিত ভেক্টর ব্যবস্থাপনা বা আইভিএম পদ্ধতির প্রয়োজন। একইভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিবেশী দেশগুলো যেভাবে সফল হয়েছে আমাদের সেই ধারণা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং সমরয়াপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যতে হবে। বাসস