ছেলে-মেয়ে বৈষম্য নেই বললেই চলে: স্বাস্থ্যসচিব
মেডিভয়েস ডেস্ক: বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছেলে-মেয়ে বৈষম্য অনেকটা কমিয়ে ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে লিঙ্গ বৈষম্য নেই বললেই চলে, বরং অনেকে ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিসেমিনেশন অব ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর প্রিভেনশন অব সন প্রিফারেন্স অ্যান্ড দ্য রিস্ক অব জেন্ডার-বেইসড সেক্স সিলেকশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মেয়েদের এই অগ্রাধিকার পাওয়ার বার্তাটা সবাইকে তো পেতে হবে। কন্যা সন্তানের জন্ম হলে এটা পরিবারের জন্য আশীর্বাদ। কন্যা সন্তানটিকে যদি শিক্ষিত করা যায়, তাহলে সে কোনো অংশেই ছেলের চেয়ে কম প্রাধান্য পাচ্ছে না, বরং বেশি পাচ্ছে। এ বার্তাটি সবাইকে জানানো দরকার। তাহলে এ ধরনের বৈষম্য তৈরি হবে না এবং গর্ভের সন্তান নষ্ট করার যে প্রবণতা সেটাও কমে যাবে।
স্বাস্থ্যসচিব বলেন, বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই, সন্তান উৎপাদনের সময় তার লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে বিবেচনা করা হয় সন্তান জন্মদান করা হবে কি না। সব থেকে নির্মম বিষয় হচ্ছে, সন্তানটি পরিবারের সদস্যদের কাছে পছন্দের না হলে তার মা নির্যাতনের শিকার হয়। এটা বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে হয়, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়। সন্তানের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে আমাদের সমাজে ভুল ধারণা রয়েছে।
তিনি বলেন, একটা সময় মনে করা হতো, সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে এতে মায়ের ভূমিকায় বেশি। সন্তান জন্মদানে অবশ্যই মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি, কিন্তু সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে মায়ের কোনো ভূমিকা নেই। সমাজে সন্তানের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে ভুল ধারণা রয়েছে। গর্ভের সন্তান মেয়ে হলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সন্তানের নানী-দাদী। বিশেষ করে দাদী এবং ননদরা বেশি ক্ষিপ্ত হন, অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের বাবা, দাদা। এ বিষয় পাঠ্যপুস্তকে কিছু উঠে এসেছে, কিন্তু পাঠ্যপুস্তকের বাইরের যে শ্রেণি রয়েছে, তাদের এ বিষয়ে কম জানানো বা সচেতন করা হয়েছে। তাদের জানানোর বিষয়ে মিডিয়ার একটি ভূমিকা রয়েছে, আমাদের সমাজে যারা নেতৃত্ব স্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. রাশেদা সুলতানাসহ অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।