স্বাস্থ্য কমপপ্লেক্সে ‘গ্রাম ডাক্তারদের’ প্রশিক্ষণ, যা বললেন সিভিল সার্জন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘গ্রাম ডাক্তারদের’ প্রশিক্ষণ বিষয়ে কোর্স পরিচালনা নিয়ে চিকিৎসক মহলে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপগুলোতে চিকিৎসকরা বলছেন, যাদের কোনো স্বীকৃতি নেই, তাদেরকে নিয়ে সরকারি হাসপাতালে প্রশিক্ষণের আয়োজন কতটা যৌক্তিক?
সিরাজগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. শারমিন আলমের সমালোচনা করে তারা বলেন, একজন ইউএইচএফপিও কিভাবে পল্লী চিকিৎসকদের ব্যানারে নিজ কার্যালয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করতে পারেন? কিভাবে তাদের ডাক্তার হিসেবে সম্ভোধন করতে পারেন?
তারা বলেন, ‘প্রশিক্ষণ বিষয়ক পোস্টারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ও অন্য মেডিকেল অফিসারদের নাম গ্রাম ডাক্তারদের নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আবার প্রধান অতিথি সিভিল সার্জন। এটা ভাবা যায়?’
ওই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধক ও প্রধান হিসেবে নাম থাকায় সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. রাম পদ রায়ের সমালোচনাও করেন চিকিৎসকরা।
জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. রাম পদ রায় আজ শনিবার (৪ জুন) বিকেলে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের না দেখিয়েই তারা ব্যানারটি প্রিন্ট করে দেয়। পরে আমরা সংশোধন করে দিয়েছি। সেখানে তাদের নামের আগে ডাক্তার উল্লেখ নেই। ওই ব্যানারের আমাদের আরএমওদের নাম সম্মানজনক স্থানেই দেওয়া আছে। আমাদের সঙ্গে কোনোরূপ আলোচনা ছাড়াই কেন এই ধরনের পোস্টার ছাপা হয়েছে, তা জানতে পরবর্তীতে ডাকা হলে গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির মো. মুন্সী আব্দুস সালাম ভুল স্বীকার করেছেন।’
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় রিফ্রেশার্স কোর্স!
তাদেরকে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে সম্বোধন করা কিংবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ধরনের কোর্স পরিচালনার বৈধতা আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গ্রাম ডাক্তার রিফ্রেশার্স কোর্স নামে কোর্স পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা আছে। অধিদপ্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার পরিচালক ডা. তাহমিনা সুলতানা ম্যাডাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ছয়-সাত মাস আগে চিঠিটি এসেছিল। এ পর্যন্ত আমি তাদের আটকে রেখেছি। আমাকে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা কেন বাস্তবায়ন করছেন না? আদেশগুলো বাস্তবায়নের জন্যই তো আপনাকে রাখা হয়েছে। অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করার জন্য তো আপনাকে রাখা হয়নি।’