১৪ মে, ২০২২ ০৯:৫৪ এএম

স্বাস্থ্যের সংস্কার প্রতিবেদনের সুপারিশ আনুষ্ঠানিক রূপ পায়নি: বিএমএ

স্বাস্থ্যের সংস্কার প্রতিবেদনের সুপারিশ আনুষ্ঠানিক রূপ পায়নি: বিএমএ
ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এগুলো আমরা এখনো পাইনি। আমাদের সঙ্গে কেউ কথাও বলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে পেলে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক চিন্তার আলোকে আমরা জবাব দেবো।’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার বিষয়ক প্রতিবেদনে করা সুপারিশ আনুষ্ঠানিক কোনো রূপ পায়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। বৃহস্পতিবার (১২ মে) রাতে মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। 

এ বিষয়ে চিকিৎসকদের এ জাতীয় সংগঠনকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছুই জানানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পাইনি। আমাদের সঙ্গে কেউ কথাও বলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে পেলে ব্যক্তিগত চিন্তা, সামষ্টিক চিন্তার আলোকে সবাই বসে আমরা জবাব দেবো। আমরা বিক্ষিপ্তভাবে যা শুনছি, তাতে একেক জন একেক মত দিচ্ছেন। এগুলো তো কোনো মূল্য বহন করে না। এ ধরনের অনেক সুপারিশ অনেক সময় অনেক জায়গা থেকে এসেছে, সেই সুপারিশের বাস্তব পরিপ্রেক্ষিত দেখতে হবে। এর লাভ-ক্ষতি আমাদের বিবেচনা করতে হবে, দেশের লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করতে হবে। সব মিলিয়ে আমাদের একটি মতামত তুলে ধরবো। আমরা মন্ত্রণালয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছি। এগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো রূপ লাভ করেনি।’

বিএমএ মহাসচিব বলেন, ‘আজ-কাল তো ফেসবুকও একটা সোর্স হয়ে গেছে। তাতে কিছু অতিরঞ্জন থাকে; পরিবর্তন, পরিবর্ধনও থাকে। সামনে জাতীয় নির্বাচন, মাত্র দেড় বছর সময় বাকি আছে। এই পরিস্থিতিতে এসব মাধ্যমে চাওর হওয়া কোনো খবর দেখে মন্তব্য করা সমীচীন না। কারণ কে কোন উদ্দেশ্যে কোথায় কী লিখছে, কি বলছে, তা বোঝা বড়ই কঠিন।’

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারবিষয়ক’ মতবিনিময় সভায় বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, চিকিৎসক হবেন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী। তারা কোনোভাবেই রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নিতে পারবেন না। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের মোট রোগীর সংখ্যার ওপর চিকিৎসকের মাসিক আয়ও সম্পর্কযুক্ত হবে না। একই সঙ্গে চিকিৎসকের সব আয় প্রদর্শিত হতে হবে ব্যক্তির ‘ট্যাক্স ফাইলে’।

পরে গত ১ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রতিবেদনে উল্লিখিত এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের উপসচিব ড. বিলকিস বেগম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার বিষয়ক প্রতিবেদনে বর্ণিত নিম্নোক্ত সুপারিশসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে অবহিতকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

এতে আরও বলা হয়, দেশীয় বাস্তবতায় যেহেতু বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যাকে সেবা প্রদান এবং চিকিৎসকগণের ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি কল্পে ‘প্রাইভেট প্র্যাক্টিস’র প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সেহেতু চিকিৎসকগণকে ‘প্রাইভেট প্র্যাক্টিস’ করতে হলে কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠান/হাসপাতাল/ক্লিনিকের সাথে মাসিক নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিজীবী হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হবার শর্ত প্রদান করা যেতে পারে।

এককভাবে বা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একটি কোম্পানি/হাসপাতাল/ক্লিনিক হিসেবে সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করতে পারবে এবং সেখানে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্যাশ রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহ করা হবে এবং সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি কর প্রদান করবে।

সুপারিশে বলা হয়েছে, কোনোভাবেই চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী কোনো চিকিৎসক সরাসরি সেবা গ্রহিতার নিকট হতে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন না এবং হাসপাতাল বা ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠানের মোট রোগীর সংখ্যার ওপর চিকিৎসকের মাসিক আয় সম্পর্কযুক্ত হবে না। চিকিৎসক হবেন পূর্বনির্ধারিত বেতনভুক্ত কর্মচারী; কোনোভাবেই চিকিৎসা সেবায় একই প্রতিষ্ঠানে নিজে ব্যবসায়ী এবং চিকিৎসক হতে পারবেন না। চিকিৎসকের সব আয় ব্যক্তির ‘ট্যাক্স ফাইলে’ প্রদর্শিত হতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি চিকিৎসকদের ‘প্রাইভেট প্র্যাক্টিসের’ ব্যবস্থা একই হাসপাতাল/প্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে, ভারতে সরকারি চিকিৎসকগণ ‘প্রাইভেট প্র্যাক্টিস’ করতে পারেন না। সে জন্য তারা সরকার নির্ধারিত হারে (১৫ থেকে ২০ শতাংশ) ভাতা পেয়ে থাকেন। 

চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত সবাই সবসময় সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও বিশেষ অবস্থার উদাহরণ ব্যতিত নির্ধারিত পেশায় ব্যয়িত সাধারণ সময় দৈনিক ১২ ঘণ্টার বেশি হওয়া উচিত নয় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

সুপারিশে বলা হয়, মেডিকেল পেশায় নিয়োজিত পেশাজীবীগণের নৈতিকতা রক্ষার্থে, দেশে সমমান সম্মত ওষুধ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বার্থে, অবিলম্বে ওষুধ শিল্প ও মেডিকেল ইকুইপমেন্ট সরবরাহকারীগণের সুস্পষ্ট বিপণন পদ্ধতি প্রণয়নের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরাসরি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রচারের ব্যবস্থা বন্ধ করা প্রয়োজন এবং কোম্পানিগুলোকে বার্ষিক উৎপাদন, বিপণন এবং অন্যান্য ব্যয়সমূহ জনসম্মুখে প্রকাশে বাধ্য করার বিধান রাখা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের আইন রয়েছে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত