কৃত্রিম হার্টে ১০-১৫ বছর ভালো থাকা সম্ভব: ডা. জাহাঙ্গীর
মেডিভয়েস রিপোর্ট: কৃত্রিম হার্ট প্রতিস্থাপনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশে প্রথমবারের মতো মানুষের দেহে কৃত্রিম হার্ট প্রতিস্থাপন করে সাড়া ফেলে দেওয়া প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে কৃত্রিম হার্ট প্রতিস্থাপন নিয়ে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশের মাটিতে এক দিন হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট হবে। ... তো, আজকে ওই স্বপ্নটা আংশিক কিংবা তার চেয়ে খানিকটা বেশি হলেও পূরণ হয়েছে। মানুষের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হার্ট ফেইলিওর। ৪২ বছর বয়স্ক রোগীর দেহে কৃত্রিম হার্ট প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।’
এর পেছনে দীর্ঘ দিনের শ্রম ও সাধনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই সাফল্যের পেছনে আমাদের অনেক দিনের প্রচেষ্টা ছিল, লেখা-পড়া ছিল, প্রাকটিস ছিল। সেই সঙ্গে একটি সদিচ্ছাও ছিল। এজন্য বিগত ১৪/১৫ বছর ধরে আমরা চেষ্টা করেছি। আমাদের এমন হয়েছে যে, হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিন্তু নির্ধারিত দিন দুর্ভাগ্যবশত রোগীটি মারা গেছেন। ফলে প্রচেষ্টা দীর্ঘায়িত হয়েছে।’
সাফল্যের নেপথ্য নায়কদের কথা উল্লেখ করে ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘এর পেছনে যাদের সবচেয়ে বড় অবদান, তারা হলেন রোগী, তাঁর স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। তারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। এমনিতে আস্থা না পেলে কেউ কাউকে হার্ট দেন না। আমরা আস্থা তৈরি করতে পেরেছি এবং তাঁরাও এগিয়ে এসেছেন। এই রোগী অনেক চিকিৎসা নিয়েছেন। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, এমনকি তুর্কিতেও চিকিৎসা করেছেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরেও তাঁর হার্টের অবস্থা ভালো হয়নি। তখন আমরা তাঁকে হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তাব দিই। এতে রোগী ও তার পরিবার সম্মতি দেন। গতকাল বুধবার (২ মার্চ) পৃথিবীর সর্বাধুনিক কৃত্রিম হৃদপিণ্ড তাঁর দেহে প্রতিস্থাপন করি।’
এর আগে বুধবার (২ মার্চ) রাতে দেশে প্রথমবারের মতো মানুষের দেহে কৃত্রিম হার্ট প্রতিস্থাপনের কথা জানায় ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিস্থাপনের কথা জানাতে ৩ মার্চ হাসপাতালে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে অংশ নিতে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস রিলিজে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, ৪২ বছর বয়সী হার্ট ফেইলিওর নারীর দেহে সফলভাবে ম্যাকানিক্যাল হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট করেছেন প্রখ্যাত হার্ট সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির।
এর ফলে দেশে বহুবিধ জটিল রোগে আক্রান্তরা মাত্র ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে এই পদ্ধতির মাধ্যমে হার্ট ফেইলিওর নিরাময়ের সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, কৃত্রিম হার্ট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে হৃদযন্ত্র বিকল একজন মানুষও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারেন। ১৯৮২ সালে ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্নি ক্লার্ক নামে ৬১ বছর বয়স্ক রোগীর দেহে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম কৃত্রিম হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ডাচ ফিজিশিয়ান ডা. উইলেম কফ।
এর পর থেকে বিভিন্ন দেশে অত্যাধুনিক এই সার্জারি হয়ে আসছে। তবে দেশের মাটিতে এই প্রথম কৃত্রিম হার্ট প্রতিস্থাপনের ঘটনা ঘটেছে।