নাইটিংগেল মেডিকেলের রিট পিটিশন দ্রুত নিষ্পত্তির আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকার নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজের রিট পিটিশন দ্রুত নিষ্পত্তি লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-২ শাখার উপসচিব মো. রবিউল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রস্থ স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১ অনুসারে মেডিকেল কলেজটি পরিচালিত না হওয়ায় গত ১৭ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বেসরকারি নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ, ঢাকার ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করা হয়। বর্ণিত স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে উক্ত মেডিকেল কলেজ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং-৫০/২০১৮ দায়ের করে। উক্ত রিট পিটিশনটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্ত নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
জানতে চাইলে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রবিউল আলম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ডিজি অফিসকে চিঠিটি দেওয়ার হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো সুযোগ আছে কিনা দেখার জন্য। সেইসাথে আমাদের আইন শাখাকেও দেওয়া হয়েছে। দেখবে যে, তাদের রিটের কি অবস্থা, রিট চলমান আছে এবং রিটের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো উত্তর দেওয়া হয়েছে কিনা।’
শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মেডিকেল কলেজটি একবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের সাথে আমাদের আইনগত কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের দিক থেকে তাদের মেডিকেল কলেজে যাওয়া হয় না এবং নবায়নও করা হয়নি। মেডিকেল কর্তৃপক্ষ মহামান্য হাইকোর্টে রিট করে তারা শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে তারা শিক্ষার্থী ভর্তি করেনি। এখন যদি তারা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে, তাহলে তারা মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। এখন ডিজি অফিস কোর্টের নির্দেশনা ছাড়া শিক্ষার্থীদেরকে অন্য জায়গায় মাইগ্রেশন করতে পারবে না। রিট নিষ্পত্তি করতে হবে, তারপর তাদের মাইগ্রেশন সম্ভব। এখন ডিজি অফিস কোর্টের নির্দেশনা ছাড়া তাদেরকে মাইগ্রেশন দিয়ে দিলে আদালত অবমাননা হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রিট পিটিশনটি নিষ্পত্তি করতে হবে। মহামান্য হাইকোর্ট শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় দিলে, সেই রায়ের কপি আমাদের কাছে দিলে অন্যান্য মেডিকেলের শিক্ষার্থীদেরকে যেভাবে মাইগ্রেশন দেওয়া হয়েছে, সেরকম আদেশ আমাদের এখান থেকে দেওয়া হতে পারে। আর বিষয়টি এমন পর্যায়ের আছে কিনা দেখতে হবে, শিক্ষার্থীরা সম্ভবত শুধু আমাদের কাছে একটি উকিল নোটিশ দিয়েছে, নোটিশের প্রেক্ষিতে আইন শাখাকে বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়েছে।’
রবিউল আলম আরও বলেন, মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আদালতের আশ্রয় নিয়েছে। মহামান্য আদালত যে নির্দেশনা দিবে, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত আসবে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন বলেন, ‘রিট পিটিশনের বিষয়টি আদালতের ব্যাপার। এখনও আমরা আদালতের নিষ্পত্তির আদেশ পাইনি। আদালত নিষ্পত্তির আদেশ দিলে আমরা মাইগ্রেশন দিয়ে দিব। নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী হবে।’