১১ নভেম্বর, ২০২১ ০৯:১৪ পিএম

‘ডায়াবেটিস রোগীদের বিনামূল্যে ইনসুলিন দেবে সরকার’

‘ডায়াবেটিস রোগীদের বিনামূল্যে ইনসুলিন দেবে সরকার’
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভেয়েস রিপোর্ট: সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিস রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আগামীতে বিনামূল্যে ইনসুলিনও দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

আজ বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম (এনসিডিসি) ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতি (বাডাস) আয়োজিত ‘ডায়াবেটিস চিকিৎসা: বর্তমান ও আগামীর ভাবনা’ বিষয়ে গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নন-কমিউনিকেবল ডিজিসের কারনে দেশের অন্তত ৬১ ভাগ মানুষ কোনোনা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন। নন কমিউনিকেবল অন্যান্য রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগ অন্যতম। ডায়াবেটিস রোগটি নিরবে শরীরে চলে আসে। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের পাশাপাশি শহরের মানুষও ডায়াবেটিস নিয়ে তেমন একটা সচেতন নয়। একটি জরিপে থেকে জানা গেছে, দেশের মাত্র ১২ ভাগ মানুষের ডায়াবেটিস এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আবার অনেক মানুষই চিকিৎসার টাকার অভাবে ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে যান না।’

এ অবস্থায় শহর বা গ্রামের প্রতিটি হাসপাতাল থেকেই এখন বিনামূল্যে ডায়াবেটিস রোগের প্রায় সকল ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খুব দ্রুতই ডায়াবেটিস রোগের জন্য ব্যয়বহুল চিকিৎসা সামগ্রী ইনসুলিনও বিনামূল্যে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা বিনামূল্যে পাবার পাশাপাশি ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসাও মানুষ ঘরের পাশে থাকা যেকোনো হাসপাতাল বা কমিউনিটি ক্লিনিকেই পাবেন বলে জানিয়েছেন জাহিদ মালেক। 

দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে তিনি বলেন,‘অনেক দেশই এখনও করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে হিমশিম খাচ্ছে। রাশিয়ায় দিনে হাজারও মানুষ মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন অনেক নিরাপদ আছে। এর কারন অনেক। হাসপাতালে সঠিকভাবে করোনার চিকিৎসা দেওয়া, সরকারের অতি দ্রুত ভ্যাকসিনের ব্যাবস্থা করা ও সেটি মানুষকে দেওয়া ইত্যাদি।’

টিকার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন,‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের থেকে ২১ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ কোটি ডোজ হাতে এসে পৌঁছেছে। এ মাসের মধ্যে আরও প্রায় ৪ কোটি ডোজ চলে আসবে। প্রায় ৮ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন মানুষকে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ কোটি মানুষ ভ্যাক্সিন গ্রহন করেছে। ৪ কোটি মানুষ দুই ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও নিয়িমিত ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ফাইজারের ভ্যাক্সিন ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রার নিচে রাখতে হয়। এজন্য সব স্কুলে ফাইজার ভ্যাকসিন রাখতে না পারায় কেন্দ্র সংখ্যা কম। সামনের মাসগুলোতে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন মানুষকে দেওয়া হবে। এভাবে চললে আমরা দ্রুতই আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারবো।’

এছাড়া  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী খুব দ্রুততম সময়ে মন্ত্রণালয় নির্ধারিত স্কুলগুলোতে গিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রদান করবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বাডাসের সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে অলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন, মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, এনসিডিসির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমীন, বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির মহাসচিব সায়েফ উদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ফয়েজ উদ্দিন সমকাল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তাফিজ শফি প্রমুখ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

রাজধানীতে জামায়াতের মানববন্ধনে হুঁশিয়ারি

বাজেট বৈষম্য ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক