১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৬:১৪ পিএম

ক্লাসে ফেরা হলো না আবিরের

ক্লাসে ফেরা হলো না আবিরের
ছবি: প্রতীকী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানী ঢাকার উত্তরায় শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রাবাস থেকে আবির হোসেন খান (১৩) নামে এক শিক্ষার্থী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে ওই কলেজের হোস্টেলের অষ্টমতলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া আবির ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র।

নিহত ওই শিক্ষার্থী টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মো. ফজলুর রহমান ও আবিদা সুলাতানার ছেলে।

করোনা মহামারীর পর রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত হওয়ায় তার বাবা শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে নবাবগঞ্জের বাসা থেকে কলেজের ছাত্রাবাসে রেখে যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাসায় পৌঁছানোর আগেই সন্ধ্যার দিকে তার বাবাকে কলেজ থেকে ফোন দেওয়া হয়। এ সময় আবির অসুস্থ জানিয়ে তাকে ক্যাম্পাসে আসতে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে আবিরের বাবা কলেজের পাশে থাকা খালা রাবেয়া সুলতানা খানকে বিষয়টি জানালে তিনি কলেজে যান।

আবিবের খালা বলেন, ‘ফোন পেয়ে দৌড়ে শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাই। গিয়ে দেখি কলেজের দুজন পরিচালক নিচে কথা বলছেন। তাদের কাছে আবিরের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আবির গলায় গামছা পেঁচিয়েছিল। পরে তাকে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন আমি পরিচালকদের বলি, তাহলে আপনারা কেন হাসপাতালে যাননি? উত্তরে তারা জানান, আমরাও যাচ্ছি। পরে তারাও আমার পিছু পিছু হাসপাতালে যান। হাসপাতালের গিয়ে দেখি, জরুরি বিভাগের সামনেই আবিরের মরদেহ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানিয়েছে, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই আবিরের মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তীতে আবিরের বাবা হাসপাতালে এসে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে পুলিশ হাসপাতালে এসে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করে।’

এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই লাল মিয়া বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আবির হোস্টেলের জানালার সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। ওই ছাত্রের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

তার শরীর কোন আঘাতের চিহ্ন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আবির আত্মহত্যা করেছে। বাকিটা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে বলা যাবে।’ কিন্তু কী কারণে আবির আত্মহত্যা করে থাকতে পারে তাও জানাতে পারেননি ওই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আবিরের খালা রাবেয়া সুলতানার দাবি, এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না। কারণ আবিরের মরদেহ হোস্টেলের বিছানার ওপরে ছিল। উদ্ধারকালে আবিরের দুই পা হাঁটুগাড়া অবস্থায় ছিল। এভাবে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘আবিরকে যখন হোস্টেলে দিয়ে যাওয়া হয়, তখন তিনি হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কতজন ছাত্র এসেছে? উত্তরে তারা জানিয়েছেন, ৭ থেকে ৮ জন ছাত্র এসেছে। তখন আবিরকে তার বাবা একশত পনেরো টাকা দিয়ে এসেছিল। আমি ধারণা করছি আবিরের কাছে বেশি টাকা আছে বলে মনে করে তা নেওয়ার জন্য ছাত্ররাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক