জুনেও হচ্ছে না রেসিডেন্টদের বর্ধিত ও নন-রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ভাতা
মো. মনির উদ্দিন: ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যয়নরত রেসিডেন্টদের বর্ধিত ও নন-রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ভাতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে জুন থেকে দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও মাসের শেষেও ভাতা পাচ্ছেন না তারা। এতে দীর্ঘ দিন অপেক্ষায় থাকা চিকিৎসকরা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমি যত দূর জানি, ডিপ্লোমা ও রেসিডেন্সি চিকিৎসকদের ভাতার কথা বলতে প্রধানমন্ত্রীর সচিবের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন, পাওয়ার কথা। এখনো পাইনি, তবে শিগগিরই পাওয়ার কথা। এ ছাড়া তিনি (বিএসএমএমইউ ভিসি) অর্থ সচিবের সঙ্গে দেখা করেছেন।’
বিষয়টি মেডিকেলের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার সঙ্গে জড়িত। এমন প্রসঙ্গ আনতেই তিনি বলেন, ‘আমরা একটি জিনিস চাইলাম, কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মত হয়ে তো আমাদের টাকাটা দিতে হবে। তারা না দিলে তো আমরা দিতে পারবো না। আমরা চেয়েছি, অনেক আগে থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলে আসছি। এ বছরও আমরা চেয়েছি, ভিসি স্যারও গিয়ে বলে এসেছেন।’
গত ২৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
যা বললেন বিএসএমএমইউ ভিসি
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ আজ সোমবার (২৮ জুন) মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। টাকা না পেলে কিভাবে দেবো? আমাদের কোনো উপায় নাই।’
ভাতা ও বর্ধিত ভাতার বিষয়টি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে পূর্ব ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জুনের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বারবার বলেছি, কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তা করেননি। আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে যেন হয়, সেজন্য চেষ্টা করছি। আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।’
নবীন চিকিৎসকদের হতাশা-ক্ষোভ
এদিকে ভাতা চালু না হওয়ায় রেসিডেন্ট ও নন-রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, নবীন চিকিৎসকদের উৎসাহ প্রদান ও তাদের কষ্ট দূর করার লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাতা প্রাপ্তির বিষয়ে আশাবাদী করে তা প্রলম্বিত হওয়ায় তাদের হতাশা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থা ও নির্ভরতার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তারা আমাদের জানিয়েছিলেন—জুনে বাজেট ঘোষণার পর হতে পারে। কিন্তু নতুন বাজেটেও তা না হওয়া চরম হতাশার।’
তিনি আরও বলেন, ‘একাধিক সংসদ সদস্য বিশিষ্ট সিন্ডিকেটে এটি পাস হয়েছে। আপত্তি করার সুযোগ থাকলেও বিষয়টি যৌক্তিক ও জরুরি হওয়ায় রাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা এর বিপক্ষে কথা বলেননি। পাসের পর দীর্ঘ এক বছরেও এগুচ্ছে না। এখানে বড় রকমের একটি শূন্য আছে।’
গত বছরের ৩১ আগস্ট বিএসএমএমইউর একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে বেসরকারি রেসিডেন্টদের ভাতা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবে তাদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা করার প্রস্তাবনা দেয় একাডেমিক কাউন্সিল। একই সঙ্গে মেডিকেল শিক্ষার সবচেয়ে পুরনো পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স ডিপ্লোমা-এমফিল (নন-রেসিডেন্সি) চিকিৎসকদের ভাতা চালুর বিষয়েও প্রস্তাব করা হয়।
একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বৈঠকে বিএসএমএমইউ ও এর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যয়নরত বেসরকারি রেসিডেন্টদের ভাতা বাড়ানো ও নন-রেসিডেন্সি চিকিৎসকদের মাসে ২০ হাজার টাকা প্রদানের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় সিন্ডিকেট মেম্বারগণ।
তবে ১০ মাসের ব্যবধানে ভাতা ও বর্ধিত না পাওয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নবীন চিকিৎসকরা।
-
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১