ডা. নাজিরুম মুবিন

ডা. নাজিরুম মুবিন

মেডিকেল অফিসার, মিনিস্ট্রি অব হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার


১৩ জুন, ২০২১ ০৯:৪৫ পিএম

বাংলাদেশ বনাম উন্নত বিশ্বের ফার্স্ট এইড

বাংলাদেশ বনাম উন্নত বিশ্বের ফার্স্ট এইড
প্রতীকী ছবি

গতকাল রাতে ডেনমার্কের ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসনের মাঠেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ার ভিডিও ফুটেজ আপনারা অনেকেই দেখেছেন। এরকম কাছাকাছি কিছু ফুটেজ আমাদের দেশেরও আছে। অন্তত দুইটা আমার এখনই মনে পড়ছে।

ঢাকার উত্তরায় এক মহিলা ব্যাংক কর্মকর্তার কর্মস্থলেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সিসিটিভি ফুটেজ। একটি সভায় চেয়ারে বসার আগেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সিসিটিভি ফুটেজ। 

ফুটবলার এরিকসন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর বেঁচে গেলেও উত্তরার সেই ব্যাংক কর্মকর্তা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

তিনটি ঘটনাতেই ভিক্টিমের চারপাশে সহকর্মীরা ছিলেন। পার্থক্য হলো, আমাদের দেশের দুইটি ঘটনার ক্ষেত্রে সহকর্মীরা চেয়ে চেয়ে দেখেছেন, মুখে পানি দিয়েছেন, ভিক্টিমক টেনে তুলতে চেষ্টা করেছেন। অপরদিকে এরিকসনের ক্ষেত্রে তার সহকর্মীরা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ফার্স্ট এইডের সব প্রটোকল ক্রমানুসারে অনুসরণ করেছেন।

ডেনমার্কের অধিনায়ক সিমন জার দৌঁড়ে এসে এরিকসনের মুখে আঙুল ঢুকিয়ে জিহবা বের করে আনেন। এটাই ছিল ফার্স্ট এইডের ফার্স্ট কাজ। মেডিকেলের ভাষায় আমরা এটাকে বলি Airway Secure করা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের রাস্তা নিরাপদ করা। এরিকসনের জিহবাটা মুখের ভিতর উল্টে পড়ে (fall back) ছিল। ফলে তিনি শ্বাস নিতে পারছিলেন না। সিমনের এই কাজের ফলে এরিকসনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। এরপরই সিমন এরিকসনকে সিপিআর দেয়া শুরু করেন। এতোটুকু করতে সিমন এক মিনিটেরও কম সময় নেন।

সিপিআর অথবা ডিফিব্রিলেটর দিতে দেরি করার অর্থ রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা প্রতি মিনিটে ১০% করে কমে যাওয়া। সিপিআর শুরু করতে ৪ মিনিট দেরি করলে অক্সিজেনের অভাবে ব্রেইন ড্যামেজ হওয়া শুরু হয়। ১০ মিনিট দেরি করলে রোগীর বেঁচে থাকার আর কোন সম্ভাবনাই থাকে না।

এরিকসনের ক্ষেত্রে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে সিপিআর শুরু হয়েছে। ফলাফল তিনি সজ্ঞানে হাসপাতালে গিয়েছেন। আর জেলা প্রশাসক এবং ব্যাংক কর্মকর্তার ক্ষেত্রে ১০ মিনিট পার হওয়ার পর অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেছেন।

উন্নত দেশে স্কুলেই সিপিআর এর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ফলে রাস্তা ঘাটে কেউ অজ্ঞান হয় পড়ে গেলে পথচারীরাই সিপিআর দিতে পারে।

বাংলাদেশে ফার্স্ট এইডের ট্রেনিং মানে কিভাবে ব্যান্ডেজ করতে হয়। অথচ শেখানো উচিত ছিল চোকিং (গলায় খাবার আটকে যাওয়া), কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, হিট স্ট্রোক এগুলোর প্রাথমিক চিকিৎসা, যেখানে প্রতিটি সেকেন্ড মহামূল্যবান। প্রতি সেকেন্ডে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমতে থাকে এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রোগী মারা যায়। তাই এগুলোর প্রাথমিক চিকিৎসা প্রত্যেকের শেখা উচিত।

আমি ব্যক্তিগতভাবে কোথাও ফার্স্ট এইডের ট্রেনিং বা ওয়ার্কশপ নিতে গেলে এই অতি জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাগুলো শিখিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। যদিও আয়োজকরা শুরুতে কিছুটা বিরক্ত হন। তারা চান ব্যান্ডেজ করা শিখতে। কিন্তু ট্রেনিং শেষে এই বিরক্তিভাব কৃতজ্ঞতায় রূপ নেয়।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি