ইন্টারপোল ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মধ্যে চুক্তি
জনস্বাস্থ্যবিরোধী অপরাধ মোকাবিলায় কাজ করবে দুই সংস্থা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আন্তদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার করতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
এ চুক্তির আওতায় জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করবে সংস্থা দুটি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডব্লিউএইচওর অভিজ্ঞতা এবং অপরাধ দমনে ইন্টারপোলের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানোই এ চুক্তির মূল লক্ষ্য।
ইন্টারপোলের মহাসচিব ভালদেসি উরকিজা বলেন, অপরাধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক ক্রমেই বাড়ছে। নকল চিকিৎসাপণ্য থেকে শুরু করে অসহায় মানুষের শোষণ—বিভিন্ন অপরাধী চক্র মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
ডব্লিউএইচওর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে এসব হুমকি মোকাবিলা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার সক্ষমতা বাড়বে।
রাসায়নিক, তেজস্ক্রিয় ও জীববৈজ্ঞানিক ঝুঁকি মোকাবিলা
চুক্তির আওতায় জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং অস্বাভাবিক জীববৈজ্ঞানিক ঘটনা, যা প্রাকৃতিকভাবে, দুর্ঘটনাজনিত কারণে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটতে পারে।
এ ছাড়া বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ও জনসমাগমে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করবে সংস্থা দুটি।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ডা. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বৈশ্বিক নিরাপত্তারই অংশ। ইন্টারপোলের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে ক্ষতি প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জনআস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ বিষয়গুলো প্রতিরোধে সম্মিলিত সক্ষমতা বাড়বে।
অবৈধ অঙ্গ ব্যবসা ও নকল চিকিৎসাপণ্য প্রতিরোধ
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো অঙ্গ অপসারণের উদ্দেশ্যে মানব পাচার এবং মানব অঙ্গ, টিস্যু ও কোষের অবৈধ বাণিজ্য মোকাবিলা করা একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের অবৈধ উৎপাদন ও বাণিজ্য প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদার করা হবে।
এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে নকল ও ভেজাল ওষুধ, টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম; নকল ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী; অনিরাপদ বা প্রতারণামূলকভাবে লেবেলযুক্ত খাদ্য ও পানীয় এবং অবৈধভাবে উৎপাদিত অ্যালকোহল।
এ ছাড়া ডব্লিউএইচওর তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন বাস্তবায়নেও সহযোগিতা করবে সংস্থা দুটি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ অপরাধ শনাক্তকরণ, ভোক্তা সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা বাস্তবায়নে সহায়তা করা হবে।
সমন্বিত উদ্যোগে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা
জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অনেক হুমকি কোনো একটি দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাই এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্টারপোল ও ডব্লিউএইচওর এ চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সক্ষমতা বাড়ানো, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এইউ/
ডিএমসি লিভার ফেস্টে বিশেষজ্ঞরা
লিভারে আক্রান্ত পাঁচ কোটি মানুষ, চিকিৎসক আছেন দেড়শোরও কম
ডিএমসি লিভার ফেস্টে বিশেষজ্ঞরা
লিভারে আক্রান্ত পাঁচ কোটি মানুষ, চিকিৎসক আছেন দেড়শোরও কম
জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের উপেক্ষা
আইসিএমএইচের শিশু বিভাগের প্রধান করা হলো আওয়ামীপন্থী চিকিৎসককে