শিশুর জন্মগত জটিল হৃদরোগ টেট্রোলজি অব ফ্যালট: অস্ত্রোপচারই যেখানে স্থায়ী চিকিৎসা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: শিশুর জন্মের পর ঠোঁট, নখ কিংবা শরীরে নীলচে ভাব, সামান্য খেলাধুলাতে হাঁপিয়ে যাওয়া বা বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ অনেক সময় গুরুতর জন্মগত হৃদ্রোগের ইঙ্গিত বহন করে। টেট্রোলজি অব ফ্যালট (টিওএফ) শিশুদের এমনই একটি জটিল জন্মগত হৃদরোগ, যেখানে হৃদপিণ্ডের গঠনগত চারটি ত্রুটির কারণে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করা গেলে আক্রান্ত শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে দেরি হলে জটিলতা বাড়তে পারে এবং সুস্থতার জন্য অনেক ক্ষেত্রে হতে পারে একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিওএফের স্থায়ী চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারই মূল ভূমিকা রাখে।
বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে শিশুদের জন্মগত জটিল হৃদরোগ টিওএফের ওপর আয়োজিত সিম্পোজিয়ামে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে স্পেশালাইজড হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিভাগের কোওর্ডিনেটর ও বিভাগীয় প্রধান ইন্টারভেনশনাল পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্ন নাহার ফাতেমা আয়োজনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে ও টিওএফ’র নানা দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর সচেতনতামূলক কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এ বছরও শিশু হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে আমরা টেট্রোলজি অব ফ্যালটকে আলোচনার বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছি।’
অধ্যাপক নুরুন্ন নাহার ফাতেমা বলেন, টেট্রোলজি অব ফ্যালট শিশুদের একটি পরিচিত এবং একই সঙ্গে জটিল জন্মগত হৃদরোগ। শিশুদের হৃদরোগের মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ ক্ষেত্রে এই রোগ দেখা যায়। তাই রোগটি যেমন তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়, তেমনি এর চিকিৎসাও বেশ জটিল।
দেশে টেট্রোলজি অব ফ্যালটের চিকিৎসা সক্ষমতা
বাংলাদেশে টিওএফ রোগের চিকিৎসার সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টেট্রোলজি অব ফ্যালট একটি জটিল রোগ হলেও আশার বিষয় হলো, বর্তমানে বাংলাদেশের কয়েকটি হাসপাতালে এই রোগের সফল অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। একসময় প্রায় সব রোগীকেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হতো। এখন প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ রোগী দেশেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিছু পরিবার আর্থিক সামর্থ্য বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে বিদেশের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে যায়। তবে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। দেশেই প্রায় সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, খুব কম বয়সী শিশু, বিশেষ করে নবজাতক বা ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে সরাসরি অস্ত্রোপচারের আগে কিছু প্যালিয়েটিভ বা ট্রান্সক্যাথেটার ইন্টারভেনশন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুর শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নত করে তাকে বড় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে উপযুক্ত বয়সে ওপেন-হার্ট সার্জারির মাধ্যমে মূল চিকিৎসা করা সম্ভব হয়।
জন্মগত এই রোগ প্রতিরোধযোগ্য?
মাতৃগর্ভেই টেট্রোলজি অব ফ্যালটের উৎপত্তি উল্লেখ করে সভায় জানানো হয়, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করার নির্দিষ্ট কোনো উপায় নেই। এর সঙ্গে কিছু জেনেটিক কারণও জড়িত থাকতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় ফিটাল ইকোকার্ডিওগ্রামের মাধ্যমে আগে থেকেই রোগটি শনাক্ত করা গেলে পরিবারকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সচেতনতা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া যায়। শিশুর জন্মের পর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়। যেহেতু এই রোগের চিকিৎসা রয়েছে এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব, তাই আগে শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা বলেন, মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় সাধারণত এই রোগের সরাসরি চিকিৎসা করা হয় না। রোগটি শনাক্ত হলে শিশুর জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা শুরু করা হয়। প্রথমে প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল ম্যানেজমেন্ট এবং পরবর্তী সময়ে সার্জিক্যাল ম্যানেজমেন্ট করা হয়।
টেট্রোলজি অব ফ্যালটে আক্রান্তের কারণ
সিম্পোজিয়ামে জানানো হয়, টেট্রোলজি অব ফ্যালটের নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। এটি একটি মাল্টিফ্যাক্টোরিয়াল রোগ। এর সঙ্গে জেনেটিক, ক্রোমোজোমাল ও পরিবেশগত বিভিন্ন কারণ জড়িত থাকতে পারে। কিছু ব্যক্তি জেনেটিকভাবে এ রোগের প্রতি বেশি ঝুঁকিপ্রবণ হতে পারেন। তাদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশগত কারণ, যেমন রেডিয়েশনের সংস্পর্শ, ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব কারণ সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করে না। অর্থাৎ, জেনেটিক প্রবণতার সঙ্গে পরিবেশগত বা অন্যান্য কোনো কারণ যুক্ত হলে কিছু শিশুর ক্ষেত্রে এই রোগের বিকাশ ঘটতে পারে।
টেট্রোলজি অব ফ্যালট রিপেয়ার
অনুষ্ঠানে টিওএফ রোগীদের অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা উপস্থাপন করেন ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রোকনুজ্জামান সেলিম।
তিনি বলেন, আজকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় চাইল্ড হার্ট ট্রাস্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে টেট্রোলজি অব ফ্যালট রিপেয়ার এবং সার্জারির মাধ্যমে এর চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
‘শিশুরা সাধারণত জন্মের সময় থেকেই এই রোগটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং এর উপসর্গ জন্মের পর থেকেই প্রকাশ পেতে পারে। তবে সব শিশুর ক্ষেত্রে উপসর্গ একই সময়ে দেখা যায় না। কোনো ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে এক-দুই বছর পর বাবা-মা বিষয়টি বুঝতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে শিশুর বয়স বাড়ার পরও রোগটি শনাক্ত হতে পারে'—যোগ করেন এই কার্ডিয়াক সার্জারির অধ্যাপক।
টেট্রোলজি অব ফ্যালট কী?
সিম্পোজিয়ামে জানানো হয়, ‘টেট্রা’ অর্থ চার। টেট্রোলজি অব ফ্যালটে হৃদপিণ্ডে সাধারণত চারটি প্রধান ত্রুটি থাকে। প্রথমত, হৃদপিণ্ডের দুই নিলয়ের মাঝখানে একটি ছিদ্র থাকে। দ্বিতীয়ত, ডান নিলয় থেকে ফুসফুসে রক্ত নিয়ে যাওয়া রক্তনালীটি স্বাভাবিকের তুলনায় সরু থাকে। তৃতীয়ত, ওই রক্তনালীর মুখের পালমোনারি ভালভ সংকুচিত হয়ে যায়, যাকে পালমোনারি স্টেনোসিস বলা হয়। চতুর্থত, রক্তনালীর পথে অতিরিক্ত মাংসপেশি বা টিস্যু বেড়ে গিয়ে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এই চারটি ত্রুটির কারণে ফুসফুসে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং অক্সিজেনসমৃদ্ধ ও অক্সিজেনস্বল্প রক্তের মিশ্রণ বেড়ে গিয়ে শিশুর শরীরে নীলাভ ভাবসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
উপসর্গ
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টেট্রোলজি অব ফ্যালটে হৃদপিণ্ডের ত্রুটির কারণে অক্সিজেনসমৃদ্ধ ও অক্সিজেনস্বল্প রক্ত মিশে যায়। ফলে শিশুর শরীরে নীলাভ ভাবসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাবা-মা শিশুর প্রথম এক-দুই বছরের মধ্যেই বুঝতে পারেন যে তার কোনো সমস্যা রয়েছে। আবার কিছু শিশুর ক্ষেত্রে জন্মের পরপরই নীলাভ ভাব, কান্নার সময় সমস্যা বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে জন্মের এক-দুই মাসের মধ্যেই চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যদিকে যারা তুলনামূলকভাবে পরে চিকিৎসকের কাছে আসে, তাদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা সম্ভব এবং অনেক সময় কিছুটা দেরিতে অস্ত্রোপচার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
প্রধান উপসর্গ
অধ্যাপক ডা. রোকনুজ্জামান সেলিম বলেন, টেট্রোলজি অব ফ্যালটের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শরীরে নীলাভ বা কালচে ভাব। এই রোগে হৃদপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালনে ত্রুটির কারণে অক্সিজেনসমৃদ্ধ ও অক্সিজেনস্বল্প রক্ত মিশে যায়। ফলে রোগীর গায়ের রঙে নীলচে ভাব দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় বাবা-মা লক্ষ্য করেন, ফর্সা হলেও শিশুর গায়ের রঙে নীলচে ভাব রয়েছে। কান্না, খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় এই নীলাভ ভাব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ঠোঁট, নাকের ডগা, কানের লতি এবং হাত-পায়ের নখ নীলচে হয়ে যেতে পারে। এটি বাবা-মায়ের সহজেই চোখে পড়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
‘আরেকটি প্রধান উপসর্গ হলো শারীরিক পরিশ্রমে দ্রুত শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্ত হয়ে পড়া। যেমন, অন্য শিশুরা কয়েক মিনিট বা তারও বেশি সময় খেলাধুলা করতে পারলেও টেট্রোলজি অব ফ্যালটে আক্রান্ত শিশু অল্প সময় খেলেই হাঁপিয়ে যায় এবং বসে পড়ে। দৌড়াদৌড়ি, কান্না কিংবা কখনো খাওয়ার পরও তাদের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে শিশুটি অন্যদের মতো খেলাধুলা না করে বসে থেকে অন্যদের খেলা দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যায়’—বলেন তিনি।
এ ছাড়া কিছু শিশুর ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা দেখা দিতে পারে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে মাসে একাধিকবার, বিশেষ করে কান্নাকাটির পর, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
চিকিৎসা
চিকিৎসকরা বলেন, বাবা-মা শিশুর মধ্যে এ ধরনের কোনো উপসর্গ লক্ষ্য করলে বা হৃদরোগের সন্দেহ করলে দ্রুত একজন শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অবশ্য করণীয়। প্রথমেই সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ভালো মানের ইকোকার্ডিওগ্রামের মাধ্যমে রোগটি শনাক্ত করা যায়। এরপর রোগের ধরন ও জটিলতা বিবেচনা করে যথাযথ চিকিৎসা করা হয়। রোগটি যদি তুলনামূলকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায় এবং সময়মতো চিকিৎসা করা সম্ভব হয়, তাহলে অপারেশনের পর শিশুর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে।
‘তবে সব টেট্রোলজি অব ফ্যালট রোগী যে অপারেশনের পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে, তা নয়। বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসার পর ভালো থাকে, কিন্তু রোগের জটিলতা বেশি হলে কিছু সমস্যা থেকে যেতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে একটি অস্ত্রোপচারই যথেষ্ট হয় না; একাধিক প্রয়োজন হতে পারে। আবার কিছু রোগীকে কিছু অবশিষ্ট সমস্যা নিয়েই দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাপন করতে হয়’—বলেন তারা।
রোগীর সংখ্যা ও রোগের বৈশিষ্ট্য
অনুষ্ঠানো জানানো হয়, বাংলাদেশে শিশু হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা অনেক। প্রতি বছর প্রায় ২৫ হাজার শিশু বিভিন্ন ধরনের জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ টেট্রোলজি অব ফ্যালটে আক্রান্ত। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা করা গেলে এসব শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।
অস্ত্রোপচারই একমাত্র চিকিৎসা?
আরও জানানো হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপারেশনই মূল ও স্থায়ী চিকিৎসা। তবে রোগের শুরুতে জটিলতা বেশি থাকলে সাময়িকভাবে উপসর্গ কমানোর জন্য কিছু ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা করা যেতে পারে। যেমন—বেলুনিং বা স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে সাময়িকভাবে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে এগুলো স্থায়ী সমাধান নয়। স্থায়ী চিকিৎসা হলো অপারেশনের মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের ত্রুটিগুলো সংশোধন করা।
বৈজ্ঞানিক সেমিনারের সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিভাগের ইনচার্জ ডা. আশিক মো. রায়হান চৌধুরী ও একই বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মরিয়ম মাহবুব।
সেমিনারে হার্টের বিভিন্ন রোগের ওপর বৈজ্ঞানিক আলোচনা উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএমইউ) রাজধানীর বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
বিভিন্ন বয়সে টেট্রালজি অব ফ্যালটসের হেমোডায়নামিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের (এনআইসিভিডি) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আতাউল হক, এনআইসিইউতে চরম জটিল টিওএফে আক্রান্ত নবজাতকের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন বিএমইউর অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত আলম এবং টিওএফ-এ সায়ানোটিক স্পেলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থান করেন করেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের ডা. প্রিয়াঙ্কা দাশ।
এ ছাড়া টেট্রালজি অব ফ্যালটস ও অনুরূপ অ্যানাটমির রোগীদের চিকিৎসা সুযোগ নিয়ে তথ্য তুলে ধরেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ডা. জেসমিন হোসাইন, টিওএফ মেরামত অস্ত্রোপচারের পরবর্তী সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের (এনএইচএফ) ডা. নুরুল আখতার হাসান, জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ও জীবনযাপনসংক্রান্ত বিষয় কথা বলেন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. ফেরদৌস-উর-রহমান।
এমইউ/