১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩১ এএম

চিকিৎসকদের কল্যাণে আট বছর ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, কার্যক্রম বিস্তারে সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান

চিকিৎসকদের কল্যাণে আট বছর ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, কার্যক্রম বিস্তারে সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান
ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসকদের যেকোনো সংকটে পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সহায়তার পাশাপাশি দেশের চিকিৎসক সমাজের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতেও কাজ করছে সংগঠনটি। আট বছরের পথচলায় ট্রাস্টের এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করতে চিকিৎসকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে ট্রাস্টের দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনে এই আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সঙ্গে যারা শুরু থেকেই যুক্ত আছেন, তাদের মধ্যে আমিও একজন। তাদের পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। দেখতে দেখতে আট বছর হয়ে গেছে। এই আট বছরের অর্জন নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কমিউনিটির ২০ জন ডাক্তার ও মেডিকেল শিক্ষার্থী, তারা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, সেটি অত্যন্ত কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি। আমরা অনেক কাজ শুরু করি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা এগিয়ে নিতে পারি না; ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি না। এটি আমাদের একটি বড় দুর্বলতা। কিন্তু ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট সেই সীমাবদ্ধতাকে জয় করে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক রোমেন রায়হান—আপনারা অনেকেই নামটি শুনেছেন। তিনি আমাদেরই একজন সহকর্মী। তিনি আমাকে তাঁর একটি কবিতার বই উপহার দিয়েছিলেন, যার নাম ‘ডাক্তার, তুই পালিয়ে যা’। নামটিই যেন ডাক্তারদের এই কঠিন বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যেতে বলছে। তিনি আজ এখানে থাকলে হয়তো তাঁকে বলতাম—‘ডাক্তার পালাবে না।’

সাফল্যের পেছনে

অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা প্রশ্ন, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই কাজের গতি ও সাফল্য কীভাবে সম্ভব হলো? এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো দায়িত্ববোধ ও কাজটিকে নিজের করে নেওয়ার মানসিকতা। ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত অদম্য ও অপ্রতিরোধ্য ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই কাজকে নিজের করে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। তারা দায়িত্বটিকে শুধু একটি কাজ হিসেবে দেখেনি; বরং নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই কারণেই ট্রাস্ট আট বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে পেরেছে।

সংকটে পাশে থাকার অঙ্গীকার

ট্রাস্টের কার্যক্রমের সূচনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে আমি বারডেম হাসপাতালে কাজ করতাম। সে সময় ডা. মোবারক ও আরও কয়েকজন তরুণ চিকিৎসক আমার কাছে এসেছিল। তাদের উদ্যোগের কথা শুনে আমার ভালো লেগেছিল। এর অন্যতম কারণ হলো, চিকিৎসকদের সংকটে পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায় না। কোনো চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে পড়লে অনেক সময় কেউ এগিয়ে আসে না। বলে সে তো ডাক্তার, নিশ্চয়ই কোনো না কোনোভাবে ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’

‘সুতরাং ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের যে ধারণা ও উদ্যোগ, সেটিকে আমার কাছে একটি অনন্য ও ব্যতিক্রমী মনে হয়েছিল। এর আগে আমাদের বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত সংগঠন থাকলেও, চিকিৎসকদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ ও সেবাকেন্দ্রিক ধারণা নিয়ে আমাদের নিজস্ব পেশাগত সংগঠনগুলো খুব একটা এগিয়ে আসেনি। ফলে তাদের এই উদ্যোগ আমাকে সত্যিই প্রীত ও অনুপ্রাণিত করেছিল’—বলেন তিনি। 

ট্রাস্টের নেটওয়ার্ক ও স্বচ্ছতা

অনুষ্ঠানে ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সূচনা, বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে সারাদেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে টিম গড়ে তুলেছি। সর্বশেষ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটভিত্তিক কো-অর্ডিনেটর এবং অ্যাম্বাসেডর টিম গঠনের কাজও শুরু করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল ও কো-অর্ডিনেটর টিম গঠন করতে গিয়ে আমাদের মনে হয়েছে, মেডিকেল কমিউনিটির মধ্যে এখনো একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত নেটওয়ার্কের অভাব রয়েছে। এমন কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা নেই, যেখানে বিপদের সময় দ্রুত সহায়তা পাওয়া যাবে কিংবা চিকিৎসকরা নিজেদের সুখ-দুঃখ ও প্রয়োজনের কথা একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন।’

‘যেহেতু ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট চিকিৎসকদের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করছে, তাই আমরা এই নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করি। সেই চিন্তা থেকেই যত দ্রুত সম্ভব একটি ওয়েবসাইট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আমাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সব কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা।’

ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট দেশের একটি নিবন্ধিত ট্রাস্ট উল্লেখ করে তিনি বলে, ‘২০২১ সালে আমরা নিবন্ধন লাভ করি। বর্তমানে আমাদের সব ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। আর্থিক কার্যক্রমসহ সবকিছুই যথাযথ নথিপত্র ও জবাবদিহির মাধ্যমে পরিচালনা ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।’

ডোনার সদস্য হওয়ার আহ্বান

ডা. মোবারক হোসেন বলেন, যারা ডক্টরস ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের যুক্ত আছেন, তারা সারাদেশে কলেজ অ্যাম্বাসেডর, ব্যাচ অ্যাম্বাসেডর, জুনিয়র অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সমন্বয়ক হিসেবে ডিভিশনাল, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিভিশনাল, ডিস্ট্রিক্ট, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট, উপজেলা, অ্যাসিস্ট্যান্ট উপজেলা এবং ইনস্টিটিউশনাল, ডিপার্টমেন্টাল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের সবাই তালিকাভুক্ত ডোনার মেম্বার হিসেবে থাকেন। 

‘এর পাশাপাশি ট্রাস্টের কার্যক্রমে আগ্রহী সাধারণ মানুষকেও ডোনার হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু চিকিৎসক বা মেডিকেল পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই নন, যে কেউ ডোনার সদস্য হয়ে চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারবেন’—বলেন তিনি।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত