স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ২০ সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও জনগণের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে ২০টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন বিষয়ক সভায়’ এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও প্রতিষ্ঠানকে সভার কার্যবিবরণী পাঠিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এসাইনমেন্ট অফিসার-১ মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল স্বাক্ষরিত কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড (ইএমআর) চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালকে নিয়ে কর্মপরিকল্পনা করা হবে।
নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী, ঝালকাঠি ও বগুড়া জেলায় কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা পাইলট হিসেবে চালু করে উপজেলা, জেলা ও উচ্চতর পর্যায়ের হাসপাতালের মধ্যে রোগী প্রেরণ ও কাউন্টার রেফারেলের ব্যবস্থা করা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগীর চাপ কমাতে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা ক্রয়ের উদ্যোগ এবং বেসরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী প্রেরণ বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা, রোগীর স্বার্থ ও সেবার সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবভিত্তিক কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করা হবে।
কার্যবিবরণীতে জানানো হয়, এছাড়া বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কার্যকর ও তদারকির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পৃথক সেল গঠন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসকদের ন্যূনতম বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার পাশাপাশি একই সীমার মধ্যে বিদ্যমান ক্লিনিকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্র্যাকটিসের সুযোগ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেডিকেল কলেজগুলোতে কমিউনিটি মেডিসিন ও ফরেনসিক মেডিসিনসহ বেসিক বিষয়ে শিক্ষক সংকট দূর করতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও চিকিৎসকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং অ্যানেসথেসিওলজিস্ট সংকট মোকাবিলায় ডিপ্লোমা ইন অ্যানেসথেসিওলজি কোর্সের আসন বাড়ানোর কর্মপরিকল্পনা করা হবে।
এ ছাড়া সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পণ্য ও সেবার ক্রয়মূল্য জনসম্মুখে প্রকাশ, কৌশলগত ক্রয় পদ্ধতি চালু, নির্বাচিত ৫০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযোগ প্রতিকার কেন্দ্র পাইলটভাবে চালু এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সেবার মান পর্যবেক্ষণে তিনটি জেলায় ভিজিল্যান্স টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, মহাখালীর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন ও ঝুঁকিপূর্ণ দোকান-অবকাঠামো অপসারণ, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচির জন্য পৃথক প্রকল্প, ডায়াগনস্টিক কিট, নেবুলাইজার, মেডিকেল গ্লাভস, সিরিঞ্জসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পণ্যের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এমন শিল্পকারখানার ওপর কর আরোপ করে সেই অর্থ স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবাসে অবস্থানরত রিউম্যাটিক হৃদরোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কর্মস্থল নির্ধারণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দেওয়া হয়েছে।
এমআর/