১০ অগাস্ট, ২০২৬ ০৪:১৪ পিএম

ডেঙ্গু ঠেকাতে স্বাস্থ্য খাতে ডিএসসিসির বরাদ্দ ১২১ কোটি টাকা

ডেঙ্গু ঠেকাতে স্বাস্থ্য খাতে ডিএসসিসির বরাদ্দ ১২১ কোটি টাকা
ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ বছর স্বাস্থ্য খাতে সংস্থাটির বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের মূল বরাদ্দের তুলনায় যা প্রায় সাড়ে তিনগুণ বেশি।

ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম জানিয়েছেন, বাড়তি অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করা হবে মশক নিয়ন্ত্রণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা তৈরিতে। একই সঙ্গে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে ৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। পরে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা করা হয়। এবার সেই তুলনায় বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন সকালে লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইডিং এবং বিকেলে উড়ন্ত মশা নিধনে এডাল্টিসাইডিং করা হচ্ছে। কার্যক্রমের মান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকি দলও কাজ করছে।

মশক নিধন কার্যক্রমে যুক্ত কর্মী ও সুপারভাইজারদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসি প্রশাসকের দাবি, মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় শতভাগ কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী মশক নিয়ন্ত্রণে বিকল্প পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

শুধু নিয়মিত মশক নিধনের ওপর নির্ভর না করে এবার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা আগে থেকেই শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়নে প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ চালানো হয়। জরিপে দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ঘনত্বে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ অভিযান বা ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ পরিচালনা করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, আগাম লার্ভা জরিপের ফলে কোন এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, তা আগে থেকেই চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। এর ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু মশা নিধন যথেষ্ট নয়। এ কারণে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া স্কুল ও কলেজে সচেতনতামূলক প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট প্রকাশ, টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনচিত্র প্রচার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রচারণা এবং জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

নগরবাসীকে বাড়ি, ভবন ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সতর্ক করার পরও কোনো বাসা বা প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানার পাশাপাশি সেটিকে লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্টের অভিযানও চালানো হচ্ছে।

এদিকে মশক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা ও মাতৃত্ব খাতেও বরাদ্দ বাড়িয়েছে ডিএসসিসি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসব খাতে চার কোটি ২৬ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল দুই কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা নেমে আসে এক কোটি ৩৩ লাখ টাকায়।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে ডেঙ্গু মোকাবিলায় ছয়টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো নিয়মিত মশক নিধন, প্রাক-বর্ষা লার্ভা জরিপ, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে বিশেষ অভিযান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মোবাইল কোর্ট এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, বাড়তি বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে এসব কার্যক্রমের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষিণ সিটি এলাকায় এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমিয়ে আনা। সূত্র : বাসস

এনএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক