১৮ জুলাই, ২০২৬ ০৩:০৪ পিএম
সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে

ঠোঁট ও তালুকাটা রোগীদের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার

ঠোঁট ও তালুকাটা রোগীদের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ঠোঁট ও তালুকাটা রোগীদের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ‘নতুন হাসির অঙ্গীকারে’ শীর্ষক এ বিশেষ চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ জন রোগীর অস্ত্রোপচারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ২৩ জুলাই পর্যন্ত। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে যৌথভাবে সহযোগিতা করছে স্মাইল এশিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সাজেদা ফাউন্ডেশন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা কোনো দয়া নয়, এটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি একটি মৌলিক অঙ্গীকার। সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে। শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং উচ্চতর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও হ্রাস পাবে।’

তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতের জনবল বাড়াতে সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিককে একটি সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে। ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে এ সেবা পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক বলেন, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন ভবন নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালে অধ্যাপক পর্যায়ের দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ নবজাতকের মধ্যে একজন ঠোঁট বা তালুকাটা সমস্যাসহ জন্মগ্রহণ করে। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার শিশু এ ধরনের জন্মগত সমস্যায় আক্রান্ত হয়। সময়মতো অস্ত্রোপচার তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করে।’

তিনি বলেন, ‘একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ দিয়ে বিচার করা যায় না। সমাজের অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।’

উপদেষ্টা আরও জানান, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৪৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির পাঁচ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের দক্ষতার পাশাপাশি রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আয়োজকরা জানান, এবারের চিকিৎসা মিশনে বিশ্বের আটটি দেশ থেকে প্রায় ৩০ জন বিশেষজ্ঞ সার্জন, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী অংশ নিয়েছেন। এর আগে গত বছরের একই কর্মসূচিতে ৭৬ জন রোগীর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছিল।

এনএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক