ড্যাবের সমাবেশে আমীর খসরু
‘ক্ষমতায় গেলে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা চালু করা হবে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে যুক্তরাজ্যের এনএইচএসের আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা গতিশীল করতে নতুন কাঠামোতে ইউএইচএফপিও পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন সাব সেন্টারে পদায়ন করা হবে। উপজেলায় তার স্থলে থাকবেন একজন ডেপুটি সিভিল সার্জন। আর মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে বিনামূল্যে নিশ্চিত করা হবে প্রাথমিক চিকিৎসা।
আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফায় আগামীর রাষ্ট্র ভাবনা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপির চেয়ারপারসন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ডা. জিয়া হায়দার।
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী হাসান। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন ও ডা. শেখ ফরহাদ।
দেশে চিকিৎসা ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশের মানুষের প্রাথমিক ভাবনা। আমরা যদি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে দিতে পারি, তাহলে প্রতিমাসে প্রত্যেক পরিবারের পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। রোগীর পকেটের খরচ বাংলাদেশে অনেক বেশি, আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি। কারণ সেভাবে দিতে পারি না। বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে তাদের জীবন যাত্রার মান বেড়ে যাবে। বেঁচে যাওয়া টাকায় পরিবারের খাবার মান বাড়বে, তারা অন্যান্য কাজগুলো করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির ৩১ দফার ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করুন, তাদেরকে জানান, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে সারাদেশের মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা চালু করবে। এ লক্ষ্যে বিএনপি এখন থেকেই পরিকল্পনা কাজ শুরু করেছে।’
‘বিএনপির স্বাস্থ্যসেবার কর্মসূচি দেশের ১৮ কোটি মানুষের পৌঁছে দিতে চিকিৎসকদের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে।
আমীর খসরু বলেন, মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, সবাই খোঁজে—‘আমার জন্য কী আছে’। মানুষ এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা—এগুলো নিয়ে ভীষণ সচেতন।
নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব পূরণ করতে হলে আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এক কোটি মানুষকে চাকরি কীভাবে দেবো, হোমওয়ার্ক করেই বলেছি।’
স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের চাহিদা হলো দেশে কিংবা বিদেশে কর্মসংস্থান। এ কারণে বিষয়টিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মধ্যেও কর্মসংস্থানের অভাব আছে। ১৫-২০ হাজার টাকা বেতনে ডাক্তাররা বিভিন্ন ক্লিনিকে চাকরি করেন। এটা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। এটা অবিশ্বাস্য। এটা অ্যামপ্লয়মেন্ট, তবে আন্ডার অ্যামপ্লয়মেন্ট। এতদিন পড়ে ডাক্তারি পাস করেছে, এতো স্বল্প বেতনে চাকরি করার জন্য না। এটা আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা পেলেই অনেকে সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।’
আঠার মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, দেশের যত মৌলিক সংস্কার, তা সবই ৩১ দফায় আছে। তাই জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সব নেতাকর্মীর উচিত এই ৩১ দফা সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। কারণ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সেক্টর চিহ্নিত করে কাজ শুরু হয়েছে।
বিএনপির কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য শিক্ষা নিয়ে কাজ চলমান আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা খাত তো ধ্বংস হয়ে গেছে। কর্মসংস্থানের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার একটি সম্পর্ক আছে। কারিগরি শিক্ষায় আমাদের মনোযোগ কম। চীনে ষাট ভাগ কারিগরিতে চলে যায়। তারা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কলকারখানা, আইটি সেক্টরে চাকরি করে। তথ্য-প্রযুক্তি বিরাট খাত। পরিবেশ করে দিতে পারলে মেট্রিক পাস করার পর আমাদের তরুণরা গ্রামে বসে কাজ করতে পারবে।’
এ সময় নেতাকর্মীদের সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ বিএনপি নেতা বলেন, গণতন্ত্র থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশকে নিয়ে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ চিন্তা মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে তারেক রহমানের পার্থক্য রয়েছে। তিনি সাংঘর্ষিক রাজনীতি করতে চান না।
ইউনিয়নে থাকবেন ইউএইচএফপিও পদমর্যাদার কর্মকর্তা
অনষ্ঠানে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ড্যাবের উপদেষ্টা ডা. মো. বজলুল গনি ভুঁইয়া। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে ইউএইচএফপিও পদবি চলে যাবে ইউনিয়নে। আর সেখানে তার স্থলে চলে আসবেন একজন ডেপুটি সিভিল সার্জন। এমপিএইচ করা এই জনশক্তি প্রিভেনটিভ ও প্রমোটিং হেলথ কেয়ার সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করবেন।
‘আপনারা জানেন, ইউনিয়ন সাবসেন্টারে যে মেডিকেল অফিসারের পদ আছে, সেখানে এমন একজন মেডিকেল অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সরকারও জানে সে যাবে না, ডাক্তারও জানেন, তার চাকরি করতে হবে না।সুতরাং সেখানে এমন একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পদায়ন করা হোক, যেখানে তার নির্ধারিত দায়িত্ব থাকবে। তার নিরাপত্তা রাষ্ট্র, নির্বাহী কর্মকর্তা নিশ্চিত করবেন। ইউনিয়নের সকল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা তার তত্ত্বাবধানে থাকবেন। ওখানে সে রোগী রেফার করবেন উপজেলায়’—যোগ করেন ডা. বজলুল গনি।
এনএইচএসের আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্যাঙের ছাতার মতো মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, মানহীন চিকিৎসক তৈরি হয়েছে। তখনকার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় লুটপাট ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। মেধার মূল্যায়ন ছিল না, ছিল দলবাজি ও বিভিন্ন রকমের অত্যাচার নির্যাতন। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার আওতায় এসব বন্ধ করে আগামীতে এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে একটি লোকও বিনা চিকিৎসায় মারা না যান। এনএইচএসের আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।’
এমইউ/