‘ওষুধের দাম নির্ধারণ করতে হবে যৌক্তিক হারে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ওষুধ সহজলভ্য করতে যৌক্তিক দাম নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা হালনাগাদের পাশাপাশি সরকারের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডকে শক্তিশালী করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ইউএসসি ফোরাম আয়োজিত নীতি কর্মশালায় এসব দাবি জানানো হয়েছে। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা বিষয়ক এই কর্মশালা আয়োজিত হয়। কর্মশালায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, গবেষক, ওষুধবিজ্ঞানী, জনস্বাস্থ্যবিদ ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
জনগণের কাছে ওষুধ সহজপ্রাপ্যতা, ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ও ওষুধের মূল্য এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিষয়ে আলোচনার জন্য এ কর্মশালার আয়োজন বলে জানিয়েছে আয়োজক সংস্থা। অনুষ্ঠানে অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার পাশাপাশি সরকারের একমাত্র ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডকে শক্তিশালী করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, যারা ওষুধ কিনতে পারে না বা সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ, তাদের কথা মাথায় রেখে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। সরকার এসব ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে তা হবে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যয়ের একটি বড় কারণ ওষুধ। পদ্ধতিগত দুর্বলতা, অনৈতিক চর্চা নাকি অন্য কোনো কারণে ওষুধের দাম বেশি, তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের উপ-পরিচালক তৌহিদ আহমেদ বলেন, ওষুধের প্রসার নৈতিকভাবে হচ্ছে না। পেশাজীবীদের পদে পদে প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এসব না করলে ওষুধের দাম আরও কম হতো।
এ সময় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শর্মিলা হুদা বলেন, সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলো বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে রোগের বোঝা কমবে, বাজারে ওষুধের দামেও স্বস্তি আসবে।
কর্মশালায় একাধিক আলোচক বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের একমাত্র ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
আলোচকরা আরো বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জনবল ও দক্ষতা খুবই কম। তাদের পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি নেই। বাজারে প্রায় ৪০ হাজার ব্র্যান্ডের ওষুধ আছে। কিন্তু অধিদপ্তর বছরে খুবই কমসংখ্যক নমুনার মান পরীক্ষা করতে পারে। অধিদপ্তরের জনবল ও দক্ষতা কয়েক গুণ বাড়ানোর প্রয়োজন বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
দেশ ওষুধের সক্রিয় উপাদান বা অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) উৎপাদনে পিছিয়ে আছে বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেন। তাঁরা বলেন, এপিআই বানাতে না পারলে ওষুধশিল্পে বাংলাদেশের নির্ভরশীলতা কমবে না।
আলোচনায় অংশ নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ওষুধের বিষয়টি দেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব জনগণের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। ওষুধ থেকে লাভ নিশ্চিত করার বিষয়টি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়।
টিআই/এনএআর/
-
২৮ এপ্রিল, ২০২৬
-
০৮ নভেম্বর, ২০২৫
-
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
-
১৮ অগাস্ট, ২০২৫
-
১২ অগাস্ট, ২০২৫
-
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
-
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫