০৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৮:০৮ পিএম

সম্পদের অভাবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

সম্পদের অভাবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না: পরিকল্পনা উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সম্পদের অভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। একই সাথে বৈষম্য কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই অনুষ্ঠিত আয়োজিত হয়। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে এতে ‘দ্য মিডল ইনকাম ট্রাপ’ শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ইন্ডারমিট এস গিল।

এ সময় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। এ খাতে বরাদ্দ দিলে সেটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে। তবে বলা হয় বড় বড় হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বানাতে হবে, ডায়ালাইসিস মেশিন কিনতে হবে। কিন্তু দেখা যায়, দক্ষ অপারেটরের অভাবে এসব যন্ত্রপাতি থাকলেও তা পড়ে থাকে। এখানে এক ধরনের ডিলেমা আছে।

তিনি বলেন, আমরা স্বল্পকালীন সময়ের জন্য এসেছি। তাই সবকিছু করা সম্ভব হবে না। আমরা এখন সম্পদের সংকটে আছি। ফলে বিভিন্ন খাতে কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে পারছি না। কিন্তু আমাদের দেশে বৈষম্য দূর করতে হলে গরিব মানুষদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। তেমনি ধনীদের কাছ থেকে কর আদায় বাড়াতে কর নীতিমালায় সংস্কার আনতে হবে।


এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমরা যে অবস্থায় আছি এতে এলডিসি উত্তরণের বিকল্প নেই। তবে আমরা যেটি করতে পারি সেটি হলো, এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলেও উন্নত দেশগুলোকে বলতে পারি আমাদের সক্ষমতা এখনো বাড়েনি। তাই রপ্তানি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ এবং জিএসপি প্লাস সুবিধা যেন দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আমরা রানা প্লাজা ধ্বসের পর থেকেই জিএসপি সুবিধা পাচ্ছি না। তবে আমাদের শিল্পগুলোকে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শুধু কম মজুরি, নিম্ন প্রযুক্তি ইত্যাদি দিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখলে হবে না।

ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, সরকারের পক্ষে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট করার উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের মতো অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করে ভিয়েতনাম আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তারা ৩০-৪০টি দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট করেছে। আমাদের এখনো একটি দেশের সঙ্গেও এই অ্যাগ্রিমেন্ট হয়নি। আন্তর্জাতিকভাবে যুক্ত হতে না পারলে আমরা টেকসই উন্নয়ন করতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্য দূর করতে হলে আমাদের মানবসম্পদকে দক্ষ করতে হবে। এ দেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৮০ শতাংশ শিক্ষক নেই। আবার সাধারণ শিক্ষায় জেলায় জেলায় এমনকি উপজেলা পর্যায়েও বড় বড় অবকাঠামো হয়েছে।

এ সময় দেশের সব টাকা বাইরে চলে গেছে বলেও উল্লেখ করেন ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। বলেন, বেক্সিমকোসহ বড় বড় কোম্পানিগুলোর ব্যালেন্স শিটে টাকা থাকলেও বাস্তবে দেশে টাকা নেই। সব টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে। ব্যাংকে জনগণ টাকা রেখেছে। কিন্তু ব্যাংকের টাকা দেশে নেই।

গবেষণাপত্র উপস্থাপনকালে বিশ্বব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ইন্ডারমিট এস গিল ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদ’ থেকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অনেক দেশ মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ে আছে। প্রায় ৬০০ কোটি মানুষ আজ এই ফাঁদের শিকার। তারা এই সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। এই মধ্যম আয়ের ফাঁদ থেকে বাঁচতে হলে মেধা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং পুঁজির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় একটি মধ্যম আয়ের দেশে মন্দার সম্ভাবনা তিনগুণ বেশি থাকে। মধ্যম আয়ের দেশে এমনিতেই পুঁজি কম থাকে। আবার যা থাকে সেটিরও ব্যবহার হয় কম।

তিনি আরও বলেন, এই মধ্যম আয়ের ফাঁদ বৈষম্য তৈরি করে। মধ্যম আয়ের দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার কম করে থাকে। অপরদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বেশি হয়। ফলে এসব দেশে কার্য নিঃসরণের মাত্রাও বেশি থাকে। এসব দেশে গবেষণা কম হয়। ফলে অর্থনীতিতে সৃজনশীলতা কম থাকে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটে ৪০ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন

রোগীর চাপ সামলাতে বড় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটে ৪০ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন

রোগীর চাপ সামলাতে বড় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সুস্থতায় সচেতন হওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

প্রতি ১০০ পুরুষের ৮-১০ জন প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক