ড. ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন সরকার চায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলন জুড়ে নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ মঙ্গলবার (০৮ আগস্ট) ভোররাতে এক ভিডিও বার্তায় এই ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবের জন্য তাঁরা ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়েছিলেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সর্বজন গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। তিনি ছাত্র–জনতার আহ্বানে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে এই গুরুদায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন।
তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হোক। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাকি সদস্যদের নামও তাঁরা সকালের মধ্যে ঘোষণা করবেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত মুক্তিকামী ছাত্র–জনতাকে রাজপথে থেকে তাঁদের অভ্যুত্থান রক্ষা করতে হবে। তাঁরা রক্ত দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। তাঁদের যে প্রতিশ্রুতি একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করার জন্য, সেটিকে তাঁদের অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।
এর আগে সারা দেশে সহিংসতা এবং লুটপাট রোধে ওয়ার্ডভিত্তিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা কমিটি গঠনের আহ্বান জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। সোমবার দিবাগত রাত দেড়টায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এ আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় বঙ্গভবন থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে ভারতের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেন শেখ হাসিনা। এ সময় তার ছোট বোন শেখ রেহানা সঙ্গে ছিলেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। শেখ হাসিনা যাওয়ার আগে একটি ভাষণ রেকর্ড করে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি সে সুযোগ পাননি। দুপুরে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রবেশ করেন হাজারো ছাত্রজনতা।
এরপর সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ করে সুন্দর আলোচনা করেছি। সেই আলোচনার প্রেক্ষিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীন দেশের সব কার্যক্রম চলবে।
এ সময় সকল হত্যার বিচারের আশ্বাসও দেন তিনি। বলেন, আপনাদের কথা দিচ্ছি, আশাহত হবেন না। যত দাবি আছে, সেগুলো আমরা পূরণ করব। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসব। আমাদের সহযোগিতা করেন। প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।
এনএএন/