১২ জুন, ২০২৩ ০৫:১৯ পিএম

এক মাস পর ফের চালু হলো বিশ্বের প্রথম ফাইলেরিয়া হাসপাতাল

এক মাস পর ফের চালু হলো বিশ্বের প্রথম ফাইলেরিয়া হাসপাতাল
বিশ্বের প্রথম ফাইলেরিয়া হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গত ৮ মে বন্ধ হওয়ার পর আবারো চালু হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত বিশ্বের প্রথম ফাইলেরিয়া হাসপাতাল। আজ সোমবার (১২ জুন) সকাল থেকে হাসপাতালের চিকিৎসাকার্যক্রম শুরু হয়।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বসহ নানা সমস্যায় ধুঁকে ধুঁকে চলার পর হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৭০০ গোদ রোগী চিকিৎসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ৮ থেকে ১০ জন রোগী চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন। পরে আলোচনা সভায় সকল সমস্যা সমাধান করে হাসপাতালটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের অস্থায়ী আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মান্না চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বলেন, কিছু সমস্যার কারণে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব না হচ্ছিল না দেখে গত ৮ মে পরিচালককে চিঠি দিয়ে হাসপাতাল বন্ধ করার সুপারিশ করি। হাসপাতালের পরিচালক সকল সমস্যা সমাধান করে এক মাস বন্ধ রাখার পর হাসপাতালটি চালু করেছেন। হাসপাতাল চালু হওয়ার খবরে সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার রোগীরা আসছেন চিকিৎসাসেবা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতালের পরিচালক রাকিবুল ইসলাম তুহিন বলেন, হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন স্যার হাসপাতালটি বন্ধ করে সাভারের হাসপাতালটি জমজমাট করার জন্য হাসপাতালের ৬৯.৫০ শতক জমির মধ্যে ইতোমধ্যে ২৯.৫০ শতক জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। বাকি জমিসহ হাসপাতালটি বিক্রয় করার জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। হাসপাতালটি রক্ষার জন্য ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন স্যারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করি। এতে ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন স্যার ক্ষিপ্ত হয়ে তার কিছু এজেন্টের মাধ্যমে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ভুল বুঝিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন।

প্রসঙ্গত, উত্তরের জেলা নীলফামারীসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় ফাইলেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। এ রোগের চিকিৎসার জন্য ২০০২ সালে জাপান সরকারের অর্থায়নে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ এলাকায় ৭৫ শতক জায়গায় যাত্রা শুরু করে ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইম্যুনোলজি অব বাংলাদেশ (আইএসিআইবি) হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে ছিল। হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন ওই সময় স্থানীয়ভাবে ১৮ জন দেশি-বিদেশি চিকিৎসককে নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। জাপান, কানাডা ও বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় দুটি বহুতল ভবন নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। জাপান ও অন্যান্য দেশ থেকেও গবেষণা কর্মীরা আসেন এখানে। তবে ২০১২ সালে হাসপাতালটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে সংকট সৃষ্টি হয়। পরিচালনা কমিটির দ্বন্দ্বে ভেঙে পড়ে সেবা কার্যক্রম। মুখ ফিরিয়ে নেয় দাতা সংস্থাগুলো। এরপর থেকে ধুঁকে ধুঁকে চলছিল হাসপাতালটি।

২০২১ সালের ৩ অক্টোবর সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে টোকেন মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার প্রত্যয়ে সৈয়দপুর ফাইলেরিয়া জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ল্যাব নামে নতুন করে যাত্রা শুরু করে হাসপাতালটি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা লেপরার সঙ্গে বাংলাদেশ প্যারামেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সব ধরনের সহযোগিতা করবে লেপরা বাংলাদেশ। বাংলাদেশ প্যারামেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রাকিবুল ইসলাম তুহিন পরিচালকের দায়িত্ব নেন। এরপর বিভিন্ন জেলা থেকে নতুন করে প্রায় ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক