০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০১:০০ পিএম

অল্প টাকায় পড়ানোর লোভে সন্তানকে অনুমোদনহীন মেডিকেলে ভর্তি করাবেন না

অল্প টাকায় পড়ানোর লোভে সন্তানকে অনুমোদনহীন মেডিকেলে ভর্তি করাবেন না
অনুমোদনহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধে নিজের আপোষহীনতার কথা জানানোর পাশাপাশি উল্লেখ করেন স্বাস্থ্য শিক্ষার উন্নয়নে নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনা।

অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ একজন সফল সংগঠক ও প্রাজ্ঞ একাডেমিশিয়ান। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে একই সঙ্গে নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন দক্ষ স্বাস্থ্য প্রশাসক হিসেবেও।

স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়নে ছুটে চলা কাজঅন্তপ্রাণ এ চিকিৎসক।

নতুন দায়িত্বের অনুভূতি ও দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা ঘিরে পরিকল্পনা জানতে মেডিভয়েস তাঁর মুখোমুখি হয়।

দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন অনুমোদনহীন মেডিকেল বন্ধে নিজের আপোষহীনতার কথা; সেই সঙ্গে জানান, স্বাস্থ্য শিক্ষার উন্নয়নে নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. মনির উদ্দিন। 

নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তির অনুভূতি ও তা যথাযথভাবে পালনে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ বলেন, ‘সরকার আমার ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবো। স্বাস্থ্য শিক্ষার মান উন্নত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো। এটি চূড়ান্ত সততার সঙ্গে সম্পাদনের চেষ্টা চালাবো। এটাই আমার মূল লক্ষ্য।’ 

তিন বিষয়ে গুরুত্বারোপ 

তিনটি বিষয়কে গুরুত্বের কেন্দ্রে রেখে কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে স্বাস্থ্য শিক্ষার নতুন মহাপরিচালক বলেন, ‘যেসব বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করতে চাই, সেগুলো হলো: প্রথমত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়নে শিক্ষক সংকটকে চিহ্নিত করে এর সমাধানে কাজ করা, যাতে শিক্ষক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি। দ্বিতীয়ত, আমাদের কারিকুলামে যেসব নতুন বিষয় সন্বিবেশিত হয়েছে, সেসব বিষয় যেন সঠিকভাবে পড়ানো হয়—সেদিকে যথাযথ মনোনিবেশ করা। তৃতীয়ত, শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বেসরকারি মেডিকেলে কার্যক্রম মানসম্মত উপায়ে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, আমার মেয়াদে ওই দিকে দৃষ্টি দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।’

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে অটোমেশনের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এটা চালু করতে পারলে অনিয়মগুলো অনেকাংশে কমে আসবে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংকটগুলো দ্রুততম সময়ে সমাধান করতেও মাননীয় মন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। 

অনুমোদনহীন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ

অনুমোদনহীন বেসরকারি মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দূর করতে এরই মধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর ফলশ্রুতিতে কেয়ার মেডিকেল কলেজ এ বছর শিক্ষার্থী ভর্তি করেনি। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নিজেদের অক্ষমতার বিষয়টি তারা এরই মধ্যে আমাদেরকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছে। এখন সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মাইগ্রেশন নিয়ে জটিলতা হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো জটিলতা হবে না। আমরা এরই মধ্যে এ রকম দুটি ঘটনা সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পেরেছি এবং তা আমার হাত দিয়েই হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন স্যার নির্দেশনায় কাজগুলো আমি সম্পন্ন করি। এগুলো হলো: রাজশাহীর শাহ মাখদুম ও রংপুরের নর্দান মেডিকেল কলেজ। তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর অনুমতি বাতিল হলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অন্যান্য মেডিকেল কলেজে যুক্ত করে দিই। একই প্রক্রিয়ায় কেয়ার মেডিকেলের শিক্ষার্থীদেরও বিভিন্ন মেডিকেলে মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করা যাবে। তবে এটা নির্ভর করছে আমাদের সঙ্গে কেয়ার কর্তৃপক্ষের ফলপ্রসূ আলোচনা। চিঠির ভাষা অনুযায়ী তারা অগ্রসর হলে দ্রুতই এর সমাধান হয়ে যাবে। সুতরাং মাইগ্রেশন আদৌ কোনো সমস্যা না।’

পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পদক্ষেপ

ভবিষ্যতে বেসরকারি মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের এ রকম পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে অভিভাবকদেরকে কষ্ট করে আমাদের ওয়েবসাইটটা ভিজিট করার অনুরোধ করবো। সেখানে কোন কোন মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তির অনুপযোগী, তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সুতরাং তাঁরা অল্প টাকায় সন্তানকে মেডিকেলে ভর্তি করার লোভে পা না দিলেই এখানে আমরা সফল হবো। প্রিয় সন্তানদের জীবনও সুরক্ষিত হবে। অন্য যেসব মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চালানো স্থগিত করা হয়েছিল, তারা হাইকোর্টের রায় নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সুতরাং কোর্টের রায়ের বিষয়ে তো আমরা কিছু বলতে পারবো না।’

এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে আইনি দিকটা সামলাতে পারে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি জেনে খুশি হবেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগদানের পর ২০২১ সালে অ্যাডভোকেট ইউনুস আলীকে নিয়মিত আইনজীবী হিসেবে আমরা নিয়োগ দিয়েছি। তিনি আদালতে অধিদপ্তরের হয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়াও বিষয়গুলো দেখতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) আইনজীবী আছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী আছেন। সরকারের আইনজীবী আছেন। তারা সবাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সমন্বয়ের কিছুটা ঘাটতি আছে। আমাদের আইনজীবী থাকাতে সম্প্রতি নাইটিঙ্গেল মেডিকেল নিয়ে আইনি বিষয়গুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। অনুমোদনহীন বেসরকারি মেডিকেল ইস্যুতে আইনগত দিক থেকে আমরা খুবই ইতিবাচক অবস্থানে আছি। সুতরাং আমি মনে করি, আইনজীবী যত অনুজই হোন না কেন, এজলাস চলাকালীন তিনি উপস্থিত থাকলেই আমাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। অনুমোদনহীন কলেজগুলো কুলাতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগদানের পরে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন স্যারের সঙ্গে দেখা করি। তিনি সমস্ত প্রক্রিয়া আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাইলেই সব কিছু পেরে উঠি না। আমাদের আশা, অনুমোদনহীন মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধে আমরা সক্ষমভাবে আদালতে লড়বো। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আজকে যেই বিষয়টি আবেদন করি, দেখা যাবে এটি ছয় মাস পর উঠবে। তত দিনে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা গেলো, আমাদের অজান্তেই শুনানিই হয়ে গেলো। ফলে তারা (অনুমোদনহীন মেডিকেল কলেজ) এক তরফা আদেশ পেয়ে যায়।’

ক্যারিঅন নিয়ে যা বললেন 

ক্যারিঅন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য শিক্ষার নতুন ডিজি বলেন, ‘আমাদের সময় ক্যারিঅন ছিল না। প্রতি পাঁচ থেকে দশ বছর পর পর দেশে কারিকুলাম পরিবর্তন হয়। সর্বশেষ সময়টাতে ক্যারিঅন ছিল। তখন বিভিন্ন পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে আমরা উপলব্ধি করি, মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যাটা কোথায়? এর ফলে ২০১৯ সালে যখন নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ শুরু হলো, তখন এ বিষয়টি উঠিয়ে দেওয়ার মত আসে। এটা কিন্তু একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। দেশের সকল বড় বড় অধ্যাপক এতে অংশ গ্রহণ করেন এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশন কারিকুলামটি তৈরি করেছে। দশ বছর যে কারিকুলাম ছিল, এর অভিজ্ঞতার আলোকেই আমাদের শিক্ষকগণ মনে করেন, এতে বিভিন্ন বিষয়ের সন্নিবেশ ঘটানো উচিত।’

নতুন কারিকুলামে যোগ হওয়া ক্যারিঅন পদ্ধতি বাতিলের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ক্যারিঅন না থাকার বিষয়টি শুধু প্রথম প্রফে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ প্রথম প্রফেশনালে কোনো শিক্ষার্থী ফেল করলে ক্যারিঅন করতে পারবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রফেশনালে কিন্তু এটা নেই। সুতরাং ক্যারিঅন পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে, বিষয়টি তা না। ফার্স্ট প্রফে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োক্যামিস্ট্রি—কঠিন ও মৌলিক বিষয়গুলো থাকে। এসব বিষয় পাস না করে বের হয়ে গেলে অন্য দিকে মনোযোগ দেওয়া যায় না। 

তবে পুরো বিষয়টিই এখন বিএমডিসির নিয়ন্ত্রণাধীন জানিয়ে তিনি বলেন, এটা তাদের সম্পত্তি। তারা এটি পাস করেছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর এটি আর নির্ভরশীল নয়।

শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা 

মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ বলেন, ‘আমাদের এখন যে পরিমাণ মেডিকেল কলেজ হয়েছে, তা পর্যাপ্ত। বেসরকারি পর্যায়ে আর একটি মেডিকেলও বাড়ানো উচিত হবে না। এখন মানের ওপর জোর দেওয়া উচিত। এজন্য অবশ্য আমাদের কাজ অব্যাহত আছে। এরই অংশ হিসেবে আমরা একটি অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড করেছি, যা ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের মেডিকেল শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি এনে দেবে। আমাদের উচিত উন্নত দেশগুলোর শিক্ষার আলোকে বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করা।’

‘সারা পৃথিবীতে সিমুলেশন ল্যাব থাকে, যা দেশে এতো দিন ছিল না। আগামীতে হয় তো মৃতদেহ পাওয়া যাবে না। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ইউরোপ-আমেরিকায় সিমুলেশন বডির বিভিন্ন অঙ্গের ওপর শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হয়। এর কল্যাণে মেডিকেল শিক্ষা খুব সহজ হয়ে গেছে। আমরা এ বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজসহ দেশের আটটি মেডিকেল কলেজে সিমুলেশন ল্যাব চালুর নির্দেশ দিয়েছি। অল্প দিনের মধ্যে তা হয়ে যাবে’, যোগ করেন তিনি।

সংগঠক হিসেবেও সমুজ্জ্বল 

তৃণমূল থেকে দেশের বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠক হিসেবে আলো ছড়িয়েছেন অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ খসরু। একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে বিপিএর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ সময়ে পেডিয়াট্রিক্স বিষয়ে পদ সৃষ্টি এবং ঢাকার মিরপুরে বিপিএ ভবন নির্মাণে রাখেন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।

মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়নে ছুটছেন দিন-রাত

অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ খসরু ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে যোগ দেন। এর পর থেকে দেশের মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়নে ছুটে চলেছেন দিন-রাত। একাধিক মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

শিক্ষার মানের বিষয়ে আপোষহীন এ স্বাস্থ্য প্রশাসক মেডিকেল কলেজের যে কোন সংকটে ছুটে চলছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, করছেন সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান।

বর্ণাঢ্য জীবন

১৯৬৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন এ কে এম আমিরুল মোরশেদ। উপজেলা সদরে জজ হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও পাংসা উপজেলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এর পর ১৯৮১-৮২ সেশনে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে (সিওমেক) ভর্তি হোন। সেখান থেকে ১৯৮৮ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৯২ সালে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) থেকে কমিউনিটি মেডিসিনের ওপর ডিপ্লোমা ডিগ্রি নেন। 

১৯৯৭ সালে শিশুদের ওপর এমসিপিএস ডিগ্রি নেন। একই বছর নবম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তিনি। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় সহকারী সার্জন হিসেবে চাকরি শুরু করেন। 

এর পর ২০০৪ সালে পেডিয়াট্রিক্সে এমডি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে শিশু হেমাটলজি এবং অনকোলজির ওপর এমডি করেন।

শিশু বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে রাজবাড়ি জেলা হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১০ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে দায়িত্ব পালনের সময় সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১৭ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজির বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পান। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত