১৭ জুন, ২০২২ ০৪:৩৫ পিএম

উত্তর কোরিয়ায় নতুন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব

উত্তর কোরিয়ায় নতুন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব
‘একিউট এন্টেরিক’–এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত সারিয়ে তুলতে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে বুধবার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর নগরী হায়েজুতে ওষুধ পাঠিয়েছেন উত্তর কোরিয়া নেতা কিম জং-উন।

মেডিভয়েস ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ায় করোনাভাইরাস মহামারির পাশাপাশি দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ‘একিউট এন্টেরিক’ নামে অন্ত্রের অজ্ঞাত আরেকটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ’র ররাদ দিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স থেকে এ তথ্য জানায়।

কেসিএনএ জানায়, ‘একিউট এন্টেরিক’–এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের যত দ্রুত সম্ভব সারিয়ে তুলতে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে বুধবার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর নগরী হায়েজুতে ওষুধ পাঠিয়েছেন উত্তর কোরিয়া নেতা কিম জং-উন। তবে এ প্রতিবেদনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বা রোগটির ধরন নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ইউনিফিকেশন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, খুব সম্ভবত সেখানে কলেরা বা টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বিষয়টি গভীর মনযোগের সঙ্গে নজরদারি করছে বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, জীবাণু থেকে ‘একিউট এন্টেরিক’ রোগ ছড়ায়। দূষিত খাবার ও পানি, আক্রান্ত রোগীর সরাসরি সংস্পর্শে এলে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আক্রান্ত প্রাণী কিংবা এর পরিবেশের সংস্পর্শে এলে জীবাণুর মাধ্যমে রোগটি ছড়াতে পারে।

প্রতিবেদনে কেসিএনএ জানায়, শুরুর দিকেই এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছেন কিম। রোগটি ছড়িয়ে পড়া সম্পূর্ণভাবে দমিয়ে রাখতে সন্দেহভাজন আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে নির্ভুল পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তিনি। 

মহামারিসংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তর কোরিয়া নেতা।

এমন সময় নতুন এই রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা জানানো হলো, যখন প্রথমবারের মতো কোভিড-১৯ সংক্রমণের ব্যাপকতা মোকাবিলা করছে উত্তর কোরিয়া। গত মাসে দেশটি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আজ আরও ২৬ হাজার মানুষের জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এপ্রিলের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪০ লাখ ৫৬ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। এই মহামারিতে এখন পর্যন্ত ৭৩ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে।

পিয়ংইয়ং প্রতিদিনই জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা জানিয়ে আসছে। তবে তাদের কোভিড রোগী বলা হচ্ছে না। কোভিড শনাক্তে টেস্টিং কিটের অভাবেই এমনটা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের সংশয় রয়েছে।

উত্তর কোরিয়া বলছে, কোভিড সংক্রমণের ঢেউ কমে আসার লক্ষণ দেখা গেছে। তবে চলতি মাসের শুরুতে পিয়ংইয়ংয়ের করা এই দাবি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে বলেই তারা মনে করছে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও