১১ জুন, ২০২২ ০৫:০০ পিএম

নোটিস ছাড়াই বরখাস্ত করা হয় বেসরকারি চিকিৎসকদের: বিএমএ

নোটিস ছাড়াই বরখাস্ত করা হয় বেসরকারি চিকিৎসকদের: বিএমএ
চিকিৎসকরা বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সমূহে কর্মরত চিকিৎসকের জন্য সরকার প্রদত্ত চাকুরীর বিধিমালা নেই। বেতন বৈষম্য, পূর্ব নোটিস ছাড়াই চাকুরী হতে বরখাস্ত করাসহ বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসকেরা নানা সমস্যায় জর্জরিত।’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের বেসরকারি পর্যায়ের চিকিৎসকরা নানা সমস্যায় জর্জরিত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নেতারা। শুক্রবার (১০ জুন) বিএমএ’র খুলনা বিভাগীয় চিকিৎসক সমাবেশে এই মন্তব্য করেন তাঁরা।

চিকিৎসকরা বলেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ ভাগ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসমূহে কর্মরত চিকিৎসকের জন্য সরকার প্রদত্ত চাকরির বিধিমালা নেই। বেতন বৈষম্য, পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরি হতে বরখাস্ত করাসহ বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসকেরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। অবিলম্বে এ সকল সমস্যা নিরসন করা জরুরি।’

তারা আরও বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীর সেবার দায় শুধুমাত্র চিকিৎসকের নয়, বরং তার জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং উপযুক্ত জনবল। বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় অধিক সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেওয়া হলেও সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগদানের বিষয়টি আমলাতন্ত্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভরশীল হয়ে ঝুলে আছে। অবিলম্বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, আনুপাতিক হারে চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে হবে।’

বিএমএ নেতারা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুষ্পষ্ট নির্দেশনা এবং দেশের সংবিধানের সুষ্পষ্ট রূপরেখা অনুযায়ী আন্তঃক্যাডার বৈষম্যের সকল বিষয় সুরাহা করে অনতিবিলম্বে চিকিৎসা ক্যাডার আনুপাতিক প্রথম, দ্বিতীয় গ্রেডসহ অন্যান্য ক্যাডার পদ সৃষ্টি করতে হবে। সকল ক্যাডারের একই গ্রেডের সকল কর্মকর্তার সমান পদমর্যাদা ও সুযোগ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপার নিউমারি পদ অবিলম্বে সৃষ্টি করতে হবে।’ 

একই সঙ্গে সমাবেশে ‘ক্যাডার যার, মন্ত্রণালয় তার’ এই স্লোগান বাস্তবায়নেরও দাবি জানান দেশের চিকিৎসক নেতারা।

সমাবেশে চিকিৎসকরা বলেন, ‘ক্যাডার যার, মন্ত্রণালয় তার। এই সত্য যতক্ষণ প্রতিষ্ঠিত না হয়, ততোক্ষণ চিকিৎসা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং রোগী ও চিকিৎসাবান্ধব চিকিৎসা-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব নয়। সরকার অবিলম্বে এই সত্য উপলব্ধি করবে এবং কৃত্যপেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করবে।’

তাঁরা আরও বলেন, ‘চিকিৎসা-ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার জন্য রোগী ও তার স্বজনদের মধ্যে যে বিপুল ক্ষোভের জন্ম হয়, তার কোনো দায়ই ব্যক্তি চিকিৎসকের না হলেও, প্রতিনিয়তই ক্ষুব্ধ রোগী ও তার স্বজনদের দ্বারা চিকিৎসকরা আক্রান্ত হয়ে চলছেন। কর্মস্থলে চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করা নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রোগী আর তার স্বজনদের হাতে মারাও গেছে অনেক চিকিৎসক। এভাবে আর চলতে পারে না কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করলে, চিকিৎসকেরা আমলাতন্ত্রের অপকৌশল অবশ্যই মোকাবেলা করবে। তাতে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তার পুরো দায় কেবল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। অনতিবিলম্বে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।’ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
এনডিএফের কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মত

দুর্নীতির লাগাম না টানলে বড় বরাদ্দেও সুফল মিলবে না

এনডিএফের কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মত

দুর্নীতির লাগাম না টানলে বড় বরাদ্দেও সুফল মিলবে না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক