ডা. রিফাত আল মাজিদ

ডা. রিফাত আল মাজিদ

প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ক্যান্সার কেয়ার এন্ড রিসার্চ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ।
ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর, র‍্যামফিট মেডিকেল কনসাল্টেশন সেন্টার, মগবাজার, ঢাকা। 


৩১ মে, ২০২২ ০৪:০৫ পিএম

তামাকমুক্ত পৃথিবী ও আমাদের তরুণ সমাজ 

তামাকমুক্ত পৃথিবী ও আমাদের তরুণ সমাজ 
তামাক এক প্রকার মাদক বা তার চেয়েও খারাপ কিছু এতে সন্দেহ নেই। ছবি: সংগৃহীত

মাদক দ্রব্যের মধ্যে যতগুলো উপাদান বা বস্তু আছে তার মধ্যে তামাক কিছুটা ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রম শুধু তার কেমিক্যাল গঠন বা অন্য কোনও কারণে নয়। এটি মূলত অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও সংস্কৃতির একটা অংশ মাত্র। অনেক আগে থেকেই এ দেশের মানুষ তামাকের বিভিন্ন রকমের ব্যবহারে অভ্যস্ত। শহরের তুলনায় গ্রামেও এর প্রভাব, জনপ্রিয়তা, মার্কেটিং কোনও দিক থেকেই কম নেই। এটি এমন একটি মাদক, যা প্রকাশ্যে সবাই গ্রহণ করেন, কিন্তু লজ্জিত হয় না, বরং আরো গর্ব করে সবার সামনে তামাক জাতীয় মাদক দ্রব্য সেবন অনেকটা বাহাদুরির পর্যায়ে চলে গেছে। অনেকে আবার একে মাদক দ্রব্য মানতেই নারাজ!

এ নিয়ে জ্ঞানীজন থেকে শুরু করে চায়ের দোকানেও চলে বিস্তর বিতর্ক এবং যুক্তি পাল্টা যুক্তির ঢেউ। তামাক যে এক প্রকার মাদক বা তার চেয়েও খারাপ কিছু, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের সমাজে বহুকাল আগে থেকেই এটি সহজলভ্য এবং সুপরিচিত। তরুণরা একটু বড় হলেই এই তামাকের বানানো সিগারেট বা বিড়ি মুখে নিতে উদগ্রীব থাকে। নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন আর নতুন কিছুর স্বাদ গ্রহণ করে তারা বুঝতে চায় এবং বোঝাতে চায়, এরা বড় হয়েছে। বাবা-চাচা-মামাদের দেখে আসছে কীভাবে উনারে এসব সেবন করছেন!

এ রকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে বেড়ে ওঠা তরুণ সমাজকে এসব ক্ষতিকর দ্রব্য থেকে দূরে রাখা বা তাদেরকে এসব ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যত ক্ষতির ভয় দেখিয়ে বিরত রাখা অনেকটা অসম্ভব মনে হয়। তবে যারা সচেতন অভিভাবক কিংবা যাদের পরিবার-পরিবেশ সুন্দর, পরিবারে নীতি-নৈতিকতার চর্চা আছে তাদের জন্য ব্যাপারটা খুব সহজ। এসব পরিবারের ছেলে মেয়েরা বাজে বস্তুর নেশায় খুব একটা পড়ে না, আবার পড়লেও তাদেরকে তুলে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু অভিভাবক সচেতন না হলে কিংবা তিনি যদি নিজেই ধূমপায়ী বা মাদকসেবী হন, তাহলে নিজের সন্তানকে এসব থেকে দূরে রাখার নৈতিক শক্তি রাখেন না।

তাই এসব মাদক বা তামাক জাত পণ্য ই-সিগারেট থেকে শুরু করে অন্যান্য তামাক পণ্যের ব্যবহার যেন তরুণদের গ্রাস করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সবাইকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে তামাক পণ্যের কর বৃদ্ধি, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের যুগোপযোগীকরণ, পাঠ্যসূচিতে তামাক ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহের বিস্তারিত বিবরণসহ নিবন্ধন যুক্ত করা এবং তামাক কোম্পানিগুলোর প্রক্রিয়াজাত, বাজারজাতসহ সকল ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

তাই রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগতভাবে সবার উচিত আমাদের তরুণদের স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে মাদক ও তামাকের মতো ভয়াবহ এই মহামারি থেকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করা। সেই সঙ্গে ‍সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত