টিকা নেওয়ার পর বিশিষ্টজনদের অবস্থা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারাদেশে একযোগে টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশে করোনার বিরুদ্ধে সম্মুখ সারিতে কাজ করা চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবীণদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রধান বিচারপতি, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সরকারেরর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সচিব ও বিশিষ্টজনেরা টিকা গ্রহণ করেছেন।
ভ্যাকসিন নিয়ে সংশয়, নানা গুজব ও আশঙ্কার মধ্যেই রাষ্ট্র ও সামাজের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশিষ্টজনদের অনেকেই টিকা গ্রহণ করেছেন। যা দেশবাসীকে টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করছে। একইসঙ্গে মানুষের মনে কৌতুহল তৈরি হয়েছে যে, টিকা গ্রহণের পর কেমন আছেন সেই বিশিষ্টজনেরা? 
গণহারে টিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা গ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আরও ৫৫ বিচারপতি করোনার টিকা গ্রহণ করেন।
টিকা গ্রহণের পরদিন স্ব-শরীরে বিচারকার্যেও অংশগ্রহণ করে তিনি বলেন, টিকা নেয়ার পর তিনি ভালো আছেন। অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে টিকা প্রদান কার্যক্রমের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এই ভার্চুয়াল শুনানিতে উপস্থিত আইনজীবীসহ দেশবাসীকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই দিনে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে টিকা গ্রহণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি জানান, টিকা নিয়ে তিনি ভালো আছেন। তাঁর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। টিকা নেয়ার পর তিনি আরও শক্তিশালী অনুভব করছেন। কোনো ধরনের সমস্যা বোধ করছেন না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম, আজ আমাদের আনন্দের দিন। আর টিকা নিয়ে যেন কোনো গুজব না হয়।’ এ সময় দেশবাসীকে নির্ভয়ে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্য সচিব মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমি টিকা গ্রহণের পর কোনো অস্বাভাবিকতা অনূভব করছি না। আমি আগে যেমন ছিলাম এখনও তেমনই আছি।’
এ সময় বাংলাদেশের ৪৮০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ কার্যক্রম চলবে জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব সাধারণ জনগণকে কোনো গুজবে কান না দিয়ে টিকা গ্রহণের আহ্বান করেছেন তিনি।
বিএসএমএমইউতে টিকা গ্রহণ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘ভোট উৎসবের মতই টিকাদান উৎসব চলছে। টিকাদান কর্মসূচি আসলেই উৎসবে পরিণত হয়েছে। আমি অনুরোধ করব আমার ভোটারদেরকে, আপনারা প্রত্যেকে যার যার এলাকা থেকে এই টিকা গ্রহণ করুন।’
টিকা গ্রহণের পর সুস্থ্য আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনটা নেওয়ার পর এই মুহুর্তে নিজেকে নিরাপদ মনে করছি। আমার মনে হয় এই যে বিশ্বব্যাপী করোনার ছোবল, সেখানে থেকে আমি পুরোপুরি মুক্ত, এইটুকু বিশ্বাস আমার মধ্যে জন্ম হয়ে গেছে।’
বিএসএমএমইউ ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া করোনর টিকা নেন গত ২৮ জানুয়রি। টিকা পরবর্তি অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আগে যেভাবে দৈনন্দিন কাজ করতাম, সেভাবেই দিনের সব কাজ করে যাচ্ছি। আমার অডিটোরিয়ামে কোভিড ভ্যাকসিনের ওপর একটি সেমিনার চলমান আছে, আমি সেখানে অংশগ্রহণের জন্য সিঁড়ি বেয়ে উঠেছি। আমার কোনো ধরনের অসুবিধা হচ্ছে না।’
টিকা নেয়া সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার টিকা নেওয়া দেখে মানুষ আস্থা পাবে, সাহস পাবে। টিকা নিয়ে মানুষের মনে সংশয় ছিল। এটা কেটে যেতে শুরু করেছে।’ মানুষের মনের সংশয় দূর করাই তাঁর লক্ষ্য ও প্রত্যাশা বলে জানান তিনি।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘টিকা নেওয়ার পর আমি ভাল আছি। অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে টিকা প্রদান কার্যক্রমের ব্যবস্থা করেছে সরকার। আপনারাও টিকা নিন।’
টিকা গ্রহণের পর জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক ডা. মুহিত কামাল এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘টিকা নেওয়ার পর প্রথম ভোরে স্বাগত জানাচ্ছি সবাইকে। ভালো আছি, ভালো ঘুম হয়েছে। প্রতিদিনের মতো এক ঘন্টা লেখালেখিও করেছি।’