২৪ জুন, ২০২০ ০২:২৭ পিএম

করোনায় চিকিৎসক মৃত্যু হারে শীর্ষে বাংলাদেশ

করোনায় চিকিৎসক মৃত্যু হারে শীর্ষে বাংলাদেশ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মৃত্যু হারে শীর্ষে বাংলাদেশ। বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠনের তথ্য মতে দেশে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, যা মোট মৃত্যুর শতকরা ৪ ভাগ। 

সারা বিশ্বে করোনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত এবং মৃত্যুবরণ করলেও বাংলাদেশে এ হার সর্বোচ্চ। বিশেষেজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে এ ভাইরাস চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) তথ্য মতে গত দুই সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। গত ২০ জুন পর্যন্ত ৪৫ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। 

এ বিষয়ে বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০ চিকিৎসক, ৯০১ নার্স ও ১ হাজার ৩৬০ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ানসহ মোট ৩ হাজার ৩০১ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা করোনা ডেডিকেটেড ও অন্যন্য সাধারণ হাসপাতাল চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে স্বাস্থ্যখাতের অন্যান্য সংগঠনের তথ্যমতে সংখ্যাটা আরও বেশি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অধিক হওয়ার প্রধান কারণ সংক্রমণ রোধে নিরাপত্তা সামগ্রীর ঘাটতি, হাসপাতাল অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সামগ্রির সঠিক ব্যবহার না জানা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি। এছাড়াও রোগীদের করোনার উপসর্গ গোপন করে চিকিৎসা গ্রহণ এবং রোগীদের অসচেতনতা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিক সংক্রমণ ও মৃত্যু হারের অন্যতম প্রধান কারণ।

দেশে চিকিৎসকদের অধিক মৃত্যুহারের কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক পরামর্শক মাজহারুল হক বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার হার বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। চিকিৎসক নার্সসহ প্রায় ৪ হাজার ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গত এক মাসে প্রায় ৫০ জন চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছেন। 

যেখানে সারা বিশ্বে চিকিৎসক মৃত্যুর গড় হার শতকরা ২.৫ ভাগ। করোনায় বিপর্যস্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি সর্বোচ্চ সংখ্যক চিকিৎসকের মৃত্যু দেখেছে, যদিও তা মোট মৃত্যুর শতকরা ৩ ভাগ। অথচ আমাদের দেশে তা শতকরা ৪ ভাগ।

তার মতে এর প্রধান কারণ দেশি চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই করোনা রোগীদের সংস্পর্শে আসছেন। নিম্নমানের পিপিই ,মাস্ক ইত্যাদি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ যদিও সমস্যাগুলো বহুলাংশই সমাধান করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের অধিকাংশ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনা রোগী দেখা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়। যে অল্প সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্সকে অনলাইনে করোনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে তা দেশের মোট করোনা আক্রান্ত রোগী এবং জনসংখ্যার তুলনায় অপর্যাপ্ত। 

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকে তা ক্রমেই বেড়ে চলছে। এখন পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ১৯ হাজার ১৯৮ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন এক হাজার ৫৪৫ জন। তবে সুস্থ হয়েছেন ৪৭ হাজারেরও অধিক মানুষ। এর একটা বড় অংশ দেশের করোনা যোদ্ধা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসকের মৃত্যু
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি