১৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:১৭ পিএম
মেডিভয়েসকে ঢাবির দ্বিতীয় প্রফে প্রথম সুদীপ্ত

সহপাঠীদের সঙ্গে দলগত অধ্যয়ন পরীক্ষায় এগিয়ে দেয়

সহপাঠীদের সঙ্গে দলগত অধ্যয়ন পরীক্ষায় এগিয়ে দেয়
সুদীপ্ত সাহা।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গত ৪ মার্চ প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ কে-৮০ ব্যাচের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত সাহা।

ঈর্ষণীয় সাফল্য নিয়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয় মেডিভয়েসের। মুঠোফোনে প্রাণখোলা আলোচনায় প্রফে চমৎকার ফলাফলের কৌশল জানানোর পাশাপাশি তুলে ধরেন মেডিকেল শিক্ষার নানা অসঙ্গতি এবং সমাধানে দেন একাধিক মত।

অনার্সের আশাবাদ থেকে প্রফে প্রথম

দ্বিতীয় প্রফে প্রথম হয়েছেন, কেমন লাগছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এতোটা ভালো হবে চিন্তা করিনি। পরীক্ষা দেওয়ার পর মনে হয়েছিল ফলাফল মোটামুটি ভালো হবে। কিন্তু ফার্স্ট হবো ভাবিনি। অনার্স পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম। ধরেন নিয়েছিলাম, দুই সাবজেক্টে অনার্স পাবো। কিন্তু এতো চমৎকার ফলাফলের বিষয়ে ভাবিনি। অনেক ভালো লাগছে।’

পড়াশোনার কৌশল কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেডিকেল কলেজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত হওয়া। প্রতি দিন পড়াশোনা করার মানসিকতা ও প্রেরণা ধরে রাখা বেশি প্রয়োজন। মেডিকেলের বাইরে অন্যান্যদের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, তাদের এভাবে প্রতিদিন উদ্দীপনা ধরে রাখা ও পড়াশোনা করতে হয় না। প্রতিদিন একইভাবে সকাল সাতটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত ক্লাস, এর পর নিজের পড়াশোনা, প্রত্যেক দিন আইটেম—এইগুলো চালিয়ে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং কষ্টসাধ্য। দিন শেষে নিজের সাথে যেন বলা যায় যে, কিছু একটা আমি করেছি।’

সহপাঠীদের সঙ্গে দলগত অধ্যয়ন

চমৎকার ফলাফলের পেছনে সহপাঠীদের কৃতিত্ব দেন সুদীপ্ত সাহা। বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেলে আমার কে-৮০ এর ব্যাচমেট যারা আছেন, তাদের মধ্যে আমি খেয়াল করেছি, তারা সবাই মোটামুটি নিয়মিত। খুব বেশি ভালো না করলেও তারা সবাই মোটামুখি পড়াশোন করে। ক্লাসেও নিয়মিত যায়। এ কারণেই ফলাফল সম্ভব হয়েছে। আর আমার ফলাফলের জন্য যদি বলি, আমার দুইজন রুমমেট ছিল, এর মধ্যে অনিক রয় সপ্তম হয়েছে। আরেকজন এহতেশামুল হায়দার, যার ক্লাস রোল সাত, গত প্রফে তিন বিষয়ে অনার্স পেয়েছিল—এই তিনজন মিলে গ্রুপ স্টাডি করতাম। পরীক্ষার সময় ফার্মাকলজি, ফরেনসিক মেডিসিনের অনেক বিষয় অনেকের কাছে কঠিন মনে হয়েছে, আমার মনে হয়, তারা বিষয়টি একা একা পড়েছে কিংবা অতটা গভীরভাবে চিন্তা করতে পারেনি। আমরা তিনজন মিলে এসব বিষয় খোলামেলা আলোচনা করেছি। ফলে যে আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয় তা ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হতে অনেক সহায়ক হয়। এটা আমাদের ভালো ফলাফলের ক্ষেত্রে অনেক ভূমিকা রেখেছে।’

এ ক্ষেত্রে সহপাঠীদের কারও ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপের শিকার হওয়া লাগে কিনা, এমন প্রশ্নে সুদীপ্তর সারল্যমাখা নিঃসংকোচ জবাব, ‘অনেকে একটা জিনিস অনেকভাবে নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমি সৌভাগ্যবান যে, আমার বন্ধু যারা আছে, তাদের মধ্যে শেখার আগ্রহ অনেক বেশি। কে শেখাচ্ছে এটা তাদের কাছে বড় বিষয় না। আমিও যখন আমার বন্ধুর কাছ থেকে কিছু শিখি, তখন ভাবি না যে, সে আমার ক্লাসমেট, সে আমাকে কিছু একটা শেখাচ্ছে। আমি বরং মনে করি, সে একটা বিষয় কষ্ট করে শিখেছে, এটা আমাকে শেখাচ্ছে; এটাই আমাদের কাছে বড় বিষয়। আমাদের এ-ওয়ান ব্যাচের ৮-১০ শিক্ষার্থী এক সময় একটা রুমে থাকতাম, সবাই এই মানসিকতার। কে শেখাচ্ছে এটা বড় বিষয় না, শেখাচ্ছে এটাই বড়। একজন রোগীও শেখাতে পারে।’

‘সবচেয়ে বেশি অবদান শিক্ষকদের’

শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ সুদীপ্ত বলেন, ‘মেডিকেল কলেজে আমরা যে একটা কঠিন সময় ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, প্রতিদিনের পরীক্ষার পরও যে আমরা টিকে আছি, এর পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান আমাদের শিক্ষকদের। কয়েক ছাড়া বেশিরভাগ শিক্ষকই বন্ধুসুলভ। আমাদের কোনো সমস্যাকে তারা বড় না করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেন। দেখা গেল অনেকে আইটেম দিচ্ছে না, ক্লাস-ক্যাম্পাস থেকে উধাও হয়ে যায়, তাদের খোঁজ-খবর নেওয়া এবং পড়াশোনার স্রোতে ফিরিয়ে আনা—এগুলো মেডিকেল কলেজের শিক্ষকরা করেন। অন্যান্যদের কথা বলতে পারি না। কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা ও নির্দেশনা দেন। কেন একজন শিক্ষার্থী পারছে না, এটা বোঝার চেষ্টা করেন। এমনকি কোনো একটি বিষয়ে কেউ গভীরভাবে জানতে চাইলে শিক্ষকরা সেখানেও সহযোগিতা করেন। সুতরাং তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো এ ব্যাপারে কিছু ঠিক করা হয়নি। তবে কার্ডিওলজির ওপর অনেক আগে থেকে আগ্রহ ছিল। দেখা যাক, কী হয়! তবে এখানেই যাবো এটা নিশ্চিত না।’

এই বিষয়ের ওপর ভালোবাসা কাজ করার কারণ জানিয়ে সুদীপ্ত বলেন, ‘আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়তাম, তখন মেডিকেলের ওপর আগ্রহ তৈরি হয়। সেখানে রিং ও ভাল্ব প্রতিস্থাপন, বাইপাস সার্জারির ওপর পড়াশোনার সময় ভালো লাগছিল। এভাবে মেডিকেলের ওপর আগ্রহ তৈরি হয়।’

পড়াশোনা

সুদীপ্ত সাহা নাটোর সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২০ সালে এসএসসি পাস করেন। পরীক্ষায় অর্জন করেন গোল্ডেন এ প্লাস। পরে একটু ভালো করার আশায় রাজশাহী নিউ গভমেন্ট ডিগ্রি কলেজ ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০২২ সালে গোল্ডেন এ প্লাস নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। ২০২৩ সালে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জাতীয় মেধায় ১৬তম স্থান অর্জন করেন। ওই বছর ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় হন সুদীপ্ত।

বেড়ে ওঠা

তার বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায়। বাবা সুধাম কুমার সাহা কলেজের সহকারী লাইব্রেরিয়ান এবং মা রীমা রাণী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষিকা। পরিবারের একমাত্র সন্তান সুদীপ্ত সাহা।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত