এনডিএফের ইফতারে জামায়াত আমীর
‘আরোগ্যের পাশাপাশি প্রশান্তির খোঁজে চিকিৎসকের কাছে আসেন রোগীরা’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: মানবসেবাকে ইবাদত সমতুল্য উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চিকিৎসকরা শুধু পেশাজীবী নন—তারা মানুষের বিপদ-আপদ, অসুস্থতা ও সংকটময় মুহূর্তে নির্ভরতার জায়গা। তাদের কাছে আরোগ্যের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তির খোঁজে রোগীরা আসেন; আর সেই আন্তরিক সেবার মধ্যেই নিহিত থাকে দুনিয়া ও আখেরাতের সম্মান। জামায়াত আমীর সততা, বিবেকবোধ, দায়বদ্ধতা ও আল্লাহভীতির সঙ্গে চিকিৎসায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একজন অসুস্থ মানুষের সেবা মানেই আল্লাহর হক আদায়। চিকিৎসকদের মানবিকতা ও আদর্শিক চর্চাই সমাজে নিরাপদ ও প্রশান্তির পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।
আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।
ইফতার মাহফিলে আগত চিকিৎসকদের লক্ষ্য করে জামায়াত আমীর বলেন, ‘এখানে যারা আছি, তারা সবাই সৌভাগ্যবান যে মানুষ যখন বিপদে পড়ে, অসুস্থ হয়, আহত হয়—তখনই আমাদের কাছে আসেন। আসার পর যে মানুষটা আমাদের কাছে শান্তি পাবে, আরাম পাবে, আন্তরিক চিকিৎসা সেবা পাবে, ... তিনি মুখ দিয়ে বলুক, বা না-ই বলুক, সেই মানুষের দোয়া আপনি (চিকিৎসক) পাবেন। আমরা সেই মানবিক জায়গাটা তৈরি করতে পারি কিনা? আল্লাহ আমাদেরকে যে বিবেক দিয়েছেন, সে বিবেক অনুযায়ী, আমরা দুনিয়ার সামনে একটি আদর্শ স্থাপন করতে পারি কিনা?’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পশ্চিমা বিশ্বের লোকেরা বলে ডক্টরস নেক্সট টু দ্য গড। মালিক জীবন দেন আর ডাক্তার জীবনটা সুস্থ রাখেন। তারা দুটি জায়গায় গেলে নিজেদের নিরাপদ মনে করেন। একটা হাসপাতাল আরেকটা পুলিশ। আমরা নিরাপদ জায়গাটা সুন্দর করতে পারি কিনা? বিকেক অনুযায়ী চলতে পারি কিনা, আল্লাহকে ভয় করে চলতে পারি কিনা?’
তিনি বলেন, ‘হাশরের দিন কিছু মানুষকে আল্লাহ আটকে দেবেন। বলবেন, ওরে বান্দা, তুমি তো অনেক নেকি অর্জন করে এসেছো। কিন্তু আমার একটি হক তুমি আদায় করনি। বান্দা বলবেন, সেই হকটা কী? আল্লাহ বলবেন, আমি অসুস্থ হয়ে তোমার কাছে গিয়েছিলাম, তুমি মন ভরে আমার সেবা করনি। বান্দা চমকে যাবেন! ইয়া আল্লাহ আপনি কীভাবে অসুস্থ হবেন আর আমি কীভাবে আপনার সেবা করবো! আল্লাহ বলবেন, আমি না তো! আমারই একজন বান্দা অথবা বান্দি তোমার কাছে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল, তুমি তার সেবা করলেই আমার সেবা করা হতো। তুমি সেদিন যেহেতু তার সেবা করনি, আমার হকও তুমি আদায় করনি। আমরা আটকা পড়ে যাবো।’
‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই জায়গাটায় আমি অনুরোধ করবো যে, স্বচ্ছতা, বিবেকবোধ, দায়বোধ ও দরদ নিয়ে যদি আমরা মানুষের প্রতি চিকিৎসার হাত বাড়িয়ে দিই, আল্লাহ তা’লা দুনিয়ায়ও আমাদের সম্মানিত করবেন, আখেরাতেও সম্মানিত করবেন। আর যে মানুষগুলো আমাদের কাছে আসবে, তারা মনে একটি প্রশান্তি ও তৃপ্তি নিয়ে আমাদের কাছ থেকে যাবে’—যোগ করেন তিনি।
জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমাদের ভাই ডা. ইদ্রিস আলীর কাছে আমরা রোগী পাঠাতাম; ফিরে গিয়ে বলতো, উনাকে দেখামাত্র, কথা শোনামাত্র—আমাদের অর্ধেক রোগ শেষ হয়ে গেছে। দোয়া করেন, বাকি অর্ধেক যেন চিকিৎসার মাধ্যমে প্রশমন পাই। তিনি তো আমাদেরই ভাই, তিনি যে আদর্শটা স্থাপন করতে পারলেন, আমরাও পারবো ইনশাল্লাহ। এই প্রত্যাশা আপনাদের কাছে রাখলাম। আল্লাহ তা’লা আপনাদের সকলকে দেহের নয় শুধু, মনের চিকিৎসাও করার সুযোগ দিন এবং মানুষের দোয়া লাভ করার সুযোগ দান করুন।’
অন্যান্য নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে চিকিৎসা খাতে নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এসব মোকাবিলায় প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, দক্ষ নেতৃত্ব এবং নীতিনিষ্ঠ অবস্থান। এনডিএফ সবসময় চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার আদায়, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
এনডিএফের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘রমজানের শিক্ষা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও সততা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতা চর্চায় অনুপ্রাণিত করে। এনডিএফ সব সময় চিকিৎসকদের অধিকার রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যাতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট চিকিৎসকবৃন্দ, এনডিএফের কেন্দ্রীয় ও শাখা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ধরনের আয়োজন চিকিৎসক সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করে এনডিএফ।
এমইউ/