‘চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে গেলে রোগীরা কষ্ট পায়, এটি আমাদের ভালো লাগে না’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসকদের গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করতে অন্যদের তুলনায় সময় বেশি লাগে। সুতরাং তাদের বয়সসীমা ৩৪ করার দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক। এই যৌক্তিক বিষয়গুলোর সমাধান না করলে মূলত রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে গেলে রোগীরা কষ্ট পায়, এটি আমাদের ভালো লাগে না। আজ সোমবার (৬ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মেডিকেল কমিউনিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. রাইয়ান হাসার এসব কথা বলেন।
বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়সসীমা ৩৪ বছর করার দাবিতে ইউনাইটেড মেডিকেল অর্গানাইজেশনস অব বাংলাদেশ (ইউমব) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ডা. রাইয়ান হাসার বলেন, ‘আমাদের কথা আমরা কাউকে মন খুলে বলতে পারি না এবং বেশিরভাগ মানুষই আমাদের কথা মন খুলে শুনতে চায় না। শাহবাগ ব্লক করে আন্দোলন করা আমাদের জন্য সুখকর কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। আমরা ভাতা বৃদ্ধির জন্য শুরুতেই শাহবাগ ব্লক করতে যাইনি, শুরুতে যেখানে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন যেমন—সরকারের বিভিন্ন জায়গায়, আমাদের সিনিয়র যারা ডাক্তার, প্রফেসর, মন্ত্রণালয় আছে—সব জায়গায় আমরা গিয়েছি। যখন সব জায়গার রেসপন্স পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও প্রজ্ঞাপন হচ্ছিল না, তারপর আমরা কিছু সমাবেশ, মশাল মিছিল, বিএসএমএমইউর বটতলাতে সমবেত হলাম। তারপরও যখন কাজ হলো না, তখন আমাদেরকে শাহবাগ ব্লক করতে হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘গত মাসে ১৭ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিবাচক একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল, যেন (বয়সসীমা) ৩৪ বছর করতে কাজ করা হয়। তারপরে আর কাজটা আগায়নি। সবার ক্ষেত্রে বয়স দুই বছর বাড়লেও, চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে বাড়েনি। চিকিৎসকরা সব সময় অবহেলিত হয়ে আসছে এবং আমরা মজলুম ‘
ডা. রাইয়ান হাসার বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এখানে বসছি, দাবি জানাচ্ছি, অবহেলিত সেটা বোঝাচ্ছি, আপনাদের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বলছি। এরপরও যখন শোনা হবে না, পরবর্তীতে আমাদের হয়ত মশাল মিছিল করতে হবে, মন্ত্রণালয় যেতে হবে, সচিবদের কাছে যেতে হবে, দায়িত্বশীলদের কাছে খবর পৌঁছাতে হবে। তখনও যখন হবে না, আবারও ঘুরে ফিরে সেই আন্দোলনে নামতে হবে। তখন আপনারা আমাদেরকে দোষ দিবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই পজিটিভ রেসপন্স। আজকের পর যেন আমাদের আর প্রেসক্লাবে আসতে না হয়, আমাদেরকে যেন শাহবাগে যেতে না হয়, আমাদেরকে যেন রাস্তায় না যেতে হয়। এমনকি কোন মন্ত্রণালয়ের বারান্দাতেও যেন যেতে না হয়। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের পরে যদি দাবি মেনে নেওয়া হয় তাহলে আমরা উপকৃত হব, রোগীরা উপকৃত হবে।’
কঠোর আন্দোলনে গেলে রোগীদের কষ্ট হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যখন আমরা কর্মবিরতিতে যাই, তখন রোগীরা কষ্ট পায়। এটি কিন্তু আমাদের ভালো লাগে না। যখন আমাদের বিষয়গুলো না দেখা হয়, তখন আল্টিমেটলি রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা ঘুরে-ফিরে ডাক্তারদের দোষ দেয়। একইসাথে সরকারকে দোষ দেয়।’
দাবি মেনে নেওয়ার অনুরোধ করে ডা. রাইয়ান হাসার বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রয়াসে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যেন যৌক্তিক দাবিটি মেনে নেওয়া হয়। এতে আমাদের জন্য খুব উপকার হয়। কারণ, ইতোমধ্যেই প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়ে গিয়েছে, বিসিএসের ফরম ফিল-আপও শুরু হয়ে গিয়েছে। অতি সত্ত্বর এটির সমাধান না হলে একটা অস্থিরতা তৈরি হবে, তখন হয়ত সরকার মনে করবে এটা সরকার বিরোধী আন্দোলন। আসলে এরকমটা কিছুই না।’
‘এজন্য আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ যারা আছেন, তারা আমাদের দাবিটি মেনে নিয়ে মানুষের সেবা করার সুযোগ দিবেন। এই দুই বছরের বৈষম্য যেটা আমাদের ওপরে করা হলো সেটা যেন দুর করা হয়’—উল্লেখ করেন তিনি।
এমআই/এনএআর/