ডেঙ্গুতে বছরে মৃত্যু ৫৭৫, আক্রান্তের শীর্ষে তরুণরা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সারাবছরে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট এক লক্ষ এক হাজার ২১৪ জন। এর মধ্যে এক লক্ষ ৪০ জনই সুস্থ হয়েছেন। তবে এতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৭৫ জন।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ওইদিনও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে। আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত একদিনে মৃতদের দুইজন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা। আর আক্রান্তদের শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে মোট ২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৩, ঢাকা বিভাগে ১৬, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৫, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৩, খুলনা বিভাগে তিন, ময়মনসিংহ বিভাগে এক এবং রাজশাহী বিভাগে দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন। তা ছাড়া সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩৮ জন।
তথ্যমতে, এ বছর আক্রান্তদের ৬৩ হাজার ৮৮৬ জনই ছিল পুরুষ, যা মোট আক্রান্তের ৬৩.১ শতাংশ। আর নারী আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৩২৮। তবে মৃত্যুর হারে সামান্য এগিয়ে ছিলেন নারীরা, মোট ২৯৪ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫১.১ শতাংশ। আর পুরুষের মৃত্যু হয়েছে ২৮১ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বয়সভেদে সর্বোচ্চ আক্রান্তদের শীর্ষে রয়েছেন তরুণরা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ১১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের বয়স ২১ থেকে ২৫ বছর। এ বয়সীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ২৮৪ জন পুরুষ আক্রান্ত হয়েছেন। ২৬ থেকে ৩০ এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৬৩ জন। আর ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ১৩৫ জন।
এ ছাড়া আক্রান্তে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। এখানে ২১ হাজার ২৫৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরই রয়েছে ঢাকা বিভাগের (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) অবস্থান, মোট ১৮ হাজার ৭৪১ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৮৭৯ জন। এর বাইরে বরিশাল বিভাগে আট হাজার ৮০১, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ৪৫, বিভাগে ১৫ হাজার ৪০৬, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে তিন, খুলনা বিভাগে নয় হাজার ৯৮৮, ময়মনসিংহ বিভাগে তিন হাজার ৩৬২, রাজশাহী বিভাগে তিন হাজার ৮৮৮, রংপুর বিভাগে এক হাজার ৫০৯ এবং সিলেট বিভাগে ৩৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে সর্বোচ্চ ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরে ১০৪ ও বিভাগে ৫১ জন মারা গেছেন। এর বাইরে বরিশাল বিভাগে ৬৪, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে এক, বিভাগে ৫৪, খুলনা বিভাগে ৩৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬, রাজশাহী বিভাগে আট এবং রংপুর বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুশূন্য বিভাগ সিলেট।
তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও দেখা গেছে, গত অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৮৭৯ জন। এরপর নভেম্বরে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ হাজার ৬৫২ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে এক হাজার ৫৫, ফেব্রুয়ারিতে ৩৩৯, মার্চে ৩১১, এপ্রিলে ৫০৪, মে মাসে ৬৪৪, জুনে ৭৯৮, জুলাইয়ে দুই হাজার ৬৬৯, আগস্টে ছয় হাজার ৫২১, সেপ্টেম্বরে ১৮ হাজার ৯৭ এবং ডিসেম্বরে নয় হাজার ৭৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
তবে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে নভেম্বর মাসে। এ মাসে মারা গেছেন ১৭৩ জন। এ ছাড়া অক্টোবরে ১৩৫, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে ৮৭ করে এবং আগস্টে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে জানুয়ারিতে ১৬, ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ, মার্চে ছয়, এপ্রিলে দুই, মেতে ১২, জুনে আট ও জুলাইয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক ইতিহাসে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড সংঘটিত হয়। ওই বছর তিন লক্ষ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। মৃত্যু হয় এক হাজার ৭০৫ জনের। এ ছাড়া তিন লক্ষ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন ছাড়পত্র পান।
এনএআর/
-
১১ অক্টোবর, ২০২৬
-
১০ অক্টোবর, ২০২৬
-
০৯ অক্টোবর, ২০২৬
-
০৬ অক্টোবর, ২০২৬
-
০৪ অক্টোবর, ২০২৬
-
০৪ অক্টোবর, ২০২৬
-
০৩ অক্টোবর, ২০২৬
-
০২ অক্টোবর, ২০২৬
-
০২ অক্টোবর, ২০২৬
-
০১ অক্টোবর, ২০২৬