বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন
কমেছে গড় আয়ু, করোনায় উধাও ১০ বছরের অর্জন!
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২০৫০ সালের মধ্যে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়াবে ৭৮.১ বছরে। সম্প্রতি এমন এক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে উল্টো ২ বছর কমে গেছে গড় আয়ু। অর্থাৎ গত এক দশকের উন্নতি এক নিমেষেই ধ্বংস করেছে করোনা মহামারি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গত ২১ মে ডব্লিউএইচও’র এই বিশ্ব স্বাস্থ্য সমীক্ষা প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, মানুষের বর্তমান গড় আয়ু ৭৩.৬ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৭১.৪ বছরে। কমেছে ১.৮ বছর। এ ছাড়া প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যকর আয়ুও ৬৪.৮ থেকে ১.৫ বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৬১.৯ বছর। যা ২০১২ সালের গড় আয়ুর ও স্বাস্থ্যকর আয়ুর সমান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গড় আয়ু বেশি কমেছে আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে গড় আয়ু কমেছে ৩ বছর। এ ছাড়া এ অঞ্চলে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যকর আয়ু কমেছে ২.৫ বছর। এই সময়ে সবচেয়ে কম প্রভাব পড়েছে পশ্চিম প্যাসিফিক অঞ্চলে। এখানে গড় আয়ু ও প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যকর আয়ু কমেছে যথাক্রমে ০.১ বছর ও ০.২ বছর।
সংস্থাটি বলছে, সংক্রামক রোগে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও আগের তুলনায় ফিরে এসেছে। যেখানে ২০১৯ সালে অসংক্রামক রোগে ৭৯.৯ ভাগ মৃত্যুর বিপরীতে সংক্রামক রোগে মানুষের মৃত্যুর হার ছিল ১৮.২ ভাগ; সেখানে কভিড-১৯ মহামারির সময়ে শুধু ২০২০ সালে সংক্রামক রোগে মৃত্যু হয়েছে ২৩ ভাগের। ২০২১ সালে এটি দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ১ ভাগে।
এ ছাড়া মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা মহামারি। ২০২০ সালে এটি ছিল তৃতীয় প্রধানতম কারণ, যেখানে ২০২১ সালে সেটি দ্বিতীয় স্থান দখল করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, ‘মাত্র দু’টি বছরে কভিড-১৯ মহামারি আমাদের এক দশকের অর্জন মুছে দিয়েছে।’
একটি নতুন প্যান্ডেমিক এগ্রিমেন্টের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শুধু বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা শক্তিশালীকরণই নয়, স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং সমতায় উৎসাহিত করার জন্যও একটি প্যান্ডেমিক এগ্রিমেন্ট প্রয়োজন।’
এদিকে ১৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যাতে বলা হয়, ২০৫০ সাল নাগাদ মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়াবে ৭৮.১ বছরে। তবে গড় আয়ুর তুলনায় স্বাস্থ্যকর আয়ু না বাড়ার কারণে বেশিদিন রোগে-শোকে ভুগতে হবে বলেও জানানো হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে।
যদিও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন সংক্রামক, মাতৃত্বকালীন, নবজাতক ও পুষ্টিজনিত রোগ (সিএমএনএন) থেকে বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগ ও কভিড-১৯ এর মতো রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই গড় আয়ু বাড়বে।
ওই সময় ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ মেট্রিক্স সায়েন্সের চেয়ারম্যান ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের পরিচালক ড. ক্রিস মারে বলেন, ‘গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে মানুষের আয়ুর বৈষম্য কমে যাবে। এটি এও নির্দেশ করে যে, সবচেয়ে বেশি আয়ের দেশ ও কম আয়ের দেশের মধ্যে বৈষম্য থাকবে, তবে সেটি কমে আসবে। সবচেয়ে বেশি আয়ু বাড়বে সাব-সাহারান আফ্রিকায়।’
এনএআর/
-
২৬ জুন, ২০২৬
প্যারিসে জলবায়ু সংক্রান্ত কৌশলগত সভা
জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলছে বাংলাদেশ
-
১৩ মে, ২০২৬
-
১২ মে, ২০২৬
নিয়ন্ত্রণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি
বন্যা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিয়ন্ত্রণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি
বন্যা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অনুপস্থিতি ও বেসরকারি হাসপাতালে মালিকানা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা