ডা. লুনা পারভীন 

ডা. লুনা পারভীন 

আবাসিক মেডিকেল অফিসার বহির্বিভাগ,
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।

 


১৬ জুলাই, ২০২২ ১১:০১ এএম

জ্বর হলে করণীয়

জ্বর হলে করণীয়
জ্বরের ওষুধ ডাবল ডোজে বা ঘন ঘন খাওয়ালে ও এন্টিবায়োটিক দিলেই জ্বর ভালো হয়ে যাবে এমন না।

আবহাওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগ। বিশেষজ্ঞদের দাবি, বন্যা ও প্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষ জ্বর ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। 

একদিনে জ্বর কমানোর কোনো ম্যাজিক নেই

যেকোনো ভাইরাস জ্বর ৩ থেকে ৫দিন টানা ১০২/১০৩°f থাকতে পারে। এসময়ের মধ্যে জ্বর কমলে ১০১ এর নিচে নাও নামতে পারে।  কাজেই জ্বর শুরু হওয়ার পরেরবেলাতেই বা পরের দিন জ্বর কেনো কমছে না, তা নিয়ে অস্থির হওয়া যাবে না। একদিনে জ্বর কমিয়ে দেওয়ার কোনো মেডিসিন বা ম্যাজিক ডাক্তারদের জানা নাই। ভাইরাস জ্বরে এন্টিবায়োটিক কোনো কাজে লাগে না, যদি না কোন ইনফেকশনের সোর্স পাওয়া যায়, যা অনেকসময় প্রকাশ পেতে তিন দিনও লেগে যায়।

জ্বরের ওষুধ ডাবল ডোজে বা ঘন ঘন খাওয়ালে ও এন্টিবায়োটিক দিলেই জ্বর ভালো হয়ে যাবে এমন না। ভাইরাসের পরিমাণের উপর অর্থ্যাৎ ভাইরাস কতদিন সক্রিয় থাকে তার উপর জ্বরের স্থায়িত্ব নির্ভর করে।

জ্বরে শিশুর যত্ন

হালকা জ্বর (১০০ থেকে ১০২°) হলে, ভিজা গামছা বা সুতি কাপড় দিয়ে গা মুছে দিন, মুখে ওষুধ খাওয়াবেন।  গরম ও নরম খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। সবচেয়ে বড় কথা শিশুকে বিশ্রাম নিতে দিন। ভালো ঘুমাতে দিন, জ্বর থাকলেও ঘুম ভাঙিয়ে ওষুধ খাওয়ানোর দরকার নেই। থার্মোমিটার দিয়ে মেপে জ্বর ১০০ বা বেশি পেলেই জ্বরের ওষুধ খাওয়াবেন।

গায়ে হাত দিয়ে গরম লাগা, জ্বর ৯৮, ৯৯°; জ্বরের আগে শীত শীতভাব, অস্থির করা জ্বরের ওষুধ খাওয়ানোর কোন কারণ হতে পারে না। একবার ওষুধ খাওয়ানোর পর আবার ওষুধ খাওয়াতে অন্তত চার থেকে ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। আর সাপোসিটারি দিতে হলে অন্তত চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। 

বেশি জ্বরে (১০২°F এর উপরে গেলে) তাড়াতাড়ি জ্বর কমানোর জন্য সাপোসিটার ব্যবহার করতে পারেন (যদিও এটা বাচ্চাদের জন্য অস্বস্তিকর), এতে জ্বর সাময়িকভাবে হয়তো ১০২ এর নিচে নামতে পারে। তবে প্রথম তিনদিনে পুরোপুরি জ্বর চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমই। একটা সাপোসিটারি দেওয়ার ৮ ঘণ্টার মধ্যে আরেকটা সাপোসিটারি দিতে পারবেন না।  তবে ৪/৬ ঘণ্টা পর সিরাপ দিতে পারেন। 

খালি পেটে জ্বরের ওষুধ খাওয়ানো যায়

শিশুদের এসিডিটি কম হয়, তাই কোনো কিছু খাওয়ানো একদম সম্ভব না হলে, খালিপেটে জ্বরের ওষুধ দিতে পারবেন। জ্বর হলে শিশুর এক আধটু বমি হতে পারে, কিছু জ্বরের ওষুধেও শিশুদের বমি হয়। এসব ক্ষেত্রে বমির ওষুধ লাগে না, প্রয়োজনে জ্বরের ওষুধ বদলানো যেতে পারে। ওষুধ খাওয়ার ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে বমি করলে, ১৫/২০ মিনিট পর আবার ওষুধ খাওয়াতে হবে।

যখন হাসপাতালে নিতে হবে

জ্বর হলে শিশু খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিবে, বড়রাও তাই করে। এই অরুচির প্রাথমিক কোনো চিকিৎসা নাই। সবার মতো আপনাকেও বুঝিয়ে শুনিয়ে অল্প অল্প করে পানি, তরল জাউ, স্যুপ, শরবত বা যেটা খেতে চায় সেটাই খাওয়াবেন। তবে বমি ও পাতলা পায়খানা হতে পারে এমন খাবার দিবেন না। মুখে একদমই খেতে না পারলে, প্রস্রাব চারবারের কমে হলে, বমি বন্ধ না হলে বা খিচুনি হলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।

ডেঙ্গু সিজন এখন। পাশাপাশি করোনার প্রকোপ আবার বাড়ছে। কাজেই সন্দেহ হলেই আশেপাশে শিশু বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে পরীক্ষা করে নিবেন।

এএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে