১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৯:৪২ এএম

বদলে যাওয়া খরসূতী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ডা. তরিকুল হাসান

বদলে যাওয়া খরসূতী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ডা. তরিকুল হাসান
কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবায় ইউনিয়নবাসীর অপার স্বস্তি জোগানো উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এরই মধ্যে হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম অনুকরণীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। জয় করেছে স্বাস্থ্য প্রশাসকসহ সাধারণ মানুষের মন।

মো. মনির উদ্দিন: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার খরসূতী (ময়না) ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবায় লেগেছে অভাবনীয় পরিবর্তনের ছোঁয়া। তরুণ মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তরিকুল হাসানের গতিশীল নেতৃত্ব ও অসামান্য কর্মদক্ষতায় নিশ্চিত হয়েছে ইউনিয়নবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা।

তাঁর সঙ্গে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) ও একজন মিডওয়াইফ।

কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবায় ইউনিয়নবাসীর অপার স্বস্তি জোগানো উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এরই মধ্যে হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম অনুকরণীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। জয় করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ (ইউএইচএফপিও) সাধারণ মানুষের মন।

নিরলস ও আন্তরিক সেবার সুবাতাস বয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী এলাকায়ও। ফলে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিড় করছেন এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

অন্যান্য স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে এর স্বাতন্ত্র্য

নিজের দুই বছরের মেয়াদে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ডা. তরিকুল হাসান মেডিভয়েসকে বলেন, ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর বোয়ালমারী উপজেলার খরসূতী (ময়না) ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এরপর থেকে গত দুই বছর এই অঞ্চলে অবস্থান করে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন।

তিনি বলেন, এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দেশের অন্যান্য স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে খানিকটা ব্যতিক্রম। এর উল্লেখযোগ্য হলো, 

ক. এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, যার জমির আয়তন তিন একর ছেষট্টি শতাংশ। 

খ. প্রায় একশ’ বছর পূর্বে এটি চালু হয়েছিল। এটি তখন ছিল খরসূতি কালিতারা দাতব্য চিকিৎসালয় নামে পরিচিত। কৃষাণ চন্দ্র ঘোষ এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। তখন থেকেই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নাম হয় খরসূতী (ময়না) ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

গ. এছাড়াও এ কেন্দ্রটি স্বাস্থ্যসেবাসহ এ অঞ্চলে বিভিন্ন রকম সমাজসেবামূলক ভূমিকা রেখে চলেছে।

উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইতিবাচক যত পরিবর্তন

এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডা. তরিকুল হাসানের যোগদানের পর স্বাস্থ্য সেবার ছোট্ট এই ইউনিটে যে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, সেগুলো হলো: 

ক. সিরিয়াল মেইনটেইন করে আন্তরিকতার সাথে নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগীকে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা প্রদান। যে রোগীকে যতটুকু সময় দেওয়া প্রয়োজন, তা পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বহির্বিভাগে খুব দ্রুততম সময়ে রোগী দেখা হয়, কিন্তু এখানে তাড়াহুড়ো পরিহার করে যেভাবে সময় নিয়ে রোগী দেখা প্রয়োজন, সেভাবে হচ্ছে। একই সঙ্গে রোগীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে—সেসবে যতটুকু সময় দেওয়া প্রয়োজন, তা দেওয়া হচ্ছে। যথাযথ নিয়ম মেনেই কাজগুলো হচ্ছে।

এ সময়ে সাব-সেন্টারটিতে অনেক জটিল রোগ শনাক্ত, মিনিমাল ইনভ্যাসিভ কেয়ার ও ছোটখাটো সার্জিক্যাল প্রসিডিওর ইত্যাদি করা হয়েছে।

খ. উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দেয়ালগুলো আগে ভাঙা ছিল, সেগুলোর সংস্কার ও রঙ করা হয়েছে। ভালো মানের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র আনা হয়েছে।

গ. একজন মিডওয়াইফের মাধ্যমে মা ও শিশু পরামর্শকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এ কর্নারে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের পরিচর্যায় দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পরামর্শ। সেই অনুযায়ী, তাদেরকে ওষুধপত্রও সরবরাহ করা হচ্ছে। 

ঘ. নেবুলাইজার, সাকার মেশিন, আম্বু ব্যাগ ও অটোক্ল্যাভ ইত্যাদি ছোটখাটো মেশিনের ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে সব ধরনের যন্ত্রপাতি।

ঙ. বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রোগের সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করে জনগণকে সম্পৃক্ত করা। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে আস্থাশীল ও গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তুলতে তাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন কর্মশালা সম্পাদিত হচ্ছে। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত বসে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো। 

ডা. তরিকুল হাসান জানান, ‘এসব কার্যকলাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে যে, খরসূতি কালিতারা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক যেসব স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে, এর সবগুলো আমরা তাদের জন্য নিশ্চিত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ৩ জন স্টাফই এই গ্রামে অবস্থান করে সকাল ৮টা থেকে অফিসে রোগী দেখছি। একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যতটুকু সেবা দেওয়া সম্ভব, তার সবটুকু বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’ 

সেবাদানের খবর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ায় এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আশপাশের মানুষের ভিড় করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে আন্তরিক সেবাদানের কারণে পাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা এবং অনেক জেলা থেকেও সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে আসেন এবং সেবায় তারা যথেষ্ট সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

কাজের স্বীকৃতি

এর পেছনে সাধারণ মানুষসহ একাধিক স্বাস্থ্য প্রশাসকের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ এসবই আল্লাহর অশেষ রহমতে করা সম্ভব হয়েছে। এ অঞ্চলের জনসাধারণ ও সুধীজন আমাদের সার্বিক সহায়তা করছেন। আমাদের সম্মানিত ইউএইচএন্ডএফপিও ডা. খালেদুর রহমান কয়েকবার ভিজিট করে আমাদের সার্বিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি এই কেন্দ্রের প্রতি বিশেষ নজর রাখছেন, সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন। যে কোনো অসুবিধায় তাঁর শরণাপন্ন হলে তিনি যথেষ্ট ভূমিকা রাখছেন। তিনি আমাদের এই কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন, উৎসাহিত করছেন। এই ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য যতটুকু সহায়তা করা প্রয়োজন ততটুকুই করছেন, আমাদের প্রয়োজনের আলোকে বিভিন্ন সময় তিনি বাড়তি ওষুধ সরবরাহ করছেন। বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছেন। আসবাবপত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সংস্কারের ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তিনি সামগ্রিক কাজগুলো যথেষ্ট তদারকি করছেন এবং কাজের প্রশংসা করছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহিত করছেন।’ 

‘বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপসচিব আঞ্জুমান আরা—যিনি এ অঞ্চলের মেয়ে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ব্যাপারে তিনি বিশেষভাবে তদারকি করছেন। যে কোন সমস্যায় আমরা তাঁর সহযোগিতা ও পরামর্শ পাচ্ছি। তাঁর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা’—যোগ করেন ডা. তরিকুল।

প্রাপ্তি জনগণের সীমাহীন ভালোবাসা 

৩৯তম বিসিএসের এই স্বাস্থ্য ক্যাডার বলেন, ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার এই অঞ্চলের জনগণের সীমাহীন ভালোবাসা, এটি আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি। ইউনিয়নের মানুষেরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে যথেষ্ট ভালবাসেন, এটিই আমাদের জন্য অনেক বড় স্বীকৃতিও। এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিধি অনেক বড় এবং এর পুরাতন ভবনটি সামান্য সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব। এসবের সমন্বয়ে যদি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়, তাহলে এটা হবে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।’

সেবায় মুগ্ধ সাধারণ মানুষ

স্থানীয় বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাদিকুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এখানে দীর্ঘ দিন ধরে সেবা দিয়ে আসছেন ডা. তরিকুল হাসান, তাঁকে নিরলসভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন মো. মাহবুবুর রহমান। মানসম্পন্ন চিকিৎসা হওয়ায় এখানে দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এসে চিকিৎসা নেন। এখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে সময় নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। গত দুই বছরে এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবকাঠামোগত অনেক উন্নতি সাধিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকায় ছোট-খাটো পরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরে যেতে হয় না। এর সুনাম-সুখ্যাতি পাশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা একটি মডেল হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এর ইতিবাচকতা ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব একটি পরিবর্তন সাধিত হবে।

ইউএইচএফপিও’র স্বীকৃতি 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. খালেদুর রহমান বলেন, ‘এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কথা বলতে গেলে আমাকে প্রথমে বলতে হবে ডা. মো. তরিকুল হাসানের নাম। গত দুই বছর হলো তিনি এখানে যোগদান করেছেন এবং সপরিবারে অবস্থান করেন। তাঁর আন্তরিক এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে আমার এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি একটি মডেল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে এলাকায় দাঁড়িয়ে গেছে। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রয়োজনে আমাদের সামর্থ্যের আলোকে সাহায্য-সহযোগিতা করছি। ইতিমধ্যে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে আমরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনটির সংস্কার করতে পেরেছি, নেবুলাইজার মেশিনসহ সার্জিকেল ইন্সট্রুমেন্ট যা প্রয়োজন—তা আমাদের সাধ্যের আলোকে করেছি, ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া মিডওয়াইফ পদায়িত হওয়ার পর ডা. তরিকুল হাসানের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে ইএনসি ও পিএনসি সেবায় এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এলাকার মানুষের কাছে ডা. তরিকুল হাসান সম্পর্কে ব্যাপক ইতিবাচক অনেক তথ্য পাই। নবীন এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কর্মদক্ষতায় আমি যেমন খুশি, এলাকার লোকজনও তাঁর ওপর দারুণ সন্তুষ্ট। সবশেষে আমার প্রত্যাশা হলো, তিনি যেভাবে চলছেন ভবিষ্যতেও একইভাবে চলবেন। তাঁর কল্যাণে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সুনাম-সুখ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়বে। তিনি হয় তো এখানে থাকবেন না, কিন্তু তাঁর কীর্তি থেকে যাবে।’

স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিবন্ধকতা

অনেক প্রাপ্তির ভিড়ে কিছু অপ্রাপ্তির কথাও জানান ডা. তরিকুল হাসান। তিনি বলেন, ‘এই ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে লোকবলের ঘাটতি। এখানে যে লোকবল থাকার কথা সেটি নেই। সত্যি বলতে কি, স্বাস্থ্যখাতে যে পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন, তার তুলনায় পদের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি যেসব পদ সৃষ্টি হয়েছে—সেখানেও লোকবল নেই। এখানে একজন এমএলএসএস, একজন পিয়ন ও ক্লিনার প্রয়োজন। কিন্তু এসব জনশক্তি এখানে পাওয়া যাচ্ছে না। সুতরাং এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সবচেয়ে বড় সমস্যা লোকবল সংকট। এ কারণে আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আলাদা দায়িত্ব নিয়ে এ হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ রোগীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও আমাদেরকেই করতে হয়। সুতরাং লোকবল সংকটের কারণে আমরা বেশি সমস্যায় পড়েছি।’ 

ডা. তরিকুল হাসান আরও বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধ অনেকটাই অপ্রতুল। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসেন, ওষুধের ঘাটতি—আমাদের জন্য আরেকটি সমস্যা। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ দুটো অসুবিধায় আমাদের পড়তে হয়েছে।’ 

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে যা করতে হবে

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরামর্শ দেন রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থী। সেগুলো হলো: 

ক. লোকবলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে, কারণ পর্যাপ্ত জনশক্তি ছাড়া মানসম্পন্ন সেবা দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে যথাযথভাবে নতুন পদ সৃষ্টি করতে হবে। যে স্তরে যতজন স্বাস্থ্যকর্মী দরকার, ততটি পদই সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে মেডিকেল অফিসার, নার্স, মিডওয়াইফারি, সেকমো ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ সব রকমের কর্মী বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব।

খ. স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ পরিচালনা করতে হবে। যেমন: একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি আছেন, সেখানে তিনি ওষুধ বিতরণ করবেন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবেন—তা যৌক্তিক। কিন্তু ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগে নিযুক্ত একজন এমবিবিএস চিকিৎসক শুধু ওষুধ বিতরণ করবেন, এটি কখনোই কাম্য নয়। সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগী তাঁকে দেখার ব্যবস্থাও করতে হবে, যাতে তাঁকে ওষুধ বিতরণেই ব্যস্ত থাকতে না হয়।

গ. যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আউটডুরকে প্রাথমিক রেফারাল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

ঘ. বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে যে পরিমাণ বরাদ্দ আসছে তা দিয়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া অনেক কঠিন। সেবার মান বাড়াতে হলে বাজেট বাড়াতে হবে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। এসবের মাধ্যমে তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক