মো: মেহদী হাসান মামুন

মো: মেহদী হাসান মামুন

শিক্ষার্থী, এনাম মেডিকেল কলেজ।


৩০ জুন, ২০১৮ ১১:৫৪ এএম

খাবার স্যালাইন সম্পর্কে জেনে নিন

খাবার স্যালাইন সম্পর্কে জেনে নিন

স্যালাইনকে আমরা শুধু মাত্র ১ প্যকেট লবন ভেবে ভুল করি। অনেক কেই দেখি পানিশূন্যতা পূরণের জন্য এক গ্লাস পানিতে ২/৩ প্যকেট স্যালাইন মিশিয়ে পান করে। শহর ও মফস্বলের সব যায়গাতে এখন ভ্রাম্যমান লেবু শরবত বিক্রি করে, আমরা প্রায়ই গরমের সময় এসব পান করি। সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে গিয়ে লোনা পানি খেয়ে ফেলি।

স্যালাইনের কাজ কী?
একদম সংক্ষেপে বললে স্যলাইনের কাজ হলো শরীরে যে লবন ও পানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে সেটা পূরণ করা। এজন্য স্যালাইন ও রক্তের ঘনত্ব সমান হওয়া বাঞ্ছনীয় (Isotonic).

অভিস্রবন প্রক্রিয়ার নাম আমরা সবাই শুনেছি। দুইটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবন কে একটি বৈষম্য ভেদ্য পর্দা দ্বারা আলাদা করে দিলে পানি কোন দিকে যাবে?
নিম্ন ঘনত্ব থেকে উচ্চ ঘনত্বের দিকে পানি যাবে।

আরো সহজে বিষয়টি বুঝতে পারেন। আঙ্গুরকে বেশি ঘনত্বের লবন পানিতে ভিজিয়ে রাখলে আঙ্গুর চুপসে যায়, কারণ বাইরে লবন পানির ঘনত্ব আঙ্গুরের ভেতরে ঘনত্বের চেয়ে বেশি, তাই আঙ্গুরের ভেতর থেকে পানি বাইরে চলে আসে আর আঙ্গুর চুপসে যায়।

একই ভাবে আমরা যখন এক গ্লাস পানিতে ২/৩ টা স্যালাইন মিশাই তখন স্যালাইন পানির ঘনত্ব কোষের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যায়। পানিশূন্যতায় আমাদের দরকার কোষের ভেতরে পানি ঢুকানো, কিন্তু স্যালাইনের ঘনত্ব বেশি হওয়ার জন্য উল্টো কোষ থেকে পানি বের হয়ে যায়। অর্থাৎ বেশি ভালো করতে গিয়ে আরো খারাপ হয়ে যায়।

আগে একটা সময় ছিল যখন ডায়রিয়া-কলেরায় পানিশূন্যতার কারণে অনেক মানুষ মারা যেতো। এই পানি শূন্যতা জনিত মৃত্যু এখন অনেক কমে এসেছে। এখন ভুল স্যালাইন খাওয়ানোর কারণে মৃত্যু হয় প্রায়ই, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের। বাচ্চাদের কিডনি স্থায়ীভাবে বিকল হয়ে যায় এই উচ্চ ঘনত্বের স্যালাইনে। একই কারণে সমুদ্রের লোনা পানি পান করতে হয় না। বেয়ার গ্রীলসের অনুষ্ঠানে হয়তো অনেকেই শুনে থাকবেন যে বেয়ার সবসময় সমুদ্রের লোনা পানি পান করতে বারন করে। এটারও একই কারণ, পানিতে লবন বেশি তাই ঘনত্ব বেশি।

ICDDR'B যখন প্রথম খাবার স্যলাইন আবিষ্কার করে তখন তার ঘনত্ব ছিল ৩১০ mili osmol/L. পরে গবেষনায় উঠে আসলো এই ঘনত্বতেও অনেক শিশু মারা যাচ্ছে। পরে তারা ঘনত্ব কমিয়ে ২৮০ করে। বর্তমানে স্যালাইন গুলো ২৮০ mili osmol/L ঘনত্ব মেইনটেন করে। অর্থাৎ একটা জিনিস ভাবুন, মাত্র ৩০ একক ঘনত্ব বেশি হওয়ায় শিশু মৃত্যু হয়েছিল। সেখানে আমরা যখন ২/৩ টা স্যালাইন মিশাই তখন সেটা শরীরের পক্ষে কতোটা ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায়!

বাজারে বিভিন্ন ধরনের টেস্টি স্যালাইন পাওয়া যায়। এগুলোকে সুস্বাদু করতে WHO রিকমেন্ডেড না এমন ক্যামিকেলও যুক্ত করা হয়। অনেক সময় প্যকেটের গায়ে এসব ক্যামিকেলের নাম ও অনুপাত সঠিক ভাবে উল্লেখ করে না তারা। তাই এসব স্যলাইনের সঠিক ঘনত্ব নিয়ে বিতর্ক আছে। তাই আমার মতে পানিশূন্যতা দূর করার জন্য টেস্টি স্যালাইন পরিহার করা উচিৎ।

মোড়ে যে লেবুর শরবত বিক্রি করে সেখানে পানীয়কে সুস্বাদু করতে যে পরিমান টেস্টিং সল্ট দেয় তাতে উচ্চ ঘনত্বের পানীয় তৈরি হয় (Hyoertonic). তাই সবসময় মনে রাখতে হবে যে স্যালাইন মানে শুধু লবন না, এটা একটা ঔষধ। আর ঔষধ সবসময় সঠিক ডোজে খেতে হয়। তাই সঠিক ঘনত্বের স্যালাইন পান করুন (Isotonic) এক প্যকেটের জন্য আধা লিটার (৫০০ ml) পানি। আর বানানো স্যালাইন সরর্বোচ্চ ১২ ঘন্টা পর্যন্ত ভালো থাকে, তাই ১২ ঘন্টার আগে বানানো স্যালাইনের পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন।

এই খাবার স্যালাইনের আবিষ্কারক কিন্তু বাংলাদেশী একজন বিজ্ঞানী ডা রফিকুল ইসলাম। তিনি ICDDR'B তে গবেষনা করে খাবার স্যালাইন আবিষ্কার করেন। এটা আমাদের জন্য গৌরবের যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসের পাতায় কিছু বাংলাদেশীদের নামও আছে!
 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না