২৮ জুন, ২০১৮ ০২:৫৭ পিএম

কোটার জন্য আটকে গেল ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার

কোটার জন্য আটকে গেল ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় দেড় মাস আগে ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্র সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষনার পর নতুন প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় সংস্থাটি সার্কুলার দিতে পারছে না। 

প্রতিবছর জুনের মধ্যে বিসিএসের সার্কুলার দেয়ার রীতি রয়েছে। কিন্তু এবছর দেরি হওয়ায় চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। কেননা চাকরির আবেদনে বয়সের সীমা থাকায় সার্কুলার দিতে বিলম্ব করলে ওইসব প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। ফলে ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন তাদের অধরাই রয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, আমরা প্রতিবছরই একটি নতুন বিসিএসের সার্কুলার দেয়ার চেষ্টা করি। সে অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্র পাওয়া গেছে। কিন্তু আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন। ওইসব তথ্য পাওয়া মাত্র সার্কুলার জারি করা হবে। তবে কোটা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের জন্য সার্কুলার আটকে নেই বলে তিনি দাবি করেন।

অবশ্য পিএসসির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কোটার নতুন প্রজ্ঞাপনের কারণেই আটকে আছে ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু দীর্ঘ আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিএসসির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কোটার বিষয়টি নিষ্পত্তি ছাড়া বিসিএসের নতুন সার্কুলার দিলে দুই ধরনের সমস্যা হতে পারে। একটি হচ্ছে- সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ফের আন্দোলনে নামতে পারে। অপরটি কোন নীতির আলোকে প্রার্থী সুপারিশ করা হবে, সেটা সার্কুলার প্রকাশের সময়ই নির্ধারণ করতে হয়।

পিএসসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, তাদেরও ইচ্ছা দ্রুতই ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার দেয়া। শুধু কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষার কারণে বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে কোটার কারণে এমন পরিস্থিতি হলেও খুব শিগগিরই কোটা সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিষ্পত্তি হচ্ছে না বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। কেননা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও সেটি ফেরত আসেনি। এ কারণে কোটা পর্যালোচনার কাজও শুরু হয়নি। 

অপরদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে। সবকিছুই শেষ পর্যায়ে। কিন্তু এটা নিয়ে যে কমিটি গঠনের কথা ছিল, সেটি এখনও হয়নি। ফলে এটা চূড়ান্ত হতে আরও সময় লাগতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোটার কাজটি কেবল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের না, অন্য মন্ত্রণালয়ও জড়িত রয়েছে। এটা নিয়ে কাজ হয়েছে, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আমার জানা নেই।

প্রসঙ্গত, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দেড় মাস আগে পাঠানো ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্রে দুই হাজারের বেশি পদে নিয়োগের কথা আছে। 

আরও পড়ুন-

►মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি