ডা. ছাবিকুন নাহার

ডা. ছাবিকুন নাহার

অবসটেট্রিশিয়ান অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্ট 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।


২২ জুন, ২০১৮ ১০:৪৬ এএম

তবুও জীবন

তবুও জীবন

হ্যালো দীপিতা তুই আসবি না? নারে উপায় নাই। শরীরটা ভালো লাগছে না। অতনু একটু কী যেনো ভাবল। তারপর বলল, আচ্ছা থাক না আসাই ভালো।

আজ অতনুর বিয়ে। বিয়ের আসর থেকে ফোন করেছে। দীপিতার যাওয়ার কথা ছিলো। শরীর খারাপের অজুহাত দেখিয়ে বাদ দিলো। দীপিতা কত সহজে বলে দিলো শরীর খারাপ! অথচ ওর শরীর ঠিকঠাক আছে। কিন্তু ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে গেছে মনোজমিনে।

যে আসরে বউ সেজে সবটুকু আলো নিংড়ে নেয়ার কথা, সে আসরে অন্য কেউ অতনুর পাশে এটা দীপিতা নিতে পারছে না। পারার কথাও না। অথচ সে ই এই বিয়ের মিডিয়া পার্সন। এমনকি মেয়েটার সাথে অতনুর আলাপ দীপিতাই করে দিয়েছিলো। যতটুকু মোটিভেশন করার দরকার একটা বিয়ের জন্য, তার সবটুকুই এখানে দীপিতা করেছে।

অতনুর বোন যখন জানতে চাইল, মেয়েটা কেমন? তখন অতনু বলেছিলো, দীপিতা নিশ্চয় আমার জন্য ঠিকজনকেই বাছাই করবে, তাই না? ওর উপর আস্থা রাখতে পারো। অতনুর এমনি আস্থা দীপিতার উপর। ক্যাম্পাস থেকেই।

অতনু দীপিতা কোন এক সব ভালোলাগা সময়ে অঙ্গীকার করেছিলো সারা জীবন এক সাথে থাকার। নিয়তি ওদের সে অনুমতি দেয়নি। ওদের একই ছাদের নীচে থাকা হয়নি, কিন্তু একই আকাশের নীচে ওরা বেঁচে থাকে পরস্পরের সুখ স্মৃতি নিয়ে। এক জীবনই যাপন করে ভিন্ন রুপে, অন্য আবহে।

দীপিতার লৌকিক সংসারেও কোনো কিছুর কমতি নেই। বর্ষার প্রথম জলের মতো থই থই করে সুখ। দুটো ছানাপোনার দূরন্তপনায় ভরে থাকে ওর গৃহকোন। তারপর কোথায় যেনো একটা কমতি থেকেই যায়। সময় অসময়ে মনে পড়ে যায় না যাপন করা জীবনটা। অতনু...

দুই:
অতনু, দীপিতা একই ভার্সিটিতে পড়ে। সহপাঠী। পড়াশোনার ফাঁকে ডিবেট ক্লাবে সময় দেয়া, ব্লাড ডোনেশান প্রোগ্রাম ও নানান স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম দুজনেরই প্রায়োরিটি লিস্টের একদম উপরে অবস্হান করে। কাজেই বন্ধুত্ব হতে সময় লাগে না। যদিও বাহ্যিক দিকে পরস্পর বিপরীতমুখী। অতনু যদি হয় উত্তর মেরুর পেঙ্গুইন, দীপিতা তবে দক্ষীন মেরুর শ্বেত ভাল্লুক। চুম্বকের বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে এই অমোঘ সত্যকে মিথ্যা প্রমান করতে করতেই একটা ঝামেলা বেঁধে যায়। সূত্র সত্য বলে গন্য হয়। ওদের প্রেম হয়ে যায়।

এই সেই প্রেম না। পাড় ভাঙ্গা জোয়ারের মতো সর্বনাশী, সর্বগ্রাসী প্রেম। রাতারাতি ক্যাম্পাসে সাড়া পড়ে গেলো। টক অব ক্যাম্পাস অতনু দীপিতার প্রেমের গল্প। লেডিস হোস্টেল, বয়েজ হোস্টেল, মনসুর মামার ক্যানটিন, লাইব্রেরী সবখানেই সাজ সাজ রব।

এই শুনেছিস দীপিতা নাকি প্রেমে পরেছে? কী? কার? কার আবার অতনুর। অতনু আর দীপু? আর লোক খুঁজে পেলি না। দীপিতা করবে প্রেম। তাও আবার অতনুর সাথে? অতনুরই বা এত সময় কই? ক্লাবের কাজ, ফুটবল, ক্রিকেট আর পলিটিকাল কাজ তো আছেই। এত্ত কিছুর মাঝে আবার পড়াশোনা। শুধু বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এবং জেনেটিক্স সিলেবাসটাই একজন স্টুডেন্টকে ভাজা ভাজা করতে যথেষ্ট। উপরি আবার এক্সট্রা কারিকুলাম প্রেম! কী জানি বাপু, বুঝি না কিছু।

তারপরও সময় বয়ে যায়। সময়ের পরতে পরতে জমা হয় পলির মতো মোলায়েম স্মৃতিকণা। মনের জানালায় ধূলার মতো কথা জমা হয়। প্রেমের কথা, বন্ধুত্বের কথা। এ্যাসাইনমেন্ট, টিউটোরিয়াল, ইয়ার ফাইনাল, ফাইনাল সবকিছুতেই জেগে থাকে বন্ধুত্বের মোড়কে প্রেম অথবা প্রেমের মোড়কে বন্ধুত্ব।

তিন:
চৌরঙ্গীতে দুই পাখি বসে আছে মুখোমুখি। দুজনের কাপেই চা জমে বরফ। চুমুক দেয়া হয়নি কারোই। কয়েকদিনের না ঘুমে ডীপ ডার্ক সার্কেল দীপিতার চোখ জুড়ে। অতনুর চুলে বাবুইয়ের বাসা। মুখে খোচা খোচা দাড়ি বলছে, সে ও ঘুমায়নি অনেকদিন। প্রেম হওয়া না হওয়ার দোলাচল কাউকেই ঘুমাতে দেয়নি বহু রাত। দুজনের মনেই দ্বিধা কিভাবে বলবে? যদি বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়? না এটা হতে দেয়া যাবে না। এমন সুহৃদ ভাগ্যে মেলে। আবার এটাও ঠিক, শুধু বন্ধুত্বে ব্যাপারটা আঁটকে রাখা যাচ্ছে না আর।

আজকাল পরস্পরকে দেখলে যখন তখন ধরাস ধরাস বুক কাঁপে। পাশাপাশি রিকশায় বসলে, একজনের হাত আরেকজনের হাতের উষ্ণতার জন্য আকুলিবিকুলি করে! জুম বৃষ্টিতে হুড তুলে শহরময় ঘুরে বেড়াতেও ইচ্ছে করে। আর... আর... অতনুর শুস্ক ঠোঁটে নিজের ভেঁজা ঠোঁটের ভেজলিন লাগিয়ে দিতে ইচ্ছা করে দীপির। এতগুলো নির্লজ্জ ইচ্ছা বন্ধুত্বে সম্ভব নয়। তাই ওদের অন্য সম্পর্কে যেতে হবে। খুব সম্ভব সেটাই প্রেম। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে?

অতনুই এগিয়ে আসে। শোন দীপিতা ভেবে দেখলাম, তোকে আমার চাই। তবে সব সময় তুই তোকারি করবি না কিন্তু। বাচ্চাকাচ্চার সামনে, মা বাবাকে তুই তুই ডাকছে ব্যাপারটা ভালো দেখায় না। আমার একটা প্রেস্টিজ আছে নাহ্? এক দমে কথা কয়টি বলে থামল অতনু। তার চোখে থই থই করছে দীপিতার জন্য ভালোবাসা।

দীপিতার বুকে লক্ষ ড্রামের শব্দ। দ্রিম দ্রিম! সেসবকে চাপা দিয়ে দীপিতা কপট রাগ দেখিয়ে জানতে চায় বাচ্চাকাচ্চার ব্যাপার আসছে কেনো? না মানে যদি... 
আমতাআমতা করে অতনু। তোর প্রেমে পড়ে গেছি মনেহয়। না ঘুমিয়ে চোখমুখের তো বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিস। সে চিন্তায় আমারো তেরোটা বাজতে বাকী নেই। তাই ভাবলাম বাচ্চাকাচ্চার দায়িত্বটা না হয় আমিই নিয়ে নিলাম। নো টেনশন। আরেকটা কথা আগেই বলে নেই, আমার কিন্তু ঘর ভরা বাচ্চাকাচ্চা পছন্দ। একটা পারিবারিক ফুটবল টীমের শখ বহুদিনের। জনসংখ্যার দোহাই দিয়ে লাভ নাই বাপু।

চার:
প্রপোজের দিনই বাচ্চাকাচ্চার প্রসঙ্গ! এটা অতনুর পক্ষেই সম্ভব। এজন্যই ওকে এত্ত ভালো লাগে দীপুর। তাছাড়া মেয়েদের নিয়ে অন্য বন্ধুরা যখন মুখরোচক গল্প কিংবা কৌতুক বলে, তখনও অতনু একটা সমীহ ভাব বজায় রাখে নারীকুলের প্রতি। এটাই অন্যদের কাছ থেকে ওকে আলাদা করেছে। যতই সূক্ষ্ম হোক, ব্যাপারটা দীপিতার চোখ এড়ায় না। কোন নারীরই মনেহয় এড়াতো না। নারীরা এগুলো খুব উপলদ্ধি করতে পারে। যে চোখে তাদের জন্য সম্মান বাস করে, সে চোখকে তারা উপেক্ষা করতে পারে না। দীপিও পারেনি। অতনুতে মাখামাখি হয়ে যায়। ডুবে যায় প্রবল ভালো লাগায়।

দীপিতা একটু চাপা স্বভাবের কিন্তু প্রচন্ড পারসোনালিটি সম্পন্ন। জীবন সঙ্গী যদি মননশীল রুচিসম্পন্ন না হয় তাহলে তো সে শেষ। সব সময় এই কথাটি ওর মনেহয়। দীপিতা, অতনু পরস্পরকে পছন্দ করে। কিন্তু জীবন সঙ্গী হিসাবে অতনু তার স্বপ্নের পুরুষের সাথে মিলবে কী মিলবে না এই নিয়ে দীপিতা দ্বিধা দ্বন্দ্বে ছিল। কিন্তু অতনুর চোখে তাকিয়ে দ্বিধার পাহাড় ধ্বসে পড়ল যেনো। দীপি মনেমনে বলল, একেই আমার চাই।

আসলে রুচি সম্মত, সহমর্মি, মানবিক, নারীদের প্রতি রেসপেক্টফুল একজন সহযোদ্ধা দীপিতা কেন সব নারীরই চাওয়া। দীপিতা মনেমনে একটা লাইন ঠিক করল, শুধু নারী কেন হবে সব মানুষের প্রতি ই রেসপেক্টফুল হওয়া উচিৎ সবার।

পাঁচ:
ভালোবাসি মুখে বলতে হয়নি কাউকেই। তারপরও অতনুদের তুমুল প্রেমে আঁটকায়নি কিছু। কোজাগরী জোছনায় দিকভ্রান্ত যুগল ঘুরে বেড়ায় ধানসিঁড়ির পথ ধরে। কীর্তন খোলার থৈ থৈ জলে ভেসে বেড়ায় অথবা জল জোছনায় ভিজে একাকার হয়। দীপির শক্তপোক্ত ইমেজ অতনুর নীরেট বুকে আছরে পড়ে। অতনুও জড়িয়ে রাখে অপার মুগ্ধতায়। এভাবেই চলছিলো দিন মাস বছর।

তারপর এক ঝড়ে সব লন্ডভন্ড হয়ে যায়। কেনো কী হয়, সেদিকে আর যাব না। শুধু এটুকুই জানি, দুজনের দুটো পথ আলাদা হয়ে যায়। বুকে নিয়ে একসাথে থাকার তৃষ্ণা যাপন করে দুজন ভিন্ন জীবন।

সব ক্লিকই ছবি হয় না। কোন কোন ছবি আসে শুধুই কালো, জমাট অন্ধকার। যদিও সুন্দর একটা ছবির সব কয়টা উপাদান সেখানে ঠিকই থাকে। আবার সব ছবিই সুন্দর একটা ফ্রেম পায় না। বুকে ঝোলানোর হাহাকার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে শূন্য দেয়াল।

ছয়:
আজ দীপিকে পুরনো কথায় পেয়ে বসেছে যেনো। মনে পড়ছে ক্যাম্পাসের শেষ দিনটার কথা। কতদিন হয়ে গেলো অথচ মনেহয় এই সেদিন। প্রিয় ক্যাম্পাস ছাড়ার কথা দীপি কাউকে ক্ষুনাক্ষরে জানতে দেয়নি। এমনকি অতনুকেও না। কী দরকার মায়া বাড়িয়ে? ছেড়ে যদি দিতে হয়, একবারেই দেয়া ভালো। যদি বুক ভাঙ্গে ভাঙ্গুক, তবুও। লঞ্চ যখন মাঝ নদীতে ওদের কমন বন্ধু জারিফকে ফোন দিয়ে বলে, চলে যাচ্ছিরে দোস্ত। কাউকেই বলিনি ইচ্ছে করেই। ওদিকে অতনু এই খবরে উদ্ভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তখনি রওনা হয় দীপির উদ্দেশ্যে। রাত তখন বারো পেরিয়েছে। লঞ্চ পাবার আশা নেই। ঢাকামূখী শেষ বাসটাও ছেড়ে গিয়েছে অনেক আগেই। তবুও অতনুকে যেভাবে হোক ঢাকা পৌঁছতে হবে। সদরঘাটে দীপি নিশ্চয় এত ভোরে অতনুকে দেখে চমকে উঠবে। বরফের গলা নদীও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অতনুর ভাগ্য এত ভালো কখনোই ছিলো না। কোন উপায় না পেয়ে অতনু একটা ট্রাকে চেপে বসেছিলো।

দুই দুই বার ঝামেলা বাঁধে পথে। একবার অতনুকে বহন কারী ট্রাকের চাকা পাংচার হয়। একবার ফেরী মিস করে। অনেক কষ্টে অতনু যখন ঢাকা এসে পৌঁছে, ততক্ষণে দীপি অলরেডি বাড়িতে পৌঁছে যায়। অতনুর আর দীপিকে সারপ্রাইজ দেওয়া হয় না। আর দীপিরও এত্তসব জানা হয়ে উঠে না। এক পাহাড় অভিমান নিয়ে কিছুদিন পর দীপি অন্যের হয়ে যায়। অতনুর দীপি এখন অন্যের বউ। রেজিস্টার্ড। বিধাতার কী নির্মম পরিহাস, নিজের বিয়ের দিনই দীপি জানতে পারে তার প্রতি অতনুর না বলা কথা। ইশ একটু আগে যদি জানত? তাহলে গল্পটা অন্যরকম হলেও হতে পারত।

সাত:
গ্রাজুয়েশন শেষ হওয়ার পর শুধু অতনুর জন্যই দীপি ক্যাম্পাসে থেকে গিয়েছিল। কোন কাজ নেই। ক্লাস নেই। প্রচন্ড ব্যস্ততার পর অখন্ড অবসর। অপেক্ষার প্রহর শেষ হতেই চাইত না। কখন আসবে অতনু? তার যে সময় কাটে না। কিন্তু অতনু তখন ভিন্ন জগতের বাসিন্দা। মাদকের ছোবল ওকে সব ভুলিয়ে রাখত। দীপিকে ভুলে যেতো সেই ভয়াবহ স্রোতের তোড়ে। এই ব্যাপারটাই দীপি নিতে পারত না। কিনা করেছে অতনুর জন্য? কখনো কোন রেস্তোরায় খেতে গেলে অতনুর মানিব্যাগ দীপির পার্সের সাথে প্রতিযোগীতায় পারত না। রিক্সা ভাড়ার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অথচ সহপাঠী অন্য জুটিরা তখন নিত্য নতুন গিফ্ট হ্যাম্পারে সয়লাব। ঘুরতে ফিরতে নিজের পার্সটাও পারলে ফিঁয়ান্সের ঘাড়ে চাপায়, দীপি তখন নিজের লাগেজ নিজে নিতেই স্বাচ্ছন্দ্য।

দীপির মনে প্রবল অভিমান ভর করত। তার সাথে কেনো এমন হলো? তার সাথেই কেনো? অতনুকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে কম চেষ্টা করেনি দীপিতা। সাইকিয়াট্রিষ্টের কাছে নিয়ে গিয়েছে, পরিবারকে জানিয়েছে কিন্তু কোন কিছুতেই কিছু হয়নি। ওকে মাদক ছেড়ে যায়নি কিংবা অতনু ছাড়তে চায়নি। তারপরও দীপি লেগে থাকতে চেয়েছিল, অতনু সেই সুযোগ দীপিকে দেয়নি। অথবা নিয়তি দিতে দেয়নি।

আট:
আজ যখন অতনু সংসারে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে, তখন দীপির চোখ ভরে জল আসে। কোথায় থাকে এত জল! অথচ দীপি কত কান্নাই না কেঁদেছে অতনুকে সুস্থ্য দেখার আকাঙ্খায়। প্রিয়জনদের চোখে প্রশ্নবোধক চিহ্ন, কেনো এমন হলো?

অনেকেই দীপিকে স্বার্থপর ভাবত। তখন এই অতনুই বলত, দীপির কোন দোষ নেই। যা হয়েছে সব আমার জন্যই হয়েছে। একদিকে এডিকশন, অন্যদিকে দীপি হারানোর কষ্ট। সবমিলে অতনু তখন সিজোফ্রেনিক। একা একা কথা বলে, হাসে, কাঁদে। তারপরও দীপির ব্যাপারে কনসার্ন। দীপির সম্মানের ব্যাপারে আরো বেশি।

একটা সম্পর্ক ক্লিক না করলে মানুষ সাধারণত একে অপরের দোষ ধরার চেষ্টা করে, শুরু হয় ব্লেম গেইম। এখানেই দীপি অতনু অনন্য। একবারের জন্যও কেউ কাউকে দোষারুপ করে না। অতনুর ভাষায়, যা হয়েছে, বরং ভালো হয়েছে। এতে কারোরই দোষ নেই। হয়তো উপরওয়ালাই আমাদের একসাথে থাকাটা চায়নি। তাছাড়া আমার কাছে এত ভালো তুই থাকতি না দীপি। দীপির সামনেও অনেকগুলো বন্ধ দরজা খুলে গেলো যেনো। আগের না দেখা ব্যাপারগুলো দেখতে লাগল ঠিকঠিক। যে কথাতে আপত্তি ছিলো। এখন সে কথাও মিনিংফুল মনে হয়।

আসলে এটাই সত্যি, চোখের খুব কাছের জিনিস আমরা ঠিক দেখি না। ঠিকঠাক দেখতে হলে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব লাগে। তেমনি অতনু থেকে দূরে গিয়ে ওর অভাবটা দীপি কড়ায় গন্ডায় বুঝতে পেরেছে। বলা ভালো নতুন করে অপ্রিয় বিষয়গুলো ভাবতে পেরেছে। প্রতিটা বিষয়ের সুন্দর একটা ব্যাখ্যাও দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

নয়:
দুতিনমাস পরপর ওদের টুকটাক কথা হতো। এই কেমন আছিস, কি করছিস টাইপ। তারপর দীপির কনফেশন। অতনু প্রতিবারই সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করত। আরেহ বিয়ে একটা করব নে, এত চিন্তা করিস না তো। আর না করলেই কি? দীপির একটাই কথা, আমি তো ঠিকই সংসার করছি, তুই কেনো না? আচ্ছা করছি, করব করতে করতে যায় বছর সাতেক। অবশেষে এক হলদে বিকালে অতনু রাজী হয় কনে দেখতে। দীপিই ব্যাবস্থা করে। তারপর তো ইতিহাস...

এখন অতনু দুই সন্তানের বাবা। সব রকমের মাদক থেকে যোজন যোজন দূরে। হারানো সিক্সপ্যাক ফিরে পেয়েছে। একজন দায়িত্ববান সরকারি কর্মকর্তা। পোষ্ট গ্রাজুয়েশনও শেষ করেছে। সুন্দর এক পারিবারিক জীবন যাপন করে।

দীপির এটুকুই সান্ত্বনা অতনুর ভালোথাকায় কিছুটা হলেও সে লেগে আছে। তবুও কোন এক বিষন্ন দুপুরে মন কেমন করে উঠে। বুকের ভেতর হু হু করে না যাপন করা জীবনটার জন্য। আহা জীবন! আহারে জীবন!

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে