ঢাকা      মঙ্গলবার ১৭, জুলাই ২০১৮ - ১, শ্রাবণ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মুহিব্বুর রহমান রাফে

এম‌বি‌বিএস, বি‌সিএস (স্বাস্থ্য) এম‌ডি (ফি‌জিক্যাল মে‌ডি‌সিন এন্ড রিহ্যা‌বি‌লি‌টেশন) ‌ফি‌জিয়্যা‌ট্রিস্ট।


ক্যারিয়ার ও সাবজেক্ট চয়েস

মনে রাখব, ডাক্তার জীবন একটি কন্টিনিয়াস জার্নি অফ এক্সিলেন্স। 
সো ক্যারিয়ার প্ল্যান কেন এক টার্মের হবে? 
এটা না হলে, ওটা হবে। ওটা না হলে আরেকটায় হবে।  পড়াতো একই ।  জাস্ট ধরে রাখুন। শেষ না হওয়া অবধি। কুলে আপনাকে ভিড়তেই হবে।
কোন একটা সাবজেক্ট ভালো আর আরেকটা খারাপ; কোনটা ব্রাক্ষণ আর কোনটা নমশুদ্র; এর ডি-মার্কেটিং পয়েন্ট কি? (প্রতিকী অর্থ করছি,কষ্ট নেবেন না)
ভর্তি পরীক্ষায় বেশি লোক পরীক্ষা দেয়, এটাই? 
নাকি অবচেতন মনের ভেতরে থাকা "ইনকাম" কথাটা? 
কম বেশি, এটাই হতে পারে বহুজনের মত।
সাবজেক্টের কারণে মর্যাদা সম্মান ভ্যারি করে এটা সোকল্ড লেম্যান সাইকি। বেসিক সাবজেক্টের সবর্জন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আজ আমাদের মেডিকেল এসোসিয়েশনরে সর্বোচ্চ নেতা। আবার বিএসএমএমইউ-র সম্মানিত সাবেক ভিসি স্যারের কথা ভাবুন তো? কয়জন ব্রাক্ষণ সাবজেক্টের লোক এ চমৎকার মানুষটির জায়গায় আসতে পেরেছেন/ পারবেন? সাবজেক্ট নিয়ে এ ধরনের প্রশ্ন তোলা হীনমন্যতা। 
পোস্ট গ্রাজুয়েটই যে দেশে কম, সেই বাংলাদেশে প্রতিটি সাবজেক্টই আমার কাছে সম্ভাবনাময়। 
পাশ করার পর উন্নতির জন্য আপনার আমার ক্যারিশমা আছে কিনা, সেটাই হয়তো মুখ্য হয়ে দাড়াবে। 
কে কি বলল না বলল, জাস্ট লিভ ইট ম্যান। 
নিজে ভাবুন;মনস্থির করুন। 
নিচের প্রশ্নের সাথে উত্তর মেলান।
আপনার পাশ করার পর কত বছর গেছে? 
জাস্ট নিউ কামার? বহু সময় আছে; স্বপ্নের সাবজেক্টের পেছনেই থাকুন।
আপনি প্রস্তুত, পড়েছেন, ক্যাপাবল, কনফিডেন্ট?
স্বপ্নের পেছনেই থাকুন।
অনেক বছর ট্রাই করছেন, এবার হতেই হবে?
যেখানে প্রতিযোগিতা কম, বেছে নিন। তবে এবছর এটার বিষয়ে বলা কঠিন।
অনেক বছর জীবন থেকে ঝরে গেছে, এবারই প্রথম দিচ্ছেন?
আপনার জন্য এটা প্রথম বছর, লেগে থাকুন।
সেবা-টেবা কনজারভেটিভ কথা। টাকা পয়সাই ইম্পরটেন্ট?
সাজারী ফ্যাকাল্টি আর মেডিসিনের যেখানে ইন্টারভেনশন আছে, সেখানে যান। শুধু একটু খেয়াল রাখবেন, কারো কারো দীর্ঘশ্বাস,অশ্রু যেন আপনার টাকায় না মিশে, ওটা পরে পরিবারের উপরে দিয়ে যাবে। ম্যাল প্র্যাকটিস না করলে একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে।
আপনি হতাশ,বছর বছর বসছেন বাট সব ব্যস্ততাও চালিয়ে যাচ্ছেন, পড়ায় নিয়মিত নয়, সিজনাল পড়েন?
ধৈয্য পরীক্ষার জন্য মনকে তৈরি রাখা ভালো। আসলেই কি ডিগ্রি করতে আন্তরিক? যারা চান্স পাচ্ছে, তাদের দেখুন। চান্স আপনাকে উল্টো বিপদে ফেলতে পারে।
পড়ায় নিয়মিত নয়, সিজনাল পড়েন?
ছয়টা মাস পড়ার জন্য এবসলিউটলি কবে দেবেন? নইলে গ্যারান্টি নেই।
পোস্ট গ্রাজুয়েশন করতে চান, সে যে বিষয়ই হোক, এত চাপ ভালো লাগেনা?
বেসিকের ফিল্ড পুরোটা ফাঁকা। এত এত মেডিকেল কলেজ। আপনার ব্রাক্ষণ বন্ধু যখন মেডিকেল অফিসার, হয়তো দেখবেন আপনি তখন সহকারী অধ্যাপক। আর যখন আপনি অধ্যাপক, তখন হয়তো তিনি ওখানেই আছেন।
বেসিক নয়, সম্ভাবনাময় ক্লিনিক্যালগুলো কি?

আগে যা ছিল সেগুলোতো আছেই। সাথে গতবার ও এবার যা যা খুলেছে, সবগুলো। মনে রাখবেন, আপনি বের হবেন পাঁচবছর পর। সময় অনেক বদলাবে। মানুষ এখন আগে জেনে যায় এ বিষয়ে কে বেস্ট? 
দশবছর আগে রিউমেটজি, সিসিএম, ফিজিক্যাল মেডিসিন,হেপাটোবিলিয়ারি,ফিটোমেটারনাল, অটিজম, ইনফার্টিলিটি বিষয়ে কি হয়, কেউ ডিটেইল জানতাম না? আর এখন?
সাবজেক্ট চয়েসে কি কি সামনে রাখব?

কেন আপনি সাবজেক্টে যেতে চান; তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা;
আপনার স্বপ্ন/আকাঙ্খা বনাম প্রস্তুতি; 
আপনার অতীত রেকর্ড বনাম এখনকার প্রস্তুতি;
আপনার পরিবার,স্পাউসের পরিবেশ; বাচ্চার সাপোর্ট/স্কুলিং/পড়া ও ম্যানেজমেন্ট; 
আপনার চাকুরি/আয় ব্যয়ের বাস্তবতা; 
৫ বছরের লম্বা কোর্সের জন্য ধৈয্য, 
পছন্দনীয় সাবজেক্টের স্যারদের মানসিকতা, পূর্বসূরীর বক্তব্য 
ঢাকার বাইরে চয়েস দিলে সেজন্য আপনার প্ল্যানিং;
আপনার পাশ করার পর কতবছর গেছে, সেটা; 
আপনি কিসে এক্সপার্ট বা ট্রেনিং সম্পন্ন করেছেন, সেটা;
ভর্তি হবার পূর্বে ভাবুন, আপনার মন কি সত্যিই কি সাবজেক্টটার সাথে তাল মেলাতে পারবে?
ডিগ্রীতে_ঢোকার_চাইতে_বের_হওয়াই_মূলকথা। 
বহু ব্রাক্ষণ ডিপার্টমেন্টের দেয়ালে মিশে আছে বছরের পর বছর পাশ না করা, এগিয়ে পরে কোর্স ছেড়ে দেয়া বা কোর্স আউটের চাপা কান্নার সুর। এমনও দেখেছি দুবছর যেয়ে সাবজেক্ট থেকে মুক্তি পাবার জন্য হাসফাস করা অনেক মুখ। 
দেখেছি তিন বছরের বেসিকের কোর্সকে কি করে পাঁচ বছর টেনে নেয়া হয়।
আগে মনস্থির করুন। 
যে বিষয়ে ক্যারিয়ার করব, সেটাকে ভালোবাসতে হবে। সব সাবজেক্টের পজিটিভ নেগেটিভ আছে। বিজি সাবজেক্ট পড়বেন; আবার স্পাউস/পরিবার/বাচ্চা/প্র্যাকটিস/ইনকামকেও সমানতালে রাখবেন, তা হবে না। আবার প্র্যাকটিস একটু কম আর সব সন্তানের জন্য ফ্ল্যাট রাখতে হবে, সে চিন্তায় কিন্তু গুড়েবালি।
আমি কি পারব?
পোস্ট গ্রাজুয়েশনই কি সব, না হলে কি এ চিকিৎসক জীবন বৃথা? মোটেই না। বহু ডাক্তার অন্য প্রফেশনে থেকে লিড করছেন। তবে আপনি "পারবেন না", বলার আগে তার গ্যারান্টি পত্রটা আমাকে ইনবক্স করুন। পোস্ট গ্রাজুয়েশন বা ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে; আপনি কয়টায় অনার্স পেয়েছিলেন, কতটা ট্যালেন্ট; সাপ্লি ছিল কিনা; চান্স জন্য এসবের কোন গ্যারান্টি নেই।
যে লেগে থাকবে, সেই এগিয়ে যাবে। 
যে সহে, সে রহে।
ক্যারিয়ার প্ল্যান কেন এক টার্মের হবে? এটা না হলে, ওটা হবে। ওটা না হলে আরেকটায় হবে। পড়া তো একই। জাস্ট ধরে রাখুন। শেষ না হওয়া অবধি। কুলে আপনাকে ভিড়তেই হবে।
(বিরক্তিকর, জ্ঞানগর্ভ কথা): 
কনফিউশনযুক্ত নিয়ত; আমাদের ভুল পথে চালিত করে। পোস্ট গ্রাজুয়েশন করে আসলে কি চাই? 
সেটা আগে ঠিক করুন। টাকা মূল হলে আপনি নিশ্চিত ভুল পথে চলছেন।
আমার নিজের চাওয়াটা কি জানেন?? 
নিজের সাবজেক্টের কিছু বাড়তি জ্ঞান নিয়ে, কিছু কাজ শিখে, এদেশের মানুষকে বেস্ট সার্ভিসটা দিয়ে সার্থক হতে চাই। বাকী যা পাব, বাই প্রোডাক্ট, লজিক্যাল সিকোয়েন্স।

জীবনকে সুন্দর করার জন্য পোস্ট গ্রাজুয়েশন;
পোস্ট গ্রাজুয়েশনের জন্য জীবন নয়। 
নতুনদের প্রতি রইল একরাশ শুভকামনা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর