ঢাকা      রবিবার ২০, জানুয়ারী ২০১৯ - ৭, মাঘ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. আশরাফুল হক

মেডিকেল অফিসার,

এমআইএস, ডিজিএইচএস


ট্রান্সফিউশন মেডিসিনে নতুন দিগন্ত

ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের ডায়াগনোসিস সেক্টরে একসময় যাদের পদচারণা ছিল তাদের মধ্যে আমাদের অনেক সিনিয়রের অবদান অনিস্বীকার্য। উনারা শুধু এটাকে ধরে রাখেননি বরং অনেক উন্নয়ন সাধন করেছেন। যার কারণে এটি নানা জটিল সমস্যা নির্ণয়ের আস্হার স্হানে রূপান্তর হয়েছে।

অন্য অনেক ডিসিপ্লিনের মত এই সেক্টরেও নতুন কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে যার অপর নাম থেরাপিউটিক ট্রান্সফিউশন মেডিসিন। থেরাপিউটিক প্লাজমা একচেঞ্জ, পেরিফেরাল ব্লাড স্টেম সেল কালেকশন, অটেলোগাস প্লাটিলেট রিচ প্লাজমার নিত্য নতুন ব্যবহার একে শুধু সমৃদ্ধ করেনি, নিয়েছে নতুন চূড়ায়। 

ট্রান্সফিউশন মেডিসিন একটি পরিবার। আমাদের সিনিয়রদের থেকে আমরা তাই শিখছি প্রতিনিয়ত। বিএসএমএমইউর ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের চেয়ারম্যান প্রফেসর Ashadul Islam Asad স্যারের অধীনে আমরা প্রায় ৭০ এর অধিক টিপিই সম্পন্ন করেছি, যার সফলতা আল্লাহর রহমতে খুব ভালো। পঞ্চাশের অধিক GBS,৭ এর অধিক Myasthenia crisis, একটি ATM (যার উদাহরণ অন্যদেশেও নগন্য), ১টি Multiple Myeloma, ১টি LEMS, ১টি CIDP, ১টি TTP, ১টি SLE with RPGN সহ অনেক কেস সফলতার সাথে করা সম্ভব হয়েছে। 

আগে এনেস্থিসিয়া বিভাগের সহায়তায় কাজ করা হলেও ২০১৬ এর শেষের দিক থেকে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবে নিজেরাই কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে। ৬০ এর অধিক পেরিফেরাল ব্লাড স্টেম সেল কালেকশন করা হয়, যার সিংহভাগই লিজেন্ডারি লিভার বিশেষজ্ঞ এবং PBSC এর প্রথিকৃত প্রফেসর Mamun Al Mahtab স্যারের বদন্যতায় হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেলের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর Mazharul Hoque Tapan স্যার অতি শীঘ্রই থেরাপিউটিক ট্রান্সফিউশনের জন্য অত্যাধুনিক ডে-কেয়ার চালু করতে যাচ্ছেন। উনার অধীনে বেশ কয়েকটি টিপিই(GBS,RPGN উল্লেখযোগ্য), পেরিফেরাল ব্লাড স্টেম সেল(ভাস্কুলার ডিজিস এবং জয়েন্ট আর্থ্রাইটিস-দুটোই বাংলাদেশে প্রথম) কালেকশন করা হয়।

NICVD এর ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক Sheikh Daud Adnan স্যারের অধীনে সরকারী সেক্টরে সর্বপ্রথম রেনাল কেস টিপিই শুরু হয় এবং তিনিই সর্বপ্রথম সরকারী সেক্টেরে পেরিফেরাল ব্লাড স্টেম সেল ইউজ ইন স্পাইনাল কর্ড ইঞ্জুরিতে ব্যবহারে সহযোগীতা করেন।

NINS এর ট্রান্সফিউশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক Ferdous Ara মেডাম এ পর্যন্ত ১৫০ এর অধিক টিপিই সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।

যাত্রার প্রথমদিকে সবকিছুই বন্ধুর ভাবেই শুরু হয়, তাই সামনের দিনগুলি মসৃনভাবেই আগাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। জয়তু থেরাপিউটিক ট্রান্সফিউশন মেডিসিন, জয়তু ভাতৃত্ববোধ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চার বছর বয়সেই ডিপ্রেশনে আক্রান্ত!

চার বছর বয়সেই ডিপ্রেশনে আক্রান্ত!

ইশরাত জাহান, বয়স বর্তমানে ১৫। তার মা-বাবা থেকে জানা গেল যখন তার…

সরকারী স্বাস্থ্য সেবা এখন জনগণের দোরগোড়ায়

সরকারী স্বাস্থ্য সেবা এখন জনগণের দোরগোড়ায়

আমাদের দেশের জনগনের বড় অংশ বসবাস করেন গ্রামে। সুতরাং গ্রামের মানুষের কথা…

অপারেশনের আগে রোগীর প্রস্তুতি

অপারেশনের আগে রোগীর প্রস্তুতি

অপারেশন লাগবে শুনলে সবারই ভয় বা দুশ্চিন্তা লাগে। কেউই সহজে অপারেশন করতে…

একজন মোকছেদ ভাই ও আমাদের ব্যর্থতা

একজন মোকছেদ ভাই ও আমাদের ব্যর্থতা

২০০১ সাল, ৫৫/১ আরামবাগ- "ঐ পাগলা! উঠ, দশটা বাজে। আর কত্তো ঘুমাবি?" …

গ্যাসের সমস্যা নিয়ে নানা জটিলতা

গ্যাসের সমস্যা নিয়ে নানা জটিলতা

চাচার বয়স পঞ্চাশের মত। সকাল থেকেই বুকে একটু ব্যাথা ছিল, আর বুক…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর