ঢাকা      সোমবার ১৮, জুন ২০১৮ - ৪, আষাঢ়, ১৪২৫ - হিজরী



মো: গোলাম মোস্তফা

এমবিবিএস, গণচীন


পর্ব-৬

কিডনি রোগ সমাচার  

দীর্ঘদিন ধরে কিডনির বা বৃক্কের রোগ চিকিৎসার খরচ ব্যয়বহুল ও রোগী মৃত্যুর দিক থেকে বিপদজনকের দিকে তিন নম্বর অবস্থানে আছে সমগ্র বিশ্বে! প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ ডায়ালাইসিস করে থাকে, কিডনি বিকল হওয়ার জন্য।

একটা পরিবারের একজন ব্যক্তির হলে সে পরিবারে ধ্বংস বা লালবাতি জ্বলা ছাড়া উপায় নাই।

মানব কোষের বিপাকের সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য নিস্কাশন রেচনতন্ত্রে হয়ে থাকে, এর মধ্যে প্রায় ৮০ভাগ কিডনির মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়। উভয় কিডনি ১৩০০মি.লি. ব্লাড গ্রহণ করে প্রতি মিনিটে, প্রায় ২৬% কার্ডিয়াক আউটপুট! ২৪ ঘন্টায় প্রায় ১৮০ লিটার ব্লাড বা সমগ্র ব্লাডকে ২০-২৫ বার ফিল্টার করে।

কিডনির কাজ:

Role in Hemeostasis:
- প্রাথমিক ভাবে কিডনি মুত্র তৈরি করা
- রক্তের প্রোটিন বিপাকে সৃষ্ট নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ অপসারণ করা ( urea,uric acid,Creatinine,Bilirubin etc).
- দেহের পানির ভারসাম্য রক্ষা করা
- Maintenance of Electrolyte Balance (রক্তের সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফেট এবং ক্লোরাইড ও লবণের পরিমান নিয়ন্ত্রন করা).
- Acid-Base Balance (অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা)

Hemopoietic: Secreting Erythropoietin (এরিথ্রোপোয়েটিন) important stimulating Factor Erythropoiesis.

Endrocrine:
- হরমোন নি:সরণ
- Thrombopoietin
- Erythropoietin
- Renin
- 1,25 -dihydroxycholecalciferol
- Prostaglandins
- Regulation of blood pressure
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা
1.Regulating the volume of extracellular Fluid
2.Renin-Angiotensin Mechanism
- রক্তের ক্যালসিয়াম লেভেল নিয়ন্ত্রণ! ভিটামিন ডি-৩ উৎপন্ন করা।

ডায়ালাইসিস: 
কিডনি যখন সম্পূর্ণভাবে তার কার্যক্রিয়া বা ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে বিকল হয়ে যায় তখন নেফ্রোলজিস্ট সাজেস্ট করেন রোগীকে আপনার বেঁচে থাকতে হলে ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি ট্রান্সপ্লাটশন করতে হবে।

১৯৪৩ সালে হল্যান্ডের চিকিৎসক উইলিয়াম জন কফ সর্বপ্রথম কিডনি ডায়ালাইসিস করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি বেভারেজ ক্যান, ওয়াশিং মেশিন, সারজি ক্যাসিং ইত্যাদি ব্যবহার করেন। (১৯৪৪-১৯৪৫) এই দুবছর ১৩ জন একুয়েট কিডনি ফেইলর রোগী নিয়ে পরিক্ষা চালান কিন্তু তিনি সফল হতে পারেননি।

১৯৪৬ সালের ৩ই সেপ্টেম্বর একুয়েট কিডনি ফেইলর রোগীর ওপর ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়া সাফল্য অর্জন করেন, নীলস এ্যালয়াল চিকিৎসক(Kolf Dialysis Machine) দিয়ে। তিনি প্রথমে দেহ থেকে ফ্লুয়িড রিমিভ করেন, নেগিটিভ প্রেসারের মাধ্যমে আউট সাইড কন্টেনই থেকে। আর সেটাই পরবর্তীতে হিমোডায়ালাইসিস নামকরণ করা হয়।

ডায়ালাইসিস কী?
একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিলির ভেতর দিয়ে নির্বাচন মুলক ব্যাপন প্রক্রিয়ার কোনো দ্রবণের কলয়ডাল পদার্থ থেকে দ্রবীভূত পদার্থের পৃথকীকরণ ও রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি অপসারণ করা হয়।

প্রকারভেদ: 
ডায়ালাইসিস সাধারণত প্রাইমারিতে তিন প্রকার আর সেকেন্ডারিতে দুই ধরণের।
প্রাইমারি:
১. হিমোডায়ালাইসিস 
২. পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস 
৩. হিমোফিল্টারেশন

সেকেন্ডারি:
১. হিমোডিয়াফিল্টারেশন 
২. ইন্টিস্টাইনালডায়ালাইসিস 

হিমোডায়ালাইসিস: 
প্রক্রিয়ায় কিছু যন্ত্রপাতি, দ্রবন ও টিউবের সমন্বয়ে একটি কৃত্রিম বৃক্ক বানানো হয়। কৃত্রিম কিডনি প্রায় আসল কিডনির মতই নীতি অনুসরণ করে কাজ করে। রক্তকে পাম্প দিয়ে শরীর থেকে বের করে, বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করে এবং পরিস্রুতটুকু দেহে ফেরত পাঠায়।

পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস: 
কৃত্রিম ঝিলির পরিবর্তে দেহে অবস্থিত অকৃত্রিম পেরিটোনিয়াল ঝিল্লিকে ডায়ালাইসিস ঝিল্লি হিসেবে ব্যবহার করে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে থাকে।

সময়:
হিমোডায়ালাইসিস প্রতি সপ্তাহ অন্তত দুবার করতে হয়। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে (৬-৮) ঘন্টা লাগে।

যেসব রোগীদের ডায়ালাইসিস করতে হয়:
- একুয়েট কিডনি ইঞ্জুরি( AKI)
- ক্রনিক কিডনি ডিজিস( CKD)
- ক্রনিক কিডনি ফেইলর(CKF)
- ইন্ড স্টেজ রেনাল ফেইলর(ESRD)
- ইন্ড স্টেজ কিডনি ডিজিস(ESKD)
- মেটাবলিক এসিডোসিস
- ইলেক্ট্রোলাইট ইনব্যালেন্স
- ইন্টোট্রক্সিকেশন

ডায়ালাইসিস করলে যেসব প্বাশপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে:
- উচ্চ রক্তচাপ
- নিম্নরক্তচাপ
- মাংসপেশি ব্যাথা
- শরীর চুলকানো
- ঘুমের সমস্যা
- রক্তশুন্যতা
- হাড়ের রোগ
- ফ্লুয়িড ওভারলোড
- মাথা ঘুড়ানো
- বমি বমি ভাব
- শরীর দুর্বল
- ড্রাই মাউথ
- সেপসিস(রক্তে পয়ংনিং)
- সেক্সয়াল একটিভিটি হ্রাস পাবে
- দুশ্চিন্তা বেড়ে যাবে
- ক্ষুধা-মন্দা
- পেটে ব্যথা দেখা দিতে পারে, ইত্যাদি।

রিস্ক ফেক্টর:
- হঠাৎ কার্ডিয়াক ডেথ
- কনগ্রেস্টিভ হার্ট ফেইলর
- ক্রনিক লান্স ডিজিস
- হেপাটাইসিস সি ভাইরাস
- ডায়াবেটিকস, ইত্যাদি।

ডায়ালাইসিস করে কত বছর ভাল বা বেঁচে থাকা যায়:
- কিছু রোগী (৫-১০) বছর বাঁচে
- কিছু রোগী (২০-৩০) বছর বাঁচে
- একচুয়্যালি বয়স ও রোগের উপর নির্ভর করে।

ডায়ালাইসিস রোগীর ফলোয়াপ:
- সিরিয়াম ক্রিটিনিন টেস্ট(Serum Creatinine) 
- সিবিসি টেস্ট (CBC)
- রক্তের গ্লুকোজ এর পরিমান দেখা(RBS). এসব টেস্ট মাসে অন্তত একবার করে দেখা।

খাবার:
- প্রোটিন যুক্ত খাবার কম খেতে হবে(ফলে কম ইউরিয়া উৎপন্ন  হবে)
- পানি ও লবন পরিমানের তুলনায় একটু কম খেতে হবে(মুত্রের পরিমান কম হবে)
- কম পটাসিয়াম খাবার
- ফাস্ট ফুড নিষেধ 
- অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না
- ব্যথানাশক বড়ি খাওয়া যাবে না।
- এলকোহল, ডিংকস ও কোমলপানীয় ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

আরও পড়ুন-

►কিডনি রোগ সমাচার: পর্ব- এক

►কিডনি রোগ সমাচার: পর্ব- দুই

►কিডনি রোগ সমাচার: পর্ব-তিন

►কিডনি রোগ সমাচার: পর্ব- চার

►কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার যত লক্ষণ পর্ব-পাঁচ

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নিজে বাঁচতে কিডনি বাঁচাই

নিজে বাঁচতে কিডনি বাঁচাই

বেঁচে থাকার জন্য সুস্থ কিডনি অপরিহার্য, তাই কিডনি বিনষ্টকারী উপাদানগুলো সম্পর্কিত তথ্য…

ঘুমের আধিক্য স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক?

ঘুমের আধিক্য স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক?

শরীর সুস্থতার জন্য ঘুম এক অপরিহার্য উপাদান। তবে মাত্রাতিরিক্ত ঘুম এক ধরণের…

ডায়াবেটিসের বড় দাওয়াই

ডায়াবেটিসের বড় দাওয়াই

হাঁটা বা নিয়মিত ব্যায়াম এখন পর্যন্ত ডায়াবেটিসের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।…

মরণঘাতী হৃদরোগ থেকে বাঁচবেন কিভাবে?

মরণঘাতী হৃদরোগ থেকে বাঁচবেন কিভাবে?

অগ্রসরমান পৃথিবীতে হৃদরোগীর সংখ্যা আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে। সারাবিশ্বে মৃত্যুর প্রধানতম কারণ হচ্ছে…

রক্তদান করে কী লাভ? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ

রক্তদান করে কী লাভ? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ

আমাদের শরীরের সামান্য রক্তে একজন রোগীর অনেক উপকার হয়। অনেক মানুষ এই…

পানিশূন্যতা রোধে কী খাবেন?

পানিশূন্যতা রোধে কী খাবেন?

মেডিভয়েস ডেস্ক : গ্রীষ্মকালে বাইরে প্রচন্ড গরম।  এসময় শরীর থেকে প্রচুর পানি…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর