ঢাকা      মঙ্গলবার ২৩, অক্টোবর ২০১৮ - ৮, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মৃণাল সাহা

চিকিৎসক, লেখক ও মেডিসিন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণরত।


ডাক্তারই বোঝেন রোগীকে বাঁচাতে না পারার যন্ত্রণা কত 

একশ কিংবা হাজার রোগী ভালো করে যে তৃপ্তি পাওয়া যায় একটা রোগীর অপ্রত্যাশিত খারাপ হওয়া তার চেয়ে অনেক বেশিই কষ্ট দেয়। রোগীর খারাপ হবার সাথে সাথে ডাক্তারের ওপর যে মেন্টাল স্ট্রেস পড়ে সেটা ভুক্তভোগী ডাক্তারই একমাত্র বুঝতে পারেন। এই কষ্টের তুলনা নেই।

আজকাল ট্রেন্ড হচ্ছে, ডাক্তারের বদনাম করা। ডাক্তারকে মারধর করা কিংবা অভিভাবক কর্তৃক অভিযুক্ত হয়ে অপদস্ত হওয়া কিংবা পত্রিকায় নেগেটিভ খবর হওয়া। অথচ এর চেয়ে অনেক বেশি কষ্টের হচ্ছে ডাক্তারের নিজের ভেতরের অন্তর্দহন। কাউকে বলে বোঝানো যায় না সেই কষ্টের তীব্রতা।

আমার প্রতিটি রোগীর মৃত্যু হয়তো আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে, যা অন্য রোগীর জন্য উপকারী হয়েছে। কিন্তু প্রতিটা মৃত্যু আমার বুকের ভেতরে যে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে সে ক্ষত আমাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। এটা চিরস্থায়ী! এটাই ডাক্তারের জীবন।

এত স্ট্রেসফুল পেশা আর কোনটা আছে কিনা আমার জানা নেই। কোন রোগী খারাপ হলে যে পরিমান হতাশায় ডুবতে হয় তা বলে বোঝানো যাবে না। ডাক্তারের দোষ ছিল, কী ছিল না সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে একজন রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে যখন সে খুব কাছের একজন হয়ে যায় তখন তার জন্য কিছু করতে না পারার হতাশা। এটা আসলেই পীড়াদায়ক।

খুব কম সুবিধা নিয়ে আমাদের ডাক্তারদের পথ চলা। কোন কিছুই আমাদের পক্ষে থাকে না। কিছু রোগী বিশ্বাস করে, ভালোবাসে, হয়তো এ কারণেই আমরা এখনো টিকে আছি। একটা রোগী খারাপ হলে সেই ভালোবাসার অধিকারটাই কষ্টের কারণ হয়। প্রিয় মানুষের বিদায়ের মতোই একটা হাহাকার বুকের ভেতর আর্তনাদ করে ওঠে। কাউকে দেখানো যায় না সে কষ্ট। কেউ শুনলে অবাক হয়ে বলবে, ডাক্তারের আবার কষ্ট কিসের?

এভাবেই চলতে হয়। এখানে ভুলের সুযোগ নেই। সুযোগ নেই ভালোবাসার অথবা কষ্ট পাবার। ডেথ ডিক্লায়ার করে হাত ধুয়ে এসেই হয়তো বার্থ সার্টিফিকেট রেডি করতে হয় নতুন কোন নবজাতকের। এখানে কষ্ট পাবার সুযোগ কোথায়? এত স্ট্রেস, তবুও হাসি মুখে রোগীর সাথে কথা বলতে হয়। এটাই জীবন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

প্রমিতি, বয়স- ১৬। এইচএসসি ১ম বর্ষে পড়ে। প্রাণবন্ত, উচ্ছ্বল প্রজাপতির মতো। যখন কথা…

ইন্টার্ন ডাক্তারদের আবার কষ্ট আছে নাকি?

ইন্টার্ন ডাক্তারদের আবার কষ্ট আছে নাকি?

আপনার বেতন কত? ছোটবেলায় শুনেছিলাম এ প্রশ্ন করা নাকি বেয়াদবি! সেই ভয়ে…

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

তখন আমি সিওমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন। মেডিসিন ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছেন প্রফেসর ইসমাইল পাটোয়ারি…

‘কেটা ফের জানতোক যে, পিঁপিয়া খাল্যে ছ্যালা ধলো হয়?’

‘কেটা ফের জানতোক যে, পিঁপিয়া খাল্যে ছ্যালা ধলো হয়?’

এক সদ্য গর্ভবতী রোগীকে কাঁচা পেঁপে খেতে নিষেধ করলাম। - আনারস আর কাঁচা…

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ফাঁকিবাজির মহান ব্রত নিয়ে ইন্টার্নি শুরু করেছিলাম। আমি জন্মগত ভাবেই ফাঁকিবাজ। সবাই…

‘বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে’

‘বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে’

ডাক্তার- আপনার সমস্যা কী? রোগী- বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে। ডাক্তার-…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর