ঢাকা      মঙ্গলবার ১৭, জুলাই ২০১৮ - ১, শ্রাবণ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. এম. ফরহাদ

মেডিসিন ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ


কামরাঙ্গা খাচ্ছেন নাকি বিষ!

কি যে বলেন, এমন একটি সুস্বাদু ফল কামরাঙ্গা খাওয়া কি বিষ? কামরাঙ্গা কাঁচা টক অবস্থায় যেমন সুস্বাদু, তেমনি পাকা মিষ্টি অবস্থায়ও অনেক উপাদেয়। প্রাক ঐতিহাসিক যুগ থেকে কামরাঙ্গা  বেশ জনপ্রিয় ফল। 

জনপ্রিয়তার কারণ ফল হিসাবে সাধারণ মানুষের পছন্দ আর এর ওষুধি গুনাগুণ। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা আছে বলে অনেকের কাছে সমাদৃত।কিন্তু অতি সম্প্রতি কামরাঙ্গা বা কামরাঙ্গার রস খাওয়ার পর কিডনি বিকল হওয়াতে যত বিপত্তি, এর মধ্যে অনেকেই তা ডায়াবেটিসের জন্য খেয়েছেন। 

কামরাঙ্গার কারণে কিডনি বিকল কি নতুন? আগে কি কখনও হয়নি? না তা হবার নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ার ফলে অজানা অনেক রোগ সম্পর্কে মানুষ জানতে পারছে। 

কামরাঙ্গা বা তার রস মানুষ কী কারণে খায়?
সাধারণত ফল হিসাবে কাঁচা বা পাকা কামরাঙ্গা বেশ জনপ্রিয়। শুধু বাংলাদেশ নয় এশিয়ার অনেক দেশে ডায়াবেটিসসহ আরও কিছু রোগের চিকিৎসায় প্রচুর পরিমাণে কামরাঙ্গার রস একসাথে অথবা প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে অনেকদিন ধরে পান করে থাকে।

কামরাঙ্গায় বিশেষ কী রয়েছে?
কামরাঙ্গায় রয়েছে নানা পুষ্টিগুন। এছাড়াও রয়েছে দুইটি বিশেষ উপাদান। যেমন- 
১. অক্সালিক এসিড।
২. ক্যারাম্বক্সিন। 
অক্সালিক এসিড, টক অবস্থায় মিষ্টি অবস্থার চেয়ে বেশি থাকে।

কামরাঙ্গা কিভাবে ক্ষতি করে?
সাধারণত যাদের কিডনি ভাল স্বাভাবিক পরিমাণে কামরাঙ্গা খেলে তাদের কোন ক্ষতি হয় না। তবে এরা যদি অত্যাধিক কামরাঙ্গা বা রস অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণে অনেকদিন গ্রহণ করে তাহলে শরীরে অতিমাত্রায় অক্সালিক এসিড জমে গিয়ে অক্সালেট নেফ্রোপ্যাথি হয়ে কিডনি বিকল হতে পারে। 

তাছাড়া যাদের কিডনি সমস্যা রয়েছে, তারা যদি অল্প পরিমাণ কামরাঙ্গা বা রস যেমন একটি বা কয়েক টুকরা কামরাঙ্গা খেলেই কিডনি বিকল হয়ে যায়। 

অন্যদিকে যাদের ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা ক্রনিক কিডনি ফেইলিউর রয়েছে, তারা কামরাঙ্গা খেলে অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থায় মানুষের মৃত্যুর হার বেশি। আগে মনে করা হত কিডনি ফেইলিউরের মাত্রা বাড়ার কারণে এ অবস্থা হয়, কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা গেছে কামরাঙ্গার ক্যারাম্বক্সিন নামক উপাদানের জন্য এ অবস্থা হয়।

তাহলে কামরাঙ্গা কী একদম খাওয়া যাবে না?
আসলে তা নয়, যাদের কিডনি ভাল তারা স্বাভাবিক পরিমাণ কামরাঙ্গা খেতে পারবেন। অত্যাধিক পরিমাণ কামরাঙ্গা খাওয়া এবং যাদের কিডনি সমস্যা আছে তারা কামরাঙ্গা বা এর রস পান হতে পুরোপুরিভাবে বিরত থাকবেন।

প্রাকৃতিক বা গাছ-গাছড়া থেকে উৎপন্ন এমনও ঔষধ আছে যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কেউ কিছুই জানেন না, তা সেবন আপনার মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তাই উদ্ভিদ ঔষধ সবসময় নিরাপদ ভাবার উপায় নেই। 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মরণব্যাধি রোগ এমজি

মরণব্যাধি রোগ এমজি

মেডিভয়েস ডেস্ক : সতর্ক না হলে এখনকার স্বল্প পরিচিত যৌনবাহিত একটি রোগই সামনের…

ডায়রিয়া রোগীকে কখন কলেরা স্যালাইন দেয়া হয়?

ডায়রিয়া রোগীকে কখন কলেরা স্যালাইন দেয়া হয়?

কলেরা হলো এক ধরনের সিক্রেটরী ডায়রিয়া যা Vibrio cholerae নামক ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমনে হয়ে…

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ ও চিকিৎসা

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ ও চিকিৎসা

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস হলো এক ধরনের বাত, যার ফলে গোত্রের ব্যথা, ফুলে যাওয়া…

গর্ভবতী মায়েদের আয়রন কেন দরকার?

গর্ভবতী মায়েদের আয়রন কেন দরকার?

গর্ভবতী এবং রক্ত স্বল্পতা খুবই কমন একটি বিষয়। শুধু আমাদের দেশ নয়,…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর