ঢাকা      মঙ্গলবার ২৩, অক্টোবর ২০১৮ - ৮, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. হৈমন্তী মজুমদার

এমবিবিএস, ১০ম ব্যাচ।
গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ।


পর্ব-১

উচ্চশিক্ষায় সীমানা ছাড়িয়ে

আমি গত অক্টোবরে দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার্থে এসেছি।  স্কলারশিপ নিয়ে  public Healthg এ  মাস্টার্স করছি University of Chester,UK তে।  দেশের বাইরে আসার পরে ছোট বড় অনেকেই এ ব্যাপারে অনেকই প্রশ্ন করেছেন, আগ্রহ দেখিয়েছেন প্রসেসিংয়ের ব্যাপারে জানতে চেয়ে। 

আমি সাহায্য করেছি আমার মত করে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে। স্নেহের ছোট ভাই নাজমুল একবার বলেছিল এই ব্যাপারে সামগ্রিক একটা ধারণা দিয়ে লেখা দিতে।  তখন ভেবেছিলাম, কে কিভাবে নেয় ব্যাপারটা তাই এড়িয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আজ মনে হল মেডিকেলের ছাত্রী হিসেবে আর কিছু না পারি কিছু অনুপ্রেরণা আর তথ্য দিয়ে যদি পরবর্তীতে দু’একজনকেও যদি সাহায্য করা যায় সেটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া হবে।

এখন কাজের কথায় আসি।  দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষায় যেতে হলে আগে ভাবুন কি বিষয়ে পড়তে যাবেন, আপনার প্যাশনের জায়গা কোথায়?  তারপর বিষয় নির্বাচন করুন।  দীর্ঘ এক দেড় বছর এর পেছনে লেগে থাকার কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সার্চ করার সুবাদে দেখেছি অনেক ভাল ভাল বিষয় MSc করার সুযোগ রয়েছে পৃথিবীব্যাপী।  Neurology, Cardiovascular medicine, molecular related subjects, pathology related subjects, infectious disease, Immunology, transfusion medicine, Gestroenterology, Oncology ইত্যাদি অসংখ্য।

সময় নিয়ে University ঘাটুন এবং সেসব বিষয়ের admission requirements খুটে খুটে পড়ুন।  দেশ অনুযায়ী রিকোয়ারমেন্ট ভিন্ন হয়।  স্কলারশিপের পাতাটা আরো ভাল করে পড়ুন। কী কী স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক স্টুডেন্টদের জন্য আছে দেখে নিন।

জেনারেল রিকোয়ারমেন্টের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- language proficiency test, সেটা যে দেশই সিলেক্ট করেন না কেন।  এটা যে আপনার admission possibility বাড়াবে তাই না, আপনাকে ভিসা পেতেও সাহায্য করবে। 

কারণ admission পেলেও ভিসা কিন্তু আপনি নাও পেতে পারেন, যদি embassy মনে করে যে আপনি আসলে পড়ার জন্য যাচ্ছেন না।  তাই সব দিক দিয়ে আপনার স্ট্রং ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করুন।  ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউকে সর্বত্র IELTS accepted এবং অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ই স্কোর অবশ্যই মিনিমাম 6.5 overall, each band minimum 6 চায়। 

তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় 7.00 overall band score ও চায়।   USA-তে Toefl prefer করে তবে IELTS ও accepted, কিন্তু GRE মাস্ট।  কয়েকজনকে শুনেছি GRE ছাড়াও পড়তে গেছেন, তবে আমি কোথাও এর সঠিক কারণ খুজে পাই নাই।  কারণ প্রতিটি University তেই GRE অন্যতম প্রধাণ একটি রিকোয়ারমেন্ট USA-তে স্টাডির জন্য।

এরপর IELTS/Toefl, GRE ইত্যাদি শেষে আবেদন করা শুরু করুন।  এখানে গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো বিষয় আছে। 

১. সকল একাডেমিক কাগজপত্র রেডি রাখুন রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী।

২. একটা সুন্দর লেখা দ্বার করান আপনার গুণ বর্ণনা করে।  আপনার একাডেমিক গুণ, কাজের অভিজ্ঞতা, কোন লিডারশীপ স্কিল থাকলে সেটা এবং কিভাবে আপনার intending কোর্স আপনাকে জ্ঞানকে, অভিজ্ঞতাকে শক্তিশালী করবে যার মধ্য দিয়ে আপনি ভবিষ্যতে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজেকে দেখতে চান সেটা লিখুন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে।  একজায়গায় শুনেছিলাম একটা ভাল statement of purpose (SOP) এর ক্ষমতা অনেক।  আপনার সকল দুর্বলতাকে সবলতায় পরিণত করতে পারে।  তাই সময় নিয়ে লিখুন।  নিজের ঢোল নিজে পেটানোর এটা হলো সুবর্ণ সুযোগ।  

৩. CV রেডি করুন (অনেক university বা দেশ স্পেশাল ফরম্যাট প্রেফার করে, যেমন- সুইডেন Europass format-এ CV চায়) তাই দেখে নিন কোন ধরণের স্পেশাল রিকোয়ারমেন্ট আছে কিনা! 

৪. রেফারেন্স লেটার।  আপনার দুইজন রেফারেন্স ঠিক করুন।  এদের একজনকে অবশ্যই আপনার একাডেমিক সুপারভাইজার বা শিক্ষক হতে হবে যিনি আপনাকে ভাল করে চেনেন বা আপনাকে রেফারেন্স দিতে রাজি আছেন।  আরেকজন আপনার প্রফেশনাল বা আপনি যদি অন্য কোন শিক্ষকের নাম দিতে চান দিতে পারেন অবশ্যই তাদের অনুমতি সাপেক্ষে।  

এটাই মোটামুটি প্রসেসিংয়ের কঠিন অংশ।  কারণ অধিকাংশ শিক্ষকই কোন এক অজানা কারণে আপনাকে রেফারেন্স দিতে চাইবে না।  বাংলাদেশ এই বিষয়টি বহুল আলোচিত।  এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে লেগে থাকুন। 

অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রেফারেন্স লেটার লিখিত কপি দিতে বলে আর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শুধু রেফারির নাম, ঠিকানা, ডেজিগনেশন ইত্যাদি বিস্তারিত তথ্য দিতে বলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তিতে রেফারীদের সাথে যোগাযোগ করে confidentially।  যদি লিখিত কপি চায় তবে অব্যশই আপনি ড্রাফট কপি লিখে নিয়ে যাবেন 

কারণ আমাদের দেশে স্যারেরা প্রথমত দিতেই চাইবে না, যদি রাজী হয় কিন্তু আপনার জন্য উনি সময় নষ্ট করে লিখতে চাইবেন না।  তাই ড্রাফট করে নিয়ে স্যারদের দেখান এবং এডিট করে অফিসিয়াল লেটারহেড এ সীল এবং যোগাযোগ করার সকল মাধ্যম উল্লেখ করে স্যারের স্বাক্ষর নিবেন।  কারণ যদি আপনার কাংখিত বিশ্ববিদ্যালয় আপনার রেফারিদের সাথে যোগাযোগ করতে চায় তাহলে যেন যোগাযোগ করতে পারে।  

৫. সবকিছু ঠিক থাকলে সব ডকুমেন্ট স্ক্যান করুন আর আপলোড দিন।

৬. অনেক দেশে স্ক্যান সিস্টেম নাই। যেমন- ফিনল্যান্ড, সুইডেন। সেখানে একাডেমিক ফটোকপি আমাদের কন্ট্রোলার থেকে attested করিয়ে তারপর ফরেন মিনিস্ট্রি থেকে attested করিয়ে তারপর DHL/Fedex এ করে পাঠিয়ে দিন।
  
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার যেকোন প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করবেন।  তারা আপনাকে সব ধরণের সাহায্য করার জন্য বসে আছে।  তাই যোগাযোগ করুন।  নেটওয়ার্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ এক্ষেত্রে।  যে প্রশ্নই হোক না কেন জিজ্ঞাসা করুন।  না জানা কোন অন্যায় না কিন্তু জানার চেষ্টা না করাটা অন্যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


এডু কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক নজরে দেখে নিন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 

এক নজরে দেখে নিন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 

মেডিভয়েস ডেস্ক: সারা বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে একযোগে শুরু হয়েছে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর