ডা. আজাদ হাসান

ডা. আজাদ হাসান

সিওমেক , ২১তম ব্যাচ।


০৫ জুন, ২০১৮ ০৯:৩৮ এএম

দায় মুক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন চিকিৎসক গ্রেফতার?

দায় মুক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন চিকিৎসক গ্রেফতার?

‘যদি কোন অসুস্থ রোগীকে ভাল করার উদ্যেশ্যে অপারেশন করা হয়, যার জন্য সেই রোগী বা রোগীর লোক লিখিত বা মৌখিক সম্মতি প্রদান করেছে এবং সেই অপারেশন করতে গিয়ে যদি কোন ক্ষতি বা মৃত্যু হয়, তবে তাকে অপরাধ বা মার্ডার হিসাবে গণ্য করা যাইবে না।’(বাংলাদেশ দন্ডবিধি)

অর্থাৎ যদি কোনো রোগীর চিকিৎসার জন্য রোগীর কিংবা রোগীর অভিভাবকের সম্মতিক্রমে অপারেশন করা হয়, সেক্ষেত্রে অপারেশন পরবর্তি জটিলতার কারণে যদি উক্ত রোগীর অনাকাংখিত মৃত্যু ঘটে, তা হলে পুলিশ কর্তৃক উক্ত চিকিৎসককে গ্রেফতার করা কিংবা রোগীর লোককে দিয়ে হত্যা মামলা করানো কিংবা সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো, এগুলো নিঃসন্দেহে পেনাল কোড ১৮৬০, সেকশন ৮৮, ৮৯ ধারার সুস্পষ্ট লংঘন। 

উক্ত আইন মোতাবেক এক্ষেত্রে কোনভাবেই হত্যা মামলা হতে পারে না। এই আইনে চিকিৎসকদেরকে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততার সাথে নিঃসংকোচ চিত্তে কর্তব্য পালন করার নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে এবং হত্যা মামলার মতো ক্রিমিনাল মামলা হতে ‘দায় মুক্তি’ দেয়া হয়েছে।

অর্থাৎ রোগীর মৃত্যুর কারণে কোন তদন্ত ছাড়াই চিকিৎসা প্রদানকারী ডাক্তারকে গ্রেফতার করার বিধান বাংলাদেশের আইনে নেই। তবে যদি উপযুক্ত তদন্ত বোর্ড কর্তৃক তদন্তের পরে প্রমাণিত হয় যে, উক্ত রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের ভুলের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তাহলে সেটা ‘প্রফেশনাল নেগলিজেন্স’। সেটা বিচারের জন্যও দেশে প্রচলিত আইন বিদ্যমান আছে এবং সে আইন অনুযায়ী বিচারের ব্যবস্থা আছে। 

কিন্তু তা না করে রোগীর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসাবে নথিভুক্ত করা অন্যায়। ইচ্ছে করেই ইনিয়ে বিনিয়ে নানা কাহিনী সংযোজন করে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা অন্যায় এবং দূর্ভাগ্যজনক।

সুতরাং, রংপুরে যারা অন্যায়ভাবে প্রফেসর আব্দুল হাই সাহেবকে গ্রেফতার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে অযোগ্যতার, অদক্ষতার, আইন না জানার বা উদ্দেশ্য মূলক ভাবে আইন না মানার, এমন কি মিথ্যা মামলা দায়ের করার এবং হয়রানী করার অভিযোগ দায়ের করা হউক। এ ধরণের অন্যায় ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

উপরন্তু উল্লেখিত আইন অনুযায়ী পেনাল কোড ১৮৬০, সেকশন ৮৮, ৮৯ ধারা ব্যত্যয় করে ইতিমধ্যে যে সব বেআইনী মামলা করা হয়েছে তা অনতি বিলম্বে প্রত্যহার করা উচিত।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের এই আইন সম্পর্কে অবগত হয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাউকে ট্র্যাপ-এ ফেলে আর্থিক সুবিধা আদায়ের অপকৌশল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত