ডা. কায়সার আনাম

ডা. কায়সার আনাম

মেডিকেল অফিসার

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্স অ্যান্ড হসপিটাল।


২৮ মে, ২০১৮ ০২:৪২ পিএম

রেজিস্ট্যান্স যক্ষ্মার পরিণতি ক্যান্সারের থেকেও ভয়াবহ!

রেজিস্ট্যান্স যক্ষ্মার পরিণতি ক্যান্সারের থেকেও ভয়াবহ!

টিভিতে একটা অ্যাডে দেখায় ডাক্তার রিপোর্ট দেখে রোগীকে বলছেন, আপনার যক্ষ্মা ধরা পড়েছে।
- রোগী আঁতকে উঠে বিস্ফারিত নেত্রে প্রায় ভেঙে পড়ে বলে, যক্ষ্মা! বাঁচুম তো?!
- ডাক্তার মুচকি হেসে অভয় দিয়ে বলে, ভয় পাবেন না! যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই, এই কথার আর ভিত্তি নাই। নিয়মিত চিকিৎসায় যক্ষ্মা ভাল হয়।

কিন্তু এই স্বস্তি আর থাকবে না। ‘এমডিআর টিবি’ আর ‘এক্সডিআর টিবি’ সব হিসাব বদলে দিয়েছে। প্রচলিত যেসব অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে যক্ষ্মার চিকিৎসা করা হয়, সেগুলোর উপরে রেজিস্ট্যান্স হচ্ছে।

এক সময় যক্ষ্মাকে ক্ষয়রোগ বলা হত। ক্যান্সারের মতোই যক্ষ্মা শরীরকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়ে ফেলত। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যেত। ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু ছিল একমাত্র পরিণতি। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমাজ থেকে আলাদা করে দেয়া হত সমাজে মহামারী ঠেকানোর জন্য। এক্সডিআর টিবির প্রকোপ যদি বাড়ে তাহলে সেই দুর্দিন আবার ফিরে আসবে।

বাঁচার উপায় হল, যক্ষ্মা হলে অবশ্যই সম্পূর্ণ কোর্স চিকিৎসা খুব গুরুত্বের সাথে শেষ করা। রেজিস্ট্যান্স যক্ষ্মা পাওয়া গেলে তাদের আলাদা করে বিশেষভাবে চিকিৎসা করা।

আমার ব্যক্তিগত অনুরোধ, সবাইকে কাশির এটিকেট শেখানোটাও খুব জরুরী। ভিড়ের জায়গায় জানা-অজানা কত যক্ষ্মা রোগী মুখের সামনে খোলাখুলি কাশতে থাকে। তাহলে যক্ষ্মা ছড়াবে না কেন?

বাংলাদেশে যক্ষ্মা খুবই কমন। এক্সডিআর যক্ষ্মা যদি সেরকম কমন হতে শুরু করে, তাহলে যক্ষ্মা হলে সত্যিই আর রক্ষা থাকবে না। ক্যান্সারেরও এখন অনেক ভাল চিকিৎসা আছে। রেজিস্ট্যান্স যক্ষ্মার পরিণতি ক্যান্সারের থেকেও ভয়াবহ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত