ডা. এম. ফরহাদ

ডা. এম. ফরহাদ

মেডিসিন ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ


২৮ মে, ২০১৮ ১০:২৩ এএম

কিডনি সমস্যার সাথে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের সম্পর্ক

কিডনি সমস্যার সাথে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের সম্পর্ক

কিডনির বিভিন্ন কাজের মধ্যে প্রধানতম কাজ হচ্ছে শরীরের বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ বের করে দিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখা। কিডনির এ ক্ষমতা জীবন ধারনের জন্য অপরিহার্য। তাই কিডনি বিকল হওয়া মানে কিডনির এই বর্জ্য নিষ্কাশনের ক্ষমতা কমে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া বুঝায়। এই বর্জ্য নিষ্কাশনের ক্ষমতা বা গ্লুমেরুলার ফিল্ট্রেশান রেইট (GFR) নির্ণয়ের জন্য অনেক ধরনের পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে সিরাম ক্রিয়েটিনিন সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয়। এতে খরচও কম। কিন্তু শুধু ক্রিয়েটিনিন দিয়ে GFR সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা করা সব সময় সম্ভব হয় না। 

আসুন জেনে নেই, ক্রিয়েটিনিন কী? কিডনি পরীক্ষা হিসাবে ক্রিয়েটিনিনের অসুবিধা এবং করনীয়। 

বর্জ্য নিষ্কাশন ক্ষমতা মাপার পদ্ধতি:
পদ্ধতি সমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। তা নিম্নরূপ-
১. ডাইরেক্ট বা সরাসরি পরীক্ষা।
২. ইনডাইরেক্ট বা সরাসরি নয় এরকম পরীক্ষা। 

ডাইরেক্ট পদ্ধতি:
এই পদ্ধতিতে এক ধরনের ইনজেকশান, যেমন- ইনুলিন, ইডিটিএ ইত্যাদি দেয়া হয়। তা প্রস্রাব পরীক্ষা করে দেখা হয় শরীর হতে নিষ্কাশন হয় কি না। এই পরীক্ষা শুধুমাত্র কিছু স্পেশাল অবস্থায় করা হয়। যেমন- যিনি জীবিত অবস্থায় কিডনি দান করবেন তার কিডনি ঠিক আছে কি না তা দেখার জন্য করা হয়।

ইনডাইরেক্ট পদ্ধতি:
এই পদ্ধতিতে শরীরে উৎপন্ন কিছু উপাদান যা কিডনি দিয়ে নিষ্কাশন হয় তা পরিমাপ করে GFR পরিমাপ করা হয়। এর মধ্যে সিরাম ক্রিয়েটিনিন অন্যতম।

ক্রিয়েটিনিন কী?
ক্রিয়েটিনিন তৈরি হয় মাংসপেশীতে ক্রিয়েটিন হতে নন-এনজাইমেটিক পদ্ধতিতে। শরীরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমানে ক্রিয়েটিনিন তৈরি হয়। সাধারণত ২০ গ্রাম মাংস হতে ০১ মিলিগ্রাম ক্রিয়েটিনিন তৈরি হয়। ক্রিয়েটিনিনের সবটুকুই কিডনি দিয়ে নিষ্কাশন হয়। সামান্য পরিমান ক্রিয়েটিনিন নেফ্রনের প্রথম টিউবিউল দিয়েও প্রস্রাবে চলে আসে। 

ক্রিয়েটিনিন দিয়ে কিভাবে GFR মাপা হয়?
ক্রিয়েটিনিন দিয়ে GFR মাপা হয় বিভিন্ন ভাবে। যেমন- রক্তের সিরাম অংশের ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা পরিমাপ করে GFR সম্পর্কে ধারণা নেয়া হয়। এছাড়াও এই ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা দিয়ে কয়েকটা সূত্র যেমন- কটক্রফ এন্ড গল ফর্মুলা, এমডিআরডি ফর্মুলা ইত্যাদি দিয়ে ক্যালকুলেশান করে ইস্টিমেটেড GFR (eGFR) নির্ণয় করা হয়। অথবা ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স নামক পরীক্ষা আছে, যাতে ২৪ ঘন্টার প্রস্রাবের ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা, প্রস্রাবের পরিমান ও সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা থেকে GFR নির্ধারণ করা হয়।

সিরাম ক্রিয়েটিনিন দিয়ে GFR নির্ণয়ে অসুবিধা:
১. যেসব দূর-দূরান্তের ল্যাবে সিরাম ক্রিয়েটিনিন মাপার জন্য এখনও ক্যালরিমিটার ব্যবহৃত হয় সেখানে জেফি রিয়েকশানের কারণে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি আসতে পারে। 

২. যার শরীরে মাংস যত বেশি তার শরীরে ক্রিয়েটিনিন ও তৈরি হয় বেশি। সুতরাং একই মাত্রার ক্রিয়েটিনিন সবার ক্ষেত্রে একই মাত্রার কিডনি বিকল বুঝায় না। তেমনি যাদের শরীরে মাংস কম তাদের কিডনি সমস্যার পরও অনেক সময় সিরাম ক্রিয়েটিনিন নরমাল থাকে বা তাদের অল্প ক্রিয়েটিনিন বাড়া মানে অধিক কিডনি বিকল হওয়া।

৩. ক্রিয়েটিনিন কিডনির নেফ্রনের প্রথম টিউবিউল দিয়ে সামান্য পরিমান প্রস্রাবে চলে আসে এবং এটা কিডনি বিকলের একটা নির্দিষ্ট অবস্থা পর্যন্ত বাড়তেই থাকে। সুতরাং সিরাম ক্রিয়েটিনিন একটু বাড়া মানে অনেক পরিমান কিডনি বিকল হওয়া। অর্থাৎ প্রথম দিকে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা একই হারে কিডনি বিকল বুঝায় না।

উপায়?
১. সবসময় ক্রিয়েটিনিনের উপর নির্ভর করে কিডনি ভাল না খারাপ বা কিডনি খারাপের মাত্রা চিন্তা করা অনুচিত।
২. অটোএনালাইজারে সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করলে জেফি রিয়েকশানের ফলে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি দেখানোর সমস্যা হতে মুক্তি পাওয়া যায়।
৩. eGFR মোটামোটি কার্যকরি এবং এটা খুব সহজও বটে। সিরাম ক্রিয়েটিনিন ও রোগীর ওজন নিয়ে অনলাইনে eGFR ক্যালকুলেটারে বসিয়ে দিলে সহজেই বের করা যায়। eGFR নির্ণয়ে ওজনের তারতম্য বা জেন্ডার তারতম্যের কারণে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের যে পার্থক্য হয় তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৪. ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স পরীক্ষা যদিও ২৪ ঘন্টার প্রস্রাব জমা রাখা কষ্টসাধ্য তথাপি এটা বেশি ওজন বা খুব কম ওজনের মানুষেরর GFR দেখার জন্য এখনও খুব দরকারি পরীক্ষা।
৫. রক্তে সিসটাটিন-সি নামক উপাদান নির্ণয় করেও GFR সম্পর্কে ভাল ধারণা পাওয়া যায়।

দাবি পেশাজীবী সংগঠনের, রিট পিটিশন দায়ের

‘বেসরকারি মেডিকেলের ৮২ ভাগের বোনাস ও ৬১ ভাগের বেতন হয়নি’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে