ঢাকা      মঙ্গলবার ১৬, জুলাই ২০১৯ - ১, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম

মনোরোগবিদ্যা বিভাগ,

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল,

শেরেবাংলা নগর, ঢাকা। 


সাইকিয়াট্রটিস্টের জার্নাল

সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে কিছু ভুল বিশ্বাস বা মিথ

যাদেরকে সবাই ‘পাগল’ বলে তিরষ্কার করে,অবজ্ঞা করে,যে একটি রোগের কারনে সাইকিয়াট্রটিস্টেদের ‘পাগলের ডাক্তার’ বলে ব্যঙ্গ করা হয়। এটি হচ্ছে সেই গুরুতর মানসিক ব্যাধি সিজোফ্রেনিয়া।

পৃথিবী বিখ্যাত সিনেমা ‘দ্য বিউটিফুল মাইন্ড’ নির্মিত হয়েছে জগত সেরা বিজ্ঞানী, ‘গেইম থিওরীর’ জনক নোবেল বিজয়ী প্রফেসর জন ন্যাশের জীবনী নিয়ে। ইনি ছিলেন একজন সিজোফ্রেনিয়ার রোগী।

প্রতি বছর ২৪ মে  ‘বিশ্ব সিজোফ্রেনিয়া’ দিবস পালন করা হয়। পাশাপাশি ১৯৮৬ থেকে প্রতিবছর মে মাসে ১টি সপ্তাহে schizophrenia awareness week (SAW) পালন করা হয়।

এ বছর ২০-২৭ মে ‘বিশ্ব সিজোফ্রেনিয়া’ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘করো- যা তুমি করতে পারো।’

সমাজে এই সিজোফ্রেনিয়া রোগ ও রোগীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে কিছু ভুল বিশ্বাস বা মিথ চালু রয়েছে। আজ আমার আলোচনার বিষয় সেই ভুল বিশ্বাস বা মিথগুলো নিয়েই।

মিথ-১: সিজোফ্রেনিয়া রোগীকে সারাজীবন চিকিৎসা নিতে হবে

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের ওষুধ খেয়ে যেতে হবে বলে একটি মিথ চালু রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী দ্বিতীয়বার নতুন করে আক্রান্ত হন না।

এক তৃতীয়াংশ  রোগী  স্বাভাবিক জীবন-যাপন করে থাকেন। আরো এক তৃতীয়াংশ  রোগী  প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

খুব সামান্য সংখ্যক রোগীর তেমন উন্নতি হয় না।

শুধু সেই বিশেষ গ্রুপটিকে আমাদের নজরে পড়ে,রাস্তাঘাটে দেখা যায় ও হাসপাতালে ভর্তি থাকে।

এজন্য মনে হয় সিজোফ্রেনিয়া রোগী ভালো হয় না ও সারাজীবন চিকিৎসা লাগবে।

তাছাড়া বর্তমানে সিজোফ্রেনিয়ার আরো আধুনিক ও কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে ও ভবিষ্যতে আবিষ্কার হবে।

তাই এ ভুল ধারণা পরিহার করে তাদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষন করা বাঞ্চনীয়।

মিথ-২: সিজোফ্রেনিয়া রোগীকে বিয়ে করা যাবে না

যদি বিয়ের পর আপনার বা আপনার পার্টনারের  সিজোফ্রেনিয়া রোগ হয় তাহলে কি তাকে পরিত্যাগ করবেন?

বা পার্টনার যদি আপনাকে পরিত্যাগ করেন আপনার কেমন লাগবে?

তাছাড়া আরো অনেক রোগ রয়েছে যেগুলো এ রোগের চেয়েও জটিল,দীর্ঘ স্থায়ী এবং অক্ষম করে তোলা।আমরা কি তাদের বিয়ে হতে দেখি না?

তাই এই রোগীদের প্রতি বৈষম্য দেখাবেন না। যদি কেউ চিকিৎসার মধ্যে থাকেন, তারা কর্মক্ষম থাকেন, তারাও তখন অন্যদের মতন সুখী জীবনযাপন করতে পারেন।

মিথ-৩: সিজোফ্রেনিয়া রোগীরা ভয়ঙ্কর, আক্রমনাত্মকও আগ্রাসী

এটিও ভুল ধারণা।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক মানুষের মধ্যে যেমন কিছু লোক আগ্রাসী, আক্রমণাত্মক ও অপরাধী হয়,সিজোফ্রেনিয়া রোগীরা এর চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক নয়।

যদিও একুয়েট অবস্থায় এদের কেউ কেউ আক্রমণাত্মক হতে পারে,যা আপনার পরিবারের স্বাভাবিক সদস্য ও কখনো কখনো তেমনটি হতে পারে; বরং মাদকাসক্তরা এ থেকে অনেক বেশি ভয়ংকর আচরণ করে থাকে।

তাই তাদেরকে এরকম লেভেল বা অপবাদ দেওয়া উচিৎ হবে না।

মিথ-৪: এরা কম বুদ্ধি সম্পন্ন / বোকা টাইপের

নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী জন ন্যাশ ছিলেন সিজোফ্রেনিয়া রোগী। সেক্ষেত্রে তার বুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও অবকাশ আছে?

তাই বলা যায় শুধু সিজোফ্রেনিয়া রোগী হওয়ার কারণে অন্যদের চেয়ে বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে কম থাকবে তা নয়।

বুদ্ধি কম হওয়া রোগের নাম ‘ইন্টেলেকচুয়াল ডিসএবিলিটি’।

সিজোফ্রেনিয়ায় কারো বুদ্ধি কমে না,যদিও কিছু কগনিটিভ ফাংশন কমতে পারে।

মিথ-৫: শক থেরাপি ( ইসিটি- ইলেকট্রো কনভালসিভ থেরাপি) ক্ষতিকর

অনেকেই ইলেকট্রিক শক কথাটি শুনলেই আতকে উঠেন- ওরে বাবা শক!।

তারা মনে করেন নাটক সিনেমায় বা পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে যে যন্ত্রনাদায়ক শক থেরাপি দেওয়া হয় এটিও বুঝি সেরকম কিছু।

মূলত ইসিটি চিকিৎসা এন্যাসথেসিয়া দিয়ে করা হয়।এতে ব্যথা পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তেমনি এ চিকিৎসায় বড় ধরনের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

বরং যেসব ক্ষেত্রে ঔষধ সেবন ঝুঁকিপূর্ণ (প্রেগনেন্সী) সে ক্ষেত্রে ইসিটি নিরাপদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর