ডা. ফাহমিদা শিরীন নীলা

ডা. ফাহমিদা শিরীন নীলা

এমবিবিএস, এফসিপিএস (গাইনী)

ফিগো ফেলো (ইতালি)

গাইনী কনসালট্যান্ট, বগুড়া।


২৬ মে, ২০১৮ ০৩:১৪ পিএম

আমরা কি পারি না মায়ের স্বপ্নটা ফিরিয়ে দিতে?

আমরা কি পারি না মায়ের স্বপ্নটা ফিরিয়ে দিতে?

আমি এমবিবিএস পাশ করার পর যেদিন প্রথম স্টেথোস্কোপ কিনলাম, আম্মা আমাকে বললেন, 'দেখি তো মা, এটা গলায় ঝুলিয়ে তোকে কেমন দেখায়? আমার ছোট্ট মেয়েটা এইতো সেদিন কৌটার মুখের সাথে সুতা বেঁধে ডাক্তার ডাক্তার খেলতো, এখন সত্যি সত্যি ডাক্তার হয়ে দেখিতো কেমন লাগে?'

সেদিন কেন যেন আনন্দে টইটুম্বুর হয়ে ছিলাম, চোখে পানি আসেনি। অথচ আমার মায়ের কন্ঠে ছিল আবেগ, চোখে ছিল হাজার ত্যাগ-তিতিক্ষাকে পেছনে ফেলে স্বপ্ন জয়ের আনন্দ। আমার মায়ের সেদিনের সবটুকু আবেগ আমাকে ছুঁতে পারেনি, যতোটা পারে আজ, যখন আমিই একজন মা।

আর মাত্র কয়েকটা মাস। গাইনী, মেডিসিন ওয়ার্ড শেষ, সার্জারী ওয়ার্ডটা শেষ হলেই ফাইনালে বসবে মেয়েটা, তারপর নতুন বছরে নতুন ডাক্তার হয়ে বের হবে সে। মায়ের স্বপ্নপূরেণের আর এইতো দুটো ধাপ বাকী। ভিকারুন্নেসার সামনে কেটে যাওয়া অলস সকালগুলো, কোচিং আর টিচারদের গলিতে হারিয়ে যাওয়া মিষ্টি বিকেলগুলো, গালে হাত দিয়ে মেয়ের টেবিলের পাশে ঝিমানো নির্ঘুম রাতগুলো স্মৃতিপটে ম্লান হয়ে যাবে। 

নিজের সব শখ-আহ্লাদ পাশ কাটিয়ে, সবটুকু সঞ্চয় দিয়ে মেয়েটাকে প্রাইভেট মেডিকেলে পড়ানোর ত্যাগটুকু হারিয়ে যাবে কালের গহবরে। আর তো মাত্র ক'টা মাস। তারপর মেয়ের নামের সামনে যোগ হবে একটা সম্মান, ডা. জারিন তাসনিম রাফা, মায়ের চোখে চিকচিক করে উঠে স্বপ্ন।

কিন্তু একি? মেয়ের দুরূহপাঠ্য বই আর স্টেথোস্কোপের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো দানবটা কে? হাহাকার করে উঠে মা। মাত্র ক'দিনের জ্বরে রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে লিউকেমিয়া। মায়ের স্বপ্নময় চোখের জল বাঁধহীন ক্ষীপ্রতায় খুঁজে ফেরে একটু আশা।

রমজান, পূণ্যের মাস, ত্যাগ-তিতিক্ষার মাস। আমরা এই যে এত এত মা সন্তানের জন্য প্রতিদিন শত-হাজার স্বপ্ন বুনছি, মায়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য এই যে হাজার হাজার সন্তান দিনরাত এক করে ফেলছি, পারিনা কি একটা মায়ের এত বছরের সাধনার মূল্য দিতে? 

আমাদের শপিংয়ের কিঞ্চিৎ কৃচ্ছ্রসাধন করে, আমাদের দানের কিয়দংশ দিয়ে, আমাদের প্রার্থনার একটা মিনিট খরচ করে আমরা কি পারিনা এক দুঃখিনী মায়ের হারানো প্রায় স্বপ্নটা ফিরিয়ে দিতে?

আমি জানি, আমরা পারি, আমরা পারব। তবু ভয় হয়, মা তো! তাই আমাদের এক সম্ভাবনাময় সন্তানের জন্য এক স্বপ্নময় মায়ের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন করছি, আপনারা আপনাদের ভালবাসার হাতটা একটু বাড়িয়ে দিন। আপনাদের দেয়া বিন্দু বিন্দু ভালবাসায় সিক্ত হয়ে হয়তো এক মা ফিরে পাবেন তার আজীবনের আকাঙ্ক্ষিত ভালবাসার ধন, তার জীবনভর বুনন করা স্বপ্ন। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না